‘ঢাকা লিট ফেস্ট’ শুরু

image

বাংলা একামেডিতে ফিতা কেটে ‘ঢাকা লিট ফেস্ট’র উদ্বোধন করেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কেএম খালিদ -সংবাদ

বিশ্বনন্দিত প্রায় তিনশ’ লেখক-সাহিত্যিক-চিন্তাবিদের অংশগ্রহণের সঙ্গে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে শুরু হলো তিন দিনব্যাপী ঢাকা লিটারারি ফেস্ট-২০১৯। ১৮টি দেশের সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের আড্ডা, নাটক ও আলোচনাসহ নানা অনুষ্ঠানে মুখরিত থাকবে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ।

৭ নভেম্বর বৃহস্পতিবার লিট ফেস্টের উদ্বোধন করেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কেএম খালিদ। দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের নানা পর্বে বিভিন্ন সময় বক্তব্য দেন আগত অতিথিরা। আলোচনা-সমালোচনা ও আড্ডায় জমিয়ে তোলেন উৎসব প্রাঙ্গণ। এবারের উৎসবে বিদেশি অতিথিদের মধ্যে অংশ নিচ্ছেন- ম্যানবুকার পুরস্কার মনোনয়নপ্রাপ্ত সাহিত্যিক মনিকা আলী, ‘চৌরঙ্গী’ খ্যাত পশ্চিমবঙ্গের প্রখ্যাত সাহিত্যিক শংকর, পুলিৎজার পুরস্কার বিজয়ী লেখক জেফরি গেটলম্যান, ডিএসসি অ্যাওয়ার্ড ফর সাউথ এশিয়ান লিটারেচার পুরস্কার বিজয়ী সাহিত্যিক এইচএম নাকভি, ইতিহাসভিত্তিক লেখক উইলিয়াম ডালরিম্পল, ভারতীয় রাজনীতিবিদ ও লেখক শশী থারুর, কবি তিশানি দোশি, সাহিত্যিক স্বপ্নময় চক্রবর্তী, কবি ও সাংবাদিক মৃদুল দাশগুপ্ত, ভারতীয় সাংবাদিক প্রেয়াগ আকবর, ফিনিশ সাংবাদিক মিন্না লিন্ডগ্রেন, ব্রাজিলের কথাসাহিত্যিক ইয়ারা রড্রিগেজ প্রমুখ। বাংলাদেশের শিল্পী, সাহিত্যিকদের মধ্যে রয়েছেন- কবি আসাদ চৌধুরী, কথাশিল্পী সেলিনা হোসেন, কথাসাহিত্যিক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম, ইমদাদুল হক মিলন, শাহীন আখতার, মোস্তফা কামাল, আসাদুজ্জামান নূর, ফখরুল আলম, মঈনুল আহসান সাবের, আলী যাকের, শামসুজ্জামান খান, আনিসুল হক, কামাল চৌধুরী, আফসান চৌধুরী, কাইজার হক, খাদেমুল ইসলাম প্রমুখ।

উদ্বোধনী আয়োজনের শুরুতেই রবীন্দ্রনাথের শিল্পসৃষ্টি ‘পঞ্চভূত’ নিয়ে নৃত্যনাট্য পরিবেশন করেন সাধনা নৃত্যগোষ্ঠী। এরপর কথা বলেন আয়োজনের পরিচালক ও অতিথিরা।

কেএম খালিদ বলেন, নয় বছর আগে যে ‘হে উৎসব’ বিশ্বসাহিত্য থেকে বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করার আয়োজন ছিল, আজ ‘ঢাকা লিট ফেস্ট’ হিসেবে সেই উৎসবই বাংলা সাহিত্য দ্বারা বিশ্বসাহিত্যকে সমৃদ্ধ করছে।

বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি হাবিবুল্লাহ সিরাজী বলেন, এ আয়োজন আমাদের হৃদয়ের সংযোগ, মস্তিষ্কের সংযোগ, বিশ্বরেখায় পথযোগাযোগ। এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন ভাষা থেকে উপাদান নিয়ে আমরা যেন আমাদের সাহিত্যে তা স্থাপন করতে পারি, সে মনরূপ আমাদের সৃষ্টি হোক।

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ লেখক মণিকা আলী বলেন, এই মঞ্চে দাঁড়িয়ে আমি গর্বিত। ১৯৭১ সালে মাত্র সাড়ে তিন বছর বয়সে আমি বাংলাদেশ ছেড়েছি। তারপর আর আসা হয়নি। এখন ঠিক করে বাংলা ভাষাটাও বলতে পারি না। এজন্য অবশ্য দুঃখ হয়। এত সমৃদ্ধ যে ভাষা, সে ভাষা আমি জেনেও ভুলে গেছি। তবে এ ভাষার প্রতি ভালোবাসাটা কমেনি। তবে সবকিছুর পরেও এই বাংলা ভাষা আমার বেড়ে ওঠা এবং লেখালেখির প্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে।

মিন্না লিন্ডগ্রেন বলেন, লেখক হিসেবে সামাজিক জীবেনর গল্পগুলো তুলে ধরা আমার কাজ। আমি নিজে বয়স্ক মানুষের গল্প লিখতে পছন্দ করি। আমার সাম্প্রতিক বইয়ে বয়স্কদের ভালোবাসা ও অপ্রাপ্তির বিষয় ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছি। আমার কাছে গল্প হলো সমাজের কথা বলা।

মারিয়া ফিলোমেনা বইমো লেপেসকি বলেন, সবার জন্যই কল্পনাশক্তি খুব জরুরি। আমরা বই পড়লে সুন্দর করে কল্পনা করতে শিখি। সেজন্য আমার কাছে গল্প মানে মনোরঞ্জনের মাধ্যম।

ইয়ারা রড্রিগেজ বলেন, যেহেতু আমি নারীবাদী লেখিকা, সেক্ষেত্রে আমার কাছে গল্প হলো, সমাজে নারীদের প্রতিচ্ছবিকে বইয়ের পাতায় ফুটিয়ে তোলা। নারীদের অধিকার, সুবিধা ও অসুবিধাগুলো গল্প দিয়ে ফুটিয়ে তুলতেই আমি সাহিত্য রচনা করি।

২০১১ সালে ‘হে ফেস্টিভ্যাল’ নামে যাত্রা শুরু হয় এ আয়োজনের। পরে ২০১৫ সাল থেকে এটি ঢাকা লিট ফেস্ট নামে আত্মপ্রকাশ করে। বিগত আট বছরে এ উৎসবে যোগ দিয়েছেন নোবেল, ম্যানবুকার, পুলিৎজার পুরস্কার বিজয়ী সাহিত্যিকরা। এবারের উৎসবে অন্যতম আর্কষণ হিসেবে থাকছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জীবনীভিত্তিক চলচ্চিত্র ‘হাসিনা : আ ডটারস টেল’-এর বিশেষ প্রদর্শনী ও আলোচনা। এছাড়াও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ উদযাপনের আগাম আয়োজন হিসেবে থাকছে আলোচনা ও তাকে নিবেদিত কবিতা পাঠের আসর। অন্যদিকে আজ বিকেলে উৎসবের প্রথম দিনই দেয়া হবে জেমকন সাহিত্য পুরস্কার।