মা ইলিশের লালসায় নদীতে লুঙ্গি পড়া জেলের সাজে আটক চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয় নি প্রশাসন

image

সরকারি নিষেধাজ্ঞার মধ্যে পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলা চেয়ারম্যান আবু সাঈদ মনু মিয়ার বিরুদ্ধে নদীতে মা ইলিশ শিকার করার অভিযোগ উঠেছে। গত ১৮ অক্টোবর মাছ ধরা অবস্থায় ট্রলারসহ তাকে পাওয়া যায় সন্ধা নদীতে। ওই সময় তিনি জেলে বেশে লোকজন নিয়ে একটি ট্রলারে অবস্থান করছিলেন। পরে প্রশাসন তার ট্রলার থেকে জাল জব্দ করে আগুনে পুড়িয়ে দিলেও আবু সাঈদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়নি। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা গুঞ্জণ তৈরি হয়েছে। মাছ ধরা অবস্থায় উপজেলা চেয়ারম্যানকে আটক করা হলেও তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেয়ায় নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। জেলে বেশে জাল ও ট্রলারসহ একটি ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

স্থানীয়ভাবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ১৭ অক্টোবর দিনগত গভীর রাতে পিরোজপুরের সন্ধা নদীতে মা ইলিশ শিকারীদের ধরতে অভিযানে নামে পুলিশ। জেলা পুলিশ সুপার হায়াতুল ইসলাম খান ওই অভিযানের নেতৃত্বে ছিলেন। অভিযানে ছিলেন জেলা মৎস কর্মকর্তা মোশররফ হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন। জেলা পুলিশ সুপার ও মৎস কর্মকর্তার সম্বনয়ে থাকা টিম ট্রলার নিয়ে নদীতে অভিযানে ব্যস্ত ছিলেন। এ সময় তারা বেশ কয়েকটি জেলে নৌকা ও জেলেকে আটক করেন অবৈধভাবে মা ইলিশ শিকার করার অভিযোগে। অভিযানের এক পর্যায়ে নদীতে একটি ট্রলার আটক করেন। ওই ট্রলারে অভিযান শুরু করার মুহূর্তে কাউখালী উপজেলা চেয়ারম্যান আবু সাঈদ মনু মিয়াকে লুঙ্গি পড়া এবং কোমড়ে গামছা পেচানো অবস্থায় একটি সাদা রঙয়ের গেঞ্জি পরিহিত অবস্থায় দেখতে পাওয়া যায়। উপজেলা চেয়ারম্যান ওই পোশাকে দেখে প্রশাসনের লোকজন প্রথমে জেলে মনে করলেও পরে দেখেন তিনি উপজেলা চেয়ারম্যান আবু সাঈদ মনু মিয়া। তাকে জিজ্ঞেস করা হয় তিনি নদীতে কেন। প্রশাসনের এমন প্রশ্নের জবাবে মনু মিয়া দাবি করেন তিনি অবৈধভাবে মৎস শিকারীদের বিরুদ্ধে অভিযানে এসেছেন। তখন বলা হয় অভিযানের দায়িত্বে তো প্রশাসন রয়েছে। এছাড়া তিনি যে অভিযানে এসেছেন এ বিষয়ে প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলেছেন কিনা। জবাবে তিনি বলেন, উপজেলা মৎস কর্মকর্তার নাম্বার বন্ধ থাকায় তার সঙ্গে কথা হয়নি। ঘটনার পুরো ভিডিও সামাজি যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়ে। এর পর থেকে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, উপজেলা চেয়াম্যান মনু মিয়া অভিযান শুরুর পর থেকে এভাবে বিভিন্ন সময়ে নদীতে মা ইলিশ শিকারীদের বিরুদ্ধে অভিযানের কথা বলে তিনি নিজেই ইলিশ শিকার করতেন। এর পূর্বেও তিনি লোকজন নিয়ে মাছ শিকার করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।