হাতে ঘুষ চোখে দুদক!

image

শিপ সার্ভেয়ার মির্জা সাইফুর রহমান

রাজধানীর প্রাণকেন্দ্র মতিঝিলে বিআইডব্লিটিরএর ভবনে নৌ পরিবহন অধিদপ্তরে দু লাখ টাকা ঘুষসহ হাতেনাতে আটক হলেন শিপ সার্ভেয়ার মির্জা সাইফুর রহমান। ২ সেপ্টেম্বর সোমবার দুপুরে ঘুষের টাকাসহ তাকে আটক করে দুদকের সহকারী পরিচালক আবদুল ওয়াদুদের নেতৃত্বাধীন টিম। এ ঘটনায় সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে( মামলা নং ৪)। মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে সোমবার তাকে আদালতে হাজির করা হয়েছে।

দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা ১ এর উপ পরিচালক মোহম্মদ ইব্রাহিম জানান, এম এম শিপিং লাইন্সের ম্যানেজার মোঃ মনিরুজ্জামান দুদকের কাছে অভিযোগ করেন যে ঢাকার বিআইডব্লিটি ভবনে কর্মরত সদরঘাট বন্দরের দায়িত্বপ্রাপ্ত শপি সার্ভেয়ার মির্জা সাইফুর রহমান এমভি কাদিজাতুল কোবরা নামে একটি লঞ্চের সার্ভে প্রতিবেদনের জন্য ২ লাখ টাকা ঘুষ দাবী করেছেন। এ অভিযোগের পেক্ষিতে দুদক টিম গঠন করে। সোমবার ২ লাখ টাকা ঘুষ নেওয়ার সময় তাকে হাতে নাতে আটক করা হয়।

সহকারী পরিচালক আবদুল ওয়াদুদ জানান, এম এম শিপিং এর লঞ্চ খাতিজাতুল কোবরার সার্ভে ও ফিটনেস রিপোর্ট দেওয়ার জন্য ম্যানেজার মনিরুজ্জামানের সঙ্গে ৩ লাখ টাকা ঘুষ দাবী করেন। পরে দুই লাখ টাকা রফাদফা হয়। রফাদফ অনুয়ায় মনিরুজ্জামানের স্বাক্ষর করা ২ লাখ টাকা ড্রয়ারে রাখেন শিপ সার্ভেয়ার মিজা আরিফুল। একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতি এবং উপস্থিতিতে দুদকের পরিচালক আকতার হোসেন, উপ পরিচালক ইব্রাহিম হোসেন মনিরুল ইসলাম, আমির হোসেন রেজাউল করি, ফজলুল বারি, মোঃ মনোয়ার হোসেন, উপ সহকারী পরিচালখ মোহাম্মদ নুর আলশ কামরুজ্জামানসহ দুদকটিম অভিযানে অংশ নেন।

দুদক সূত্র জানায়, এ ঘটনায় সমন্বিত জেলা কার্যালয় ১-এ একাটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার বাদী অভিযান পরিচালনাকারী দুদকের সহকারী পরিচালক আব্দুল ওয়াদুদ। ওই মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে হাজির করা হয়েছে। মামলাটি তদন্তকারী কর্মকর্তা পরবর্তীতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আসামীর রিমান্ড আবেদন করবেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, নৌ পরিবহন অধিপ্তরে ঘুষ ছাড়া কোন কাজ হয়না। শীর্ষ পদের কর্মকর্তা ছাড়া সবার বিরুদ্ধেই ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। নৌ পরিবহন অদিপ্তরের মহাপরিচালক(ডিজি জিপিং) ছাড়া সব কর্মকর্তাদের টেবিলে টেবিলে ঘুষ লেনদেন হয়। এর পূর্বে গত বছর নৌ পরিবহন অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী ফকরুল ইসলাম ৫ লাখ টাকা ঘুষ নেওয়ার সময় নিজ দপ্তরের আটক হন দুদকের কর্মকর্তাদের হাতে। এর কয়েকমাস পরই ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী এসএম নাজমুল ইসলামও প্রকাশ্যে ঘুষ নেওয়ার সময় গ্রেফতার হন । ওই ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে মামলাও দায়ের করে দুদক। ঘুষ নেওয়ার ঘটনায় দুই কর্মকর্তাকেই সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এরপরও ঘুষের লেনদেন কমেনি। সর্বশেষ সিপ সার্ভেয়ার মির্জা সাইফুর ইসলাম ২ লাখ টাকা ঘুষসহ আটক হয়েছেন ।

দুদক সূত্র জানায়, নৌ পরিবহন অধিদপ্তরের বিভিন্ন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এসব বিষয়ে তথ্য প্রমাণ সংগ্রহ করছে দুদক। এখানে বিভিন্ন কাজের বিনিময়ে ঘুষ লেনদেনে জড়িত কর্মকর্তা কর্মচারীদের হাতেনাতে গ্রেফতার করতে দুদক গোয়েন্দা টিমও কাজ করছে।

এদিকে এ বিষয়ে নৌ পরিবহন অধিপ্তরের মহপরিচালক কমডোর সৈয় আরিফুল ইসলাম সংবাদকে জানান সোমবার সকাল ১০ থেকে সাড়ে ১১ টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত আমাদের একটি মাসিক সমন্বয় সভা ছিলো। ওই সভায় উপস্থিত ছিলেন সিপ সার্ভেয়ার মির্জা সাইফুর রহমান। মিটিং শেষ হওয়ার ৫ মিনিটের মধ্যেই সিপ সার্ভেয়ার গ্রেফতার হয়। মাত্র ৫ মিনিটের মধ্যে কিভাবে ঘুষ লেনদেন হয়েছে তা দুদকই বলতে পারবে। আমরা পুরো ঘটনাটি লিখিতভাবে মন্ত্রনালয়কে জানাবো। মন্ত্রনালয় পরবর্তী সিদ্ধান্ত নিবেন।

আগেও দুজন কর্মকর্তা ঘুষসহ গ্রেফতারের বিষয়ে তিনি বলেন, ওই ঘটনায় মামলা চলমান রয়েছে। অভিযুক্তরা বরখাস্ত অবস্থায় রয়েছে। নৌ পরিবহন অধিপ্তরের কর্মকর্তাদের টেবিলে টেবিলে ঘুষ লেনদেনের অভিযেগ রয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এমন কোন অভিযোগ থাকলে তা কেউ আমাদের জানায়নি বা দুদকও আমাদের জানায়নি। জানালে আমরা ব্যবস্থা নিতে পারতান। পূর্বের অনেক অভিযোগ রয়েছে যেগুলো তদন্ত চলছে।