বিএআরআই’র কর্মকর্তাদের পদায়নে ৫ কোটি টাকার অবৈধ লেনদেনের অনুসন্ধানে দুদক

image

মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়াই বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএআরআই) সাড়ে ৩শ’ বৈজ্ঞানিক সহকারীর গ্রেড-পদায়নে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ অনুসন্ধানে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ১১তম গ্রেডে চাকরি করা সাড়ে ৩শ’ বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তাকে ১০ম গ্রেডে উন্নীত করতে ৫ কোটি টাকার অবৈধ লেনদেনের তথ্য পেয়ে এ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় দুদক। দুদকের সহকারী পরিচালক সাইদুজ্জামানকে অনুসন্ধান কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে কমিশন। ইতোমধ্যে অনুসন্ধান কর্মকর্তা অভিযোগসংশ্লিষ্ট বিষয়ে অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে এ সংক্রান্ত নথিপত্র তলব করে সংশ্লিষ্ট দফতরে চিঠি পাঠিয়েছে। আগামী ৯ সেপ্টেম্বর নথিপত্র দুদকের কার্যালয়ে পাঠানোর জন্য বিএআরআইয়ের মহাপরিচালককে চিঠিতে অনুরোধ জানিয়েছে দুদক।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের ৩৫০ বৈজ্ঞানিক সহকারী পদ ১০ম গ্রেডের (দ্বিতীয় শ্রেণী) কর্মকর্তা না হওয়া সত্ত্বেও মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়া অবৈধভাবে দফতরাদেশ জারি করে বেতন-ভাতা উত্তোলন করায় সরকারের ১০ কোটি টাকা আত্মসাৎ হয়েছে। এজন্য যাদের দায়ী করা হয়েছে তারা হলেন- বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) মাহমুদুল হাসান, সহকারী পরিচালক (অডিট) মো. ইউনুস আলী, উপ-পরিচালক (অর্থ ও হিসাব) মো. শাহ্ আলম মৃধা, বৈজ্ঞানিক সহকারীদের নেতা ফকির মো. বেলায়েত হোসেন। অভিযোগে বলা হয়, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের বৈজ্ঞানিক সহকারীদের নেতা ফকির মো. বেলায়েত হোসেন ৩৫০ বৈজ্ঞানিক সহকারীর কাছ থেকে ৫ কোটি টাকা চাঁদা আদায় করে প্রতিষ্ঠানটির মহাপরিচালককে অবৈধভাবে ম্যানেজ করে বৈজ্ঞানিক সহকারীদের ১১তম গ্রেডের পদ থেকে ১০ম গ্রেডের কর্মকর্তা বানানোর অবৈধ দফতরাদেশ করাতে সবচেয়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। এভাবে আরও অনেক বিধিবহির্ভূত কাজ করে ফকির বেলায়েত হোসেন বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছেন। তার সম্পদের মধ্যে রয়েছে, জয়দেবপুরের ছায়াবিথীতে ছয়তলা বাড়ি, প্রাইভেট কার, ইসলামী ব্যাংকের জয়দেবপুর শাখায় প্রায় এক কোটি টাকা, গাজীপুরের সালনা মৌজায় ২০ কাঠা জমি এবং গ্রামের বাড়িতে স্ত্রীর নামে কেনা ৫ একর জমি।

সূত্র আরও জানায়, ২০১৩ সালে সাবেক মহাপরিচালক ড. মো. রফিকুল ইসলাম মন্ডল ও তার আত্মীয় উপ-পরিচালক (প্রশাসন) মো. মোস্তাফিজুর রহমান ও সিনিয়র সহকারী পরিচালক মিজানুর রহমান সংঘবদ্ধ হয়ে কোন লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা ছাড়াই প্রত্যেকের কাছ থেকে ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকা ঘুষ নিয়ে ৪৫-৫০ জন বৈজ্ঞানিক সহকারী নিয়োগ করেন। যা বিভাগীয় তদন্ত কমিটির তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনে ৪২ জনের নামে পৃথক অভিযোগপত্র তৈরি করার সুপারিশ ছিল যার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।