সেল্টারের বিনিময়ে জুয়ার টাকা ভক্ষণকারী নেতাদের নাম বিস্ফোরিত হতে যাচ্ছে!

image

অস্ত্র ও মাদকের মামলায় রিমান্ড হেফাজতে থাকা যুবলীগ দক্ষিনের বহিস্কৃত সভাপতি মাফিয়া ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট ও তার ঘনিস্ট সহযোগী যুবলীগের বহিস্কৃত সহ সভাপতি আরমানকে মুখোমুখি করা হচ্ছে। ক্যাসিনোর অর্থ ভাগাভাগি, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজিসহ অপরাধ জগত নিয়ন্ত্রনের মাধ্যমে শত শত কোটি টাকার মালিক হওয়া এসব অর্থ বিদেশে পাচারসহ বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য এ সম্রাট ও আরমানকে মুখোমুখি করা হচ্ছে। মুখোমুখির মাধ্যমে ক্যাসিনো কেলেঙ্কারীতে আওয়ামীলীগ–যুবলীগের কোন কোন নেতা কিভাবে জড়িত ছিলেন, কাদের সেল্টারে ক্যাসিনো চলতো এসব বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। ইতোমধ্যে যুবলীগের এ আলোচিত নেতাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডিবি কার্যালয় থেকে র‌্যাব-১-এর কার্যালয়ে নেয়া হয়েছে। ১৭ অক্টোবর বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টার দিকে তাকে র‌্যাব-১-এর কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই আরমান এবং সম্রাটকে মুখোমুখি করা হচ্ছে। এর আগে ডিবি হেফাজতে থাকা অবস্থায় সম্রাট ও আরমান বেশ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে। সেখানে ক্যাসিনো কেলেঙ্কারীর সঙ্গে কোন কোন নেতা জড়িত ছিলেন, কারা কত টাকা ভাগ নিয়েছেন বিস্তারিত বলেছেন সম্রাট ও আরমান।

র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের সিনিয়র সহকারী পরিচালক মিজানুর রহমান ভূঁঞা জানান, সম্রাটের বিরুদ্ধে রমনা থানায় অস্ত্র ও মাদক আইনে দায়ের করা দুটি মামলার তদন্তভার পেয়েছে র‌্যাব-১। বুধবার (১৬ অক্টোবর) রাতে মামলা দুটি তদন্ত করার আদেশ পাওয়া গেছে। এর আগে মামলা দুটি ডিবির কাছে ছিলো। সেখানে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। ডিবির কাছে দেয়া তথ্য র‌্যাব তদন্ত করবে। মামলা দুটি তদন্তের আদেশ পাওয়ার পর ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটকে ডিবি কার্যালয় থেকে র‌্যাব-১ এর কার্যালয়ে আনা হয়েছে।

ডিবির উর্ধ্বতন পর্যায়ের কর্মকর্তারা জানান ডিবি হেফাজতে থাকা অবস্থায় সম্রাট ডিবিকে বলেছেন, ক্যাসিনোর টাকার ভাগ তো অনেক নেতাই পেয়েছেন। সবাইকে ক্যাসিনো থেকে আসা টাকার ভাগ পৌছে দেয়া হতো। তিনি একা ক্যাসিনোর টাকা নেননি। তাহলে তাকেই একা দায়ী করে কেন গ্রেফতার করা হলো। অণ্য নেতাসহ যারা ক্যাসিনোর টাকা নিয়েছেন তারা কেন গ্রেফতার হবেন না।রিমান্ড মঞ্জুরের পর সম্রাট ও তার সহযোগী এনামুল হক আরমানকে প্রথমে ডিবি হেফাজতে রাখা রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তার কাছে জানতে চাওয়া হয়- ক্যাসিনো বাণিজ্য, অবৈধ মার্কেট, দোকান, ফুটপাত, মাদক ব্যবসার কমিশনসহ বিভিন্ন খাত থেকে উপার্জিত টাকা কোথায় রাখা হয়েছে? দল ও দলের বাইরে আড়ালে থেকে এসব অপকর্মে কারা সহযোগিতা করতেন? কাকরাইলে ভূঁইয়া ম্যানশন দখল এবং সেখানে কারা যাওয়া-আসা করতেন, ক্যাসিনো ও টেন্ডার সিন্ডিকেটে কারা রয়েছেন- এসব বিষয়েও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। কিন্তু ডিবির অনেক প্রশ্নের জবাব দেননি সম্রাট।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি সূত্র জানায়, যুবলীগের একজন কেন্দ্রীয় নেতা ক্যাসিনো থেকে মাসে ১০ লাখ টাকা নিতেন। তাকে ওই টাকা পৌছে দেওয়া হতো লোক মারফত। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অনেক সদস্য ও পদস্থ সরকারি কর্মকর্তারাও তার কাছ থেকে নিয়মিত টাকা নিতেন।ক্যাসিনো, মাদক, অবৈধ মার্কেট-দোকান থেকে মাসে সম্রাটের একশ’ কোটি টাকার বেশি আদায় হতো। ভাগবাটোয়ারা শেষেও সিংহভাগ টাকা সম্রাটের ভাগে রাখা হতো।বিভিন্ন দেশে টাকা পাচার করেছেন সম্রাট। এছাড়া সিঙ্গাপুরে ক্যাসিনো খেলে এ পর্যন্ত কয়েক শ কোটি টাকা খুইয়েছেন। এক ঘন্টায় সম্রাট ৫০ কোটি টাকা খুইয়েছেন। ওই খেলায় তার সঙ্গে একজন সংসদ সদস্যও ছিলেন।

সূত্র জানায়, উপাজির্ত অর্থ দলের প্রয়োজনে ব্যবহার করতেন বলে জানান সম্রাট। তিনি সুবিধাভোগী একাধিক সংসদ সদস্য, রাজনৈতিক নেতা ও সরকারি কর্মকর্তাদের সম্পর্কে তথ্য দিয়েছেন। তার সহযোগী যুবলীগের সহ সভাপতি আরমানকে দিয়ে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে বিনিয়োগ করেছিলেন সম্রাট। রাজনৈতিক বড় ভাইদের সৌজন্যে প্রয়ই বিভিন্ন পার্টি আয়োজন করা হতো। এসব পার্টিতে নায়িকা মডেলদের আমন্ত্রণ করতেন আরমান। পার্টিতে সংসদ সদস্য, মন্ত্রীসহ প্রভাবশালী নেতারা উপস্থিত থাকতেন। আরমান নিজেও সিনেমা তৈরি ও পরিচালনায় যুক্ত হন সম্রাটের পরামর্শেই। কালো টাকা সাদা করার জন্য এই ব্যবসাকে সুবিধাজনক মনে হতো সম্রাটের। ক্যাসিনোর প্রতি সম্রাটের বরাবার দূর্বলাতা ছিলো। ক্যাসিনো খেলার জন্য তিনি প্রায়ই সিঙ্গপুর যেতেন। সেখানে তাকে ভিআইপি জুয়ারি হিসেবে চেনে সবাই। সিঙ্গপুর গিয়ে প্রতি খেলায় তিনি হারতেন। মূলত সেখান থেকেই বাংলাদেশে ক্যাসিনো ব্যবসা চালু করার চিন্তা আসে সম্রাটের। ভিক্টোরিয়া ক্লাবের সহ সভাপতি হওয়ার সুবাধে প্রথমে ওই ক্লাবে ক্যাসিনো খেলা শুরু করে সম্রাট। এরপর ক্যাসিনো খেলার চাহিদা বাড়তে শুরু করলে ধীরে ধীরে তার সহযোগী খালেদ মাহমুদ ভুইয়ার মাধ্যমে ফকিরাপুল ইয়ং মেন্স ক্লাব, মুক্তিযোদ্ধা ক্রিড়া চক্র, মোহামেডান ক্লাবসহ পুরো ঢাকায় ক্যাসিনো ছড়িয়ে পড়ে। সম্রাটের আর্শিবাদ নিয়ে সব ক্লাবে ক্যাসিনো শুরু হলে সেখান থেকে সম্রাটের ভাগ আসতো। এর বিনিময়ে সব ধরনের সেল্টার দিতেন সম্রাট। বিশেষ করে এসব ক্লাবে অবৈধ ক্যাসিনো বন্ধে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী অভিযানের উদ্যোগ নিলে তাদের নানাভাবে বাধা দেওয়া শুরু হয়। হাইকোর্টের মাধ্যমে রিট করে এ খেলাকে বৈধ খেলা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করা হয়। মন্ত্রীদের দিয়েও পুলিশের উর্ধ্বতন পর্যায়ে ফোন করে অভিযান বন্ধ করা হয়। ফলে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী ক্লাবগুলোতে কি চলছে সে সম্পর্কে কোন তদন্ত করতে পারেননি।

র‌্যাব সূত্র জানিয়েছে, অভিযানের সময় সম্রাটের কাকরাইলের কার্যালয়ে টাকা লেনদেন সংক্রান্ত একটা নথি পাওয়া যায়। তবে টাকা কোথায় রাখতেন, এর প্রমাণ মেলেনি। স¤্রটকে র‌্যাব হেফাজতে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

উল্লেখ ১৪ সেপ্টেম্বর আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির এক সভায় চাঁদা দাবির অভিযোগে ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও গোলাম রাব্বানীকে অপসারণের নির্দেশ দেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পাশাপাশি যুবলীগ নেতাদের বিষয়েও চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। এর পর গণমাধ্যমে যুবলীগ নেতাদের নিয়ন্ত্রনে ঢাকার ৬০টি জায়গায় ক্যাসিনো পরিচালনার খবর প্রকাশ হয়। ১৮ নভেম্বর ফকিরাপুলের ইয়াংমেনস, ওয়ান্ডারার্স এবং গুলিস্তানে মুক্তিযোদ্ধা ক্রীড়া সংসদে অভিযান চালিয়ে ক্যাসিনোর সরঞ্জাম, বিপুল পরিমাণ মদ ও ৪০ লাখের বেশি টাকা উদ্ধার করে র‌্যাব। ক্যাসিনো পরিচালনার অভিযোগে ওই দিনই যুবলীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াকে গ্রেফতার করা হয়। পাশের ওয়ান্ডারার্স ক্লাব থেকেও জুয়ার সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। ওই ক্লাব পরিচালনার নেতৃত্বে ছিলেন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোল্লা মো. আবু কাওসার। এর পর ধানমন্ডির কলাবাগান ক্রীড়াচক্রে অভিযান চালিয়েও ক্যাসিনো সামগ্রী অস্ত্র-গুলি ও ইয়াবাসহ গ্রেফতার করা হয় ক্লাবের সভাপতি কৃষক লীগের সহসভাপতি শফিকুল আলম ফিরোজকে। যুবলীগ নেতা পরিচয় দিয়ে ঠিকাদারি করা গোলাম কিবরিয়া শামীম ওরফে জিকে শামীম,মোহামেডান ক্লাবের ডিরেক্টর ইনচার্জ ও বিসিবির পরিচালক লোকমান ভূঁইয়াকে, অনলাইন ক্যাসিনো নিয়ণÍ্রক সেলিম প্রধান এবং সর্বশেষ গ্রেফতার করা হয় সম্রাট ও আরমানকে।

আমানত হিসেবে রাখা ইয়াবা সেবন করে ফেলায় বন্ধুকে হত্যা

image

নুসরাত হত্যাকাণ্ডে কোন আসামির কি কাণ্ড ছিলো!

image

হত্যা মামলায় ৭ দিনের রিমান্ডে ক্যাসিনো খালেদ

image

স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি : আবরার পানি চেয়েছে দেওয়া হয়নি, হাসপাতালে নেওয়ার কথা বলা হয়েছে কিন্তু নেয়নি বড় ভাইয়ারা

image

মা ইলিশের লালসায় নদীতে লুঙ্গি পড়া জেলের সাজে আটক চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয় নি প্রশাসন

image

অবৈধ সম্পদ অর্জন ও ভোগদখলের অভিযোগে খালেদ-শামীমের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

image

টং এর দোকানদার টু ঢং এর কাউন্সিলর ভায়া কোন এক সাবেক প্রতিমন্ত্রী

image

স্পর্শ ছাড়াই ঘুষের টাকা স্ত্রীর কাছে পৌঁছে যেতো

image

তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারীর বিরুদ্ধে দেশে বিদেশে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ

image