মোস্তফা গ্রুপের চেয়ারম্যানসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা

image

ভূয়া এলসি খুলে বিডিবিএল থেকে ১৭৪ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে জালিয়াতকারী প্রতিষ্ঠান মোস্তফা গ্রুপের চেয়ারম্যান হেফাজেতুর রহমানসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুদক। সোমবার (২ সেপ্টেম্বর) দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা প্রধান কার্যালয়-১ এ সহকারী পরিচালক গুলশান আনোয়ার প্রধান বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলার অন্য আসামিরা হলেন মোস্তফা গ্রুপের প্রতিষ্ঠান এম এম ভেজিটেবল অয়েল প্রোডাক্টস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জহির উদ্দিন, পরিচালক কফিল উদ্দিন, শফিক উদ্দিন, লুসিডা ট্রেডিংয়ের মালিক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন চৌধুরী, মেসার্স গ্লোব ইন্টারন্যাশনালের মালিক মো. মাহবুবুল আলম, বিডিবিএল প্রিন্সিপাল শাখার সাবেক জেনারেল ম্যানেজার সৈয়দ নুরুর রহমান কাদরী ও সাবেক সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার (এসপিও) দীনেশ চন্দ্র সাহা।

এর আগেও মোস্তফা গ্রুপের ৩১ টি প্রতিষ্ঠানের নামে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা ঋন নিয়ে আত্মসাত করার অভিযোগ রয়েছে। গত জুন মাসে ঋন খেলাপীর মামলায় গ্রেফতারও হন প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান হেফাজেতুর রহমান। একই প্রতিষ্ঠানের নামে এর পূর্বে ৫শ কোটি টাকারও বেশি ঋন নিয়ে তা আত্মসাত করার অভিযোগ রয়েছে।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, মোস্তফা গ্রুপের প্রতিষ্ঠান এম,এম ভেজিটেবল ওয়েল প্রোডাক্টস লি:চট্রগ্রামের ভাটিয়ারীতে স্থাপিত একটি সয়াবিন অয়েল এবং পাম অয়েল রিফাইনারী প্ল্যান্ট প্রকল্প। এম. এম ভেজিটেবল অয়েল প্রোডাক্টস সাইট এলসি দেয় মের্সাস গ্লোব ইন্টারন্যাশনাল ও লুসিডা ট্রেডিং নামীয় কাগুজে প্রতিষ্ঠানকে। মের্সাস গ্লোব ইন্টারন্যাশনাল ও লুসিডা ট্রেডিং নামে বাস্তবে কোন প্রতিষ্ঠান নেই। ২০১২ সালের ২১ জুন মের্সাস গ্লোব ইন্টারন্যাশনালের নামে এলসি খুলে ৫৪ কোটি ৩১ লাখ ৮৮ হাজার ১শ টাকা মূলের টাকা ও লুসিডা ট্রেডিং নামে ২৫ কোটি ২৩ লাখ ১৯ হাজার ৩শ২০ টাকা মূল্যের দুটি এলসি এম. এম ভেজিটেবল অয়েল প্রোডাক্টস থেকে পায় মর্মে রেকর্ডপত্রে দেখানো হয়েছে। মের্সাস গ্লোব ইন্টারন্যাশনাল, লুসিডা ট্রেডিং বেনিফিসিয়ারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে এম. এম ভেজিটেবল অয়েল প্রোডাক্টসকে ওই এলসির শর্ত অনুসারে মালামাল দিয়েছে মর্মে বেনিফিসিয়ারী প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক বাংলাদেশ ডেভেলমেন্ট ব্যাংককে জানান। বাংলাদেশ ডেভেলমেন্ট ব্যাংককের প্রিন্সিপাল শাখার কর্মকর্তারা এম এম ভেজিটেবল অয়েল প্রোডাক্টস লি: ওই বেনিফিয়ারী প্রতিষ্ঠান থেকে মালামাল বুঝে পেয়েছে কিনা তা নিশ্চিত না হয়েই শুধু বেনিফিসিয়ারীর ব্যাংক থেকে পাঠানো ডকুমেন্টস এর উপর ভিত্তি করেই একসেপটেন্স দিয়ে দেয়।

ভূয়া রেকর্ডপত্রাদি সৃজন করে মালামাল প্রদান এবং গ্রহণ দেখিয়ে বিডিবিএল থেকে টাকা ট্রাস্ট ব্যাংক ও ঢাকা ব্যাংকে স্থানান্তর করে ও তা উত্তোলন করে স্থানান্তর ও রুপান্তরের মাধ্যমে আতœসাত করা হয়েছে।

মোস্তফা গ্রুপের চেয়ারম্যান হেফাজুতুর রহমানসহ তার পরিবারের আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে আদালতে মোট ৩৭টি পরোয়ানা রয়েছে।

সূত্র জানায়, পারিবারিকভাবে বনেদী ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত মোস্তফা গ্রুপের চেয়ারম্যান হেফাজেতুর রহমান। তেল উৎপাদন, ভোগ্যপন্য আমদানী, টান্সপোর্ট ও চা বাগানের ব্যবসাসহ একাধিক ব্যবসা রয়েছে মোস্তফা গ্রুপের। চট্টগ্রামের লোহাগোরা থানার বাসিন্দা মোস্তফা গ্রুপের চেয়ারম্যান হেফাজেতুর রহমান। তিনি ছাড়াও তার ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠানগুলো ছেলেমেয়েসহ বিভিন্ন আত্মীয় স্বজনদের মাধ্যমে পরিচালনা করেন। বড় ব্যবসায়ী হওয়ার সুবাধে তিনি বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ঋন হাজার কোটি টাকারও উপরে। এসব ঋন নিয়ে পুরো টাকাই আত্মাসত করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি খেলাপি হলেও ব্যাংকগুলো তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়নি।