২ বছরে ৪০ লাখ অভিযোগ

image

দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেছেন, বিগত ২ বছরে কমিশনের হটলাইনসহ অন্যান্য মাধ্যমে প্রায় ৪০ লাখ অভিযোগ দুর্নীতি দমন কমিশনে এসেছে। এতো অভিযোগ কিসের ইঙ্গিত বহন করে? আমাদের মনে হয়, সরকারি পরিষেবা প্রদানে কোথাও না কোথাও সরকারি কর্মকর্তাদের গাফিলতি বা অপারগতা বা অক্ষমতা রয়েছে। এট সহ্য করা হবে না। রোববার (২৯ ডিসেম্বর) মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তারদের সঙ্গে ‘দুর্নীতিমুক্ত সরকারি সেবা : দুর্নীতির অভিযোগের প্রকৃতি’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, আমরা সবাই জনগণের করের অর্থে বেতন পাই , তাদের সেবা প্রদান করা আমাদের সাংবিধানিক দায়িত্বও। এটা আমরা সবাই মনে রাখব। ইকবাল মাহমুদ বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশন আইন একটি শক্তিশালী আইন। তবে এই আইনটি সম্পর্কে হয়তো সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সঠিকভাবে অবহিত নন। এই আইনটি সম্পর্কে সঠিক ধারণা থাকলে দুর্নীতি করার দুঃসাহস কেউ দেখাবে না।

দুদক চেয়ারম্যান বলেন, দুর্নীতি ও দারিদ্র্য মানবসভ্যতার শুরু থেকেই বিদ্যমান ছিল। দারিদ্র্যের সঙ্গে দুর্নীতিরও সর্ম্পক রয়েছে। দারিদ্র্য এবং দুর্নীতিকে সম্পূর্ণরূপে নির্মূল করা হয়তো সম্ভব নয়। তবে কাক্সিক্ষত পর্যায়ে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। তিনি বলেন, সরকারি পরিষেবা প্রদানে দুর্নীতি, হয়রানি এবং দীর্ঘসূত্রিতার নানা অভিযোগ কমিশনে আসে। এসব অভিযোগ সম্পর্কে জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের একটি ধারণা প্রদানের জন্য এজাতীয় সভা করা হচ্ছে। যাতে সংশ্লিষ্ট দফতরসমূহ নিজ থেকেই একটি সুনির্দিষ্ট কর্মপ্রক্রিয়া অনুসরণ করে জনমনে উদ্ভূত অভিযোগসমূহ নিরসণের একটি প্রক্রিয়া চিহ্নিত করতে পারে এবং সে মোতাবেক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে।

সংশ্লিষ্ট কর্মর্কর্তাদের বক্তব্যের জবাবে দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেন, সবাই আইন মেনে চললে কোন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপনের সুযোগ নেই। কেননা আইন তৈরি করা হয় মানার জন্য, প্রয়োগের জন্য নয়। নৈতিকতাবিহীন উন্নয়ন কখনই টেকসই হতে পারে না। আমরা উন্নয়ন চাই, দারিদ্র্য বিমোচন চাই, তবে তা হতে দুর্নীতিমুক্ত। দুর্নীতির অনেক কারণ রয়েছে, তবে সরকারি সরকারি কর্মকর্তাদের চেয়ার প্রীতিও দুর্নীতির অন্যতম কারণ। সরকারি কর্মকর্তাদের মনে রাখতে হবে, দুর্নীতি একটি ফৌজধারী অপরাধ এবং ফৌজধারী অপরাধ কখনই তামাদি হয় না। দেশটি আমার এই কথা আমাদের সবার হৃদয়ে ধারণ করতে হবে।

দুদক চেয়ারম্যান একজন কর্মকর্তার বক্তব্যের প্রেক্ষিতে বলেন, শিশু ন্যায়পাল নিয়োগের বিষয়টি অত্যন্ত যুগোপযোগী ও সময়ের দাবি সরকার বিষয়টি পর্যালোচনা করতে পারে। তিনি বলেন, শিক্ষাক্ষেত্রে দুর্নীতি কোনক্রমেই বরদাস্ত করা হবে না। কেননা উপযুক্ত শিক্ষাই তরুণ প্রজন্মকে একটি সুনির্দিষ্ট দিক নির্দেশনা দিতে পারে এবং তাদের মধ্যে নৈতিকতা সৃষ্টি করতে পারে। তিনি এক্ষেত্রে এসডিজি-র ৪নং গোল এর দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করে মানসম্মত শিক্ষা প্রদানের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ মর্মে উল্লেখ করেন। তিনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র ছাত্রীদের মাঝে আইন-শৃঙ্খলা মেনে চলার বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য পুলিশ বিভাগের প্রতিনিধিদের - শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাওয়া ফলপ্রসূ হতে পারে মর্মে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, কমিশন শিক্ষা ক্ষেত্রে দুর্নীতির বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে।

তিনি সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা নির্ভয়ে সততার সঙ্গে কাজ করবেন। কেউ আপনাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করলে দুদক সেগুলো খতিয়ে দেখবে। দুর্নীতি দমন কমিশন আইনে সরকারি কর্মকর্তার মিথ্যা অভিযোগ প্রদানের বিষয়ে শাস্তির বিধান রয়েছে এবং ইতোমধ্যে মিথ্যা অভিযোগ প্রদানের বিষয়ে কমিশন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ শুরু করছে। স্থানীয় জেলা প্রশাসক নাজিয়া শিরিনের সভাপতিত্বে এ আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন পুলিশ সুপার, এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী, জেলা শিশু কর্মকর্তা প্রমুখ ।

আলোচনাসভা শেষে দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ মৌলভীবাজার জেলার পুলিশ মডেল উচ্চবিদ্যালয়ে স্থাপিত সততা স্টোর উদ্বোধন করেন। এ সময় উপস্থিত পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ভয় নয় বরং ভালবাসা দিয়ে জনগণের মন জয় করতে হবে। পুলিশ বিভাগের কর্মকর্তাদের তিনি নির্ভয়ে দায়িত্ব পালন করতে বলেন। পুলিশের দু-একজন কর্মকর্তাদের জন্য পুরো পুলিশ বাহিনীর বদনাম হতে পারে না। পুলিশ জনগণের মঙ্গলের জন্য অনেক ভালো করছে যার অনেক দৃষ্টান্তও রয়েছে। তিনি বলেন, পুলিশকে আরও জনবান্ধব হতে হবে। এমন একটি কর্মসূচি নেয়া যেতে পারে যেখানে পুলিশ অফিসার বাড়ি-বাড়ি গিয়ে জনগণের আইন-শৃঙ্খলাজনিত কোন সমস্যা আছে কি না বা অন্য কোন সমস্যা আছে কি না জানতে চাইতে পারে। এতে জনগণের মনের মধ্যে পুলিশ সম্পর্কে যে ভীতি রয়েছে তা দূরীভূত হবে। অর্থাৎ ভয় দেখিয়ে জয় নয়, বরং ভালোবাসা দিয়ে মানুষের মন জয় করতে হবে।

সম্রাট-শামীমের নিয়ন্ত্রনে গণপূর্ত টেন্ডার ভাগ-ভাটোয়ারা করেছেন মুশফিক ও শাহে আলম

image

আওয়ামী লীগ নেতা ডাবলুর অবৈধ সম্পদ অনুসন্ধান করবে দুদক

image

দক্ষিনের কাউন্সিলর ফরিদ উদ্দিন রতনকে দুদকে জিজ্ঞাসাবাদ

image

ছদ্মবেশে পাসপোর্ট প্রত্যাশী দুদকের নিকট সরাসরি ঘুষ দাবি

image

দৈনিক পত্রিকার ওয়েবসাইটগুলোর নকলকারী ও বানোয়াট সংবাদ প্রচারক গার্ডিয়ানের এমডি গ্রেফতার

image

নাম অপ্রকাশিত এক সরকারি কর্মকর্তা মোটা ঘুষ লেনদেনে প্রমাণিত

image

শিক্ষার প্রকৌশল বিভাগের ৩ জনের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান

image

জি কে শামীমের অবৈধ কজের সহযোগী হয়ে সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুই প্রকৌশলীসহ তিনজনকে দুদকের তলব

image

কিশোরগঞ্জের এমপি আফজালের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানের নেমেছে দুদক

image