বিমানের সাবেক এমডি মুসাদ্দিকে দুদকে জিজ্ঞাসাবাদ

image

বিমানের পাইলট নিয়োগ, কেনাকাটাসহ বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগে বিমান বাংলাদেশ এয়ার লাইন্সের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আবুল মুনীম মুসাদ্দিক আহমেদকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) । মঙ্গলবার (৩০ জুলাই) সকাল ১০টা থেকে সোয়া ১২টা পর্যন্ত অনুসন্ধন কর্মকর্তা দুদকের সহকারী পরিচালক সাইফুল ইসলাম তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এদিকে জিজ্ঞাসাবাদে আবুল মুনীম মুসাদ্দিক আহমেদ নিজেকে নিরাপরাধ দাবি করেছেন। পরে তিনি সাংবাদিকদের কাছে বলেন, ‘ডেফিনেটলি আমি কোনো অপরাধ করিনি’।

এর আগে সোমবার (২৯ জুলাই) বিমানের ভারপ্রাপ্ত এমডি ক্যাপটেন ফারহাত হাসান জামিলসহ পাঁচজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে দুদক। বাকিরা হলেন- বিমানের চিফ ফাইন্যান্সিয়াল অফিসার বিনীত সুধ, পরিচালক (প্ল্যাানিং) মাহবুব জামান খান, চিফ অব ট্রেনিং ক্যাপ্টেন ফজল মাহমুদ ও পরিচালক (মার্কেটিং অ্যান্ড সেলস) মো. আশরাফুল আলম। একই অভিযোগে রোববার (২৮ জুলাই) বিমানের পরিচালক (প্রশাসন) পার্থ কুমার পন্ডিত, পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড মেটেরিয়াল ম্যানেজমেন্ট) সাজ্জাদুর রহিম, পরিচালক (কাস্টম সার্ভিস) মুমিনুল ইসলাম ও জিএম (প্রশাসন) বুশরা ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তাদেরকে গত ২৩ জুলাই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করে দুদক। এর আগে গত ২ মে বিমানের সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুসাদ্দিক আহমেদসহ ১০ জনের বিদেশ গমনে নিষেষাজ্ঞা আরোপ করে দুদক।

অভিযোগ রয়েছে, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে কর্মরত থেকে ক্ষমতার অপব্যবহার, বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে ঘুষ নিয়ে ক্যাডেট পাইলট নিয়োগসহ অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

বিমানের সাবেক এমডি মুসাদ্দিক আহমেদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে দুদক সচিব বলেন, ‘দুদক নিরপরাধ কাউকে গ্রেফতার করে না। দুদক তদন্তের স্বার্থে যখন যাকে প্রয়োজন মনে করে তখন তাকে তলব করে। অনুসন্ধান শেষে জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা করে।

উল্লেখ চলতি বছর দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ করে এবং তা রাষ্ট্রপতির কাছে জমা দেয়। সেখানে বিভিন্ন সরকারী দপ্তর, প্রতিষ্ঠানের দুর্নীতির উৎস এবং তা প্রতিরোধে সুপারিশ ছিলো। যা দুদক গত বছর সরেজমিনে অনুসন্ধান করে বের করেছিলো। এর মধ্যে বিমানের দুর্নীতি ছিলো সবচেয়ে বেশি ভয়াবহ। বিমানের বিভিন্ন ক্ষেত্রে কিভাবে দুর্নীতি হয় তা অনুসন্ধানের মাধ্যমে তুলে ধরেছিলো দুদক। এর পর সেই প্রতিবেদন সংশ্লিস্ট মহলে জমা দেয় দুদক। দুদকের প্রতিবেদনের পর বিমান কর্তৃপক্ষ নড়েচরে বসে। পরে দুর্নীতির অভিযোগে সাবেক পরিচালক আবুল মুনিম মোসাদ্দেককে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এরপর বিমানের অর্ধ শতাধিক পদস্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জণ, ;দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারসহ নানা অভিযোগে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক।