জাতির পিতার স্মৃতির নিদর্শন নিয়ে জাতীয় জাদুঘরে মাসব্যাপী প্রদর্শনী শুরু

image

জাতীয় জাদুঘরে বঙ্গবন্ধুর স্মৃতির নিদর্শন নিয়ে প্রদর্শনীতে অতিথিরা -সংবাদ

জাতীয় জাদুঘরে সংগৃহীত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নানা স্মৃতি নিদর্শন নিয়ে মাসব্যাপী বিশেষ প্রদর্শনী শুরু হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর ৪৪তম শাহাদাত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস পালন উপলক্ষে এই প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে জাতীয় জাদুঘর। প্রদশর্নীতে বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি-নিদর্শন ছাড়াও বঙ্গবন্ধুর বিভিন্ন আলোকচিত্র, পেইন্টিং এবং তার ওপর প্রকাশিত বিভিন্ন গ্রন্থ স্থান পেয়েছে।

শনিবার (৩ আগস্ট) প্রদর্শনী উদ্বোধনের পাশাপাশি ‘দেশ গঠনে বঙ্গবন্ধু’ বিষয়ক এক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কেএম খালিদ। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিশিষ্ট গবেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. সৌমিত্র শেখর। জাতীয় জাদুঘর বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সভাপতি শিল্পী হাশেম খানের সভাপতিত্বে সেমিনারে বিশেষ অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি সচিব ড. মো. আবু হেনা মোস্তফা কামাল। স্বাগত বক্তব্য দেন জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক মো. রিয়াজ আহম্মদ।

সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী খালিদ বলেন, বাঙালি জাতি স্বাধীনতা অর্জন করে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে। তার কণ্ঠেই ৭ মার্চ ধ্বনিত হয়েছিল ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানের ভাষণ যা স্বাধীনতা অর্জনের বীজমন্ত্র হিসেবে বিবেচ্য। তিনি যখন জাতীয় নেতা থেকে আন্তর্জাতিক নেতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে থাকেন ঠিক সে সময়ই ১৯৭৫-এর আগস্ট মাসের ১৫ তারিখে বাঙালির স্বাধীনতার ধ্বংসকামী ও মানবতার শত্রুদের একদল নরপশু দ্বারা নির্মম ও নৃশংসভাবে পরিবারবর্গসহ তিনি শহীদ হন। দেশ হারায় বিশ্বের এক মহানায়ককে। বাঙালি এই বীরের অসামান্য অর্জন কখনো ম্লান হবার নয়। বাঙালির স্বাধীনতার চেতনা, ভাষা-সংস্কৃতি ও দেশপ্রেমের ইতিহাস রক্ষায় এবং প্রজন্ম থেকে প্রজন্মের কাছে জাতির পিতার ত্যাগ, আদর্শ ও অবদানকে সর্বকালে শ্রদ্ধা ভরে স্মরণ করবে।

সংস্কৃতি সচিব মোস্তফা কামাল বলেন, বাঙালির আপসহীন নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে সোনার বাংলা ও দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর স্বপ্ন দেখেছিলেন। তার স্বপ্নের গণতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িক, সমতাভিত্তিক সুখী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়াই হোক জাতীয় শোক দিবসের অঙ্গীকার। অধ্যাপক সৌমিত্র শেখর বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি হিসেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শাসনভার গ্রহণ করেই দেশগঠনে বঙ্গবন্ধু অহোরাত্র কাজ আরম্ভ করেন। কিন্তু ৭৫ পরবর্তি এবং ৯৬ সালে আওয়ামী লীগের ক্ষমতা লাভের পূর্ব পর্যন্ত মুক্তিযুদ্ধ বিরোধীরা তাদের আধিপত্য বিস্তার করে রেখেছিল। তারপরও বঙ্গবন্ধুর আদর্শের ধারক, তারই কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আলোকবর্তিকা হয়ে আমাদের পথ দেখাচ্ছেন। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের দেশগঠন একদিন সুসম্পন্ন হবেই।

শিল্পী হাশেম খান বলেন, বঙ্গবন্ধু আজ নেই, কিন্তু বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে বাঙালি ধারণ করে এই দেশকে উন্নত দেশ হিসেবে পৃথিবীর বুকে মাথা উঁচু করে দার করানর জন্য কাজ করে চলছে। রিয়াজ আহম্মদ বলেন, ১৫ আগস্ট ইতিহাসের এক কলঙ্কিত অধ্যায়। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করেছিল ক্ষমতালোভী নরপিশাচ কুচক্রী মহল। প্রতিবছর আগস্ট মাস আসে বাঙালির হৃদয়ে শোক আর কষ্টের দীর্ঘশ্বাস হয়ে। বাঙালি জাতি গভীর শোক ও শ্রদ্ধায় তার শ্রেষ্ঠ সন্তানকে স্মরণ করে। এই আয়োজনের মাধ্যমে আমরা অনেক অজানা কথা জানতে পারবো, অনেক দুর্লভ জিনিসের প্রদর্শনী দেখতে পারবো। যেগুলো আমাদেরকে দেশ গঠনে অনুপ্রাণিত করবে।