হাজী সেলিমের গাড়িচালক আদালতে, ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন

image

নৌবাহিনীর কর্মকর্তাকে মারধরের ঘটনায় পুরান ঢাকার সংসদ সদস্য হাজী সেলিমের গাড়িচালক মিজানুর রহমানকে আদালতে হাজির করা হয়েছে। একইসঙ্গে তার পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুর ২টার পর ধানমন্ডি থানার মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা সুষ্ঠু তদন্তের প্রয়োজনে আদালতে হাজির করে মিজানুর রহমানের পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আবু সুফিয়ান মোহাম্মদ নোমান শুনানি শেষে এ ব্যাপারে আদেশ দেবেন। আদালতের সংশ্লিষ্ট সূত্র এসব তথ্য জানান।

এর আগে হাজী সেলিমের ছেলে ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে ধানমন্ডি থানায় হত্যাচেষ্টার মামলা হয়েছে। সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকালে ধানমন্ডি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কামরুন্নাহার এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, ‘নৌবাহিনীর লেফটেন্যান্ট ওয়াসিফ আহমদ খান বাদী হয়ে সোমবার ভোরে মামলাটি করেছেন। মামলায় তিন জন নামীয় এবং অজ্ঞাত আরও দুই-তিন জনকে আসামি করা হয়েছে।’

আসামিরা হলেন এরফান সেলিম, তার বডিগার্ড মোহাম্মদ জাহিদ, হাজি সেলিমের মদিনা গ্রুপের প্রটোকল অফিসার এবি সিদ্দিক দিপু এবং গাড়িচালক মিজানুর রহমানসহ অজ্ঞাত আরও ২-৩ জন।

রবিবার (২৫ অক্টোবর) রাতে কলাবাগানের ট্রাফিক সিগন্যালে হাজী সেলিমের একটি গাড়ি থেকে দুই-তিন জন ব্যক্তি নেমে ওয়াসিম আহমেদ খানকে ফুটপাতে ফেলে এলোপাতাড়ি মারধর করে। পরে ট্রাফিক পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে। পথচারীরা এই দৃশ্য ভিডিও করেন, যা মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়। ধানমন্ডি থানা পুলিশ এসে ঘটনাস্থল থেকে গাড়িটি থানায় নিয়ে যায়। বর্তমানে গ্রেফতার মিজানুর ও গাড়ি ধানমন্ডি থানায় রয়েছে।

ওয়াসিফ আহেমদ এজাহারে অভিযোগ করেন, তিনি নীলক্ষেত থেকে বই কিনে মোটরসাইকেলে মোহাম্মদপুরে তার বাসায় ফিরছিলেন। তার স্ত্রীও তার সঙ্গে ছিলেন। ল্যাবএইড হাসপাতালের সামনে এলে পেছন থেকে তার মোটোরসাইকেলটিকে একটি গাড়ি ধাক্কা দেয়। ওয়াসিম আহমেদ মোটোরসাইকেল থামিয়ে গাড়িটির গ্লাসে নক করে নিজের পরিচয় দিয়ে ধাক্কা দেওয়ার কারণ জানতে চান। তখন এক ব্যক্তি বের হয়ে তাকে গালিগালাজ করে গাড়িটি চালিয়ে কলাবাগানের দিকে আসেন। মোটরসাইকেল নিয়ে ওয়াসিফ আহমেদও তাদের পেছনে পেছনে আসেন। কলাবাগান বাসস্ট্যান্ডে গাড়িটি থামলে ওয়াসিফ তার মোটোরসাইকেল নিয়ে গাড়ির সামনে দাঁড়ান। তখন তিন-চার জন লোক গাড়ি থেকে নেমে বলতে থাকেন, ‘তোর নৌবাহিনী/সেনাবিহিনী বাইর করতেছি, তোর লেফটেন্যান্ট/ক্যাপ্টেন বাইর করতেছি। তোকে আজ মেরেই ফেলবো।’ এই বলতে তাকে আর কিলঘুষি দিতে থাকে। এরপর তারা পালিয়ে যায়।