নারীর সাথে সঙ্গীত : ইরানে শিল্পী গ্রেফতার

image

নারী সঙ্গীতশিল্পী ও নৃত্যশিল্পীদের সাথে কাজ করার কারণে ইরানের সঙ্গীতকার মেহদী রাজাবিয়ানকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর আগে একই অভিযোগে তাকে আরো দুবার গ্রেফতার করা হয়েছিল। সর্বশেষ দু’সপ্তাহ আগে তাকে আবার গ্রেফতার করা হয় তার নতুন অ্যালবামের জন্য।

অ্যালবামটির কাজ এখনো শেষ হয়নি। এতে নারী কণ্ঠশিল্পী আছেন যা ইরানের আইনে নিষিদ্ধ। তাকে গ্রেফতারের বিষয়ে ইরানের সংস্কৃতি ও ইসলামী বিধান বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে বিবিসি।

রাজাবিয়ান বিবিসিকে বলেন, "সরকার আমার কণ্ঠ রোধ করতে চায়। তারা চায় আমি যেন আর গান না গাই।" ইরানের উত্তরাঞ্চলের সারিতে এই সঙ্গীতশিল্পীর বাস। গত ১০ অগাস্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে তাকে দেখা করতে বলা হয়। দেখা করতে গেলে তাকে গ্রেফতার করে আদালতে তোলা হয়।

রাজাবিয়ান জানান, বিচারক তাকে বলেন তার গানে নাকি পতিতাবৃত্তিকে উৎসাহিত করা হয়েছে। পরিবারের প্রচেষ্টায় জামিন হয়েছে তার। তবে শর্ত দেওয়া হয়েছে, গান গাইলেই আবার ধরা হবে। তাই গান গাওয়ার জন্য তার বিরুদ্ধে করা মামলার রায় হওয়া পর্যন্ত তাকে অপেক্ষা করতে হবে।

তার আসন্ন অ্যালবাম সম্পর্কে বিবিসিকে একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন তিনি। সেখানেই তিনি উল্লেখ করেছিলেন, পার্সিয়ান ধ্রুপদি নৃত্যশিল্পী হেইলা বান্দেহ তার গানের সঙ্গে নাচবেন।

ইরানের আইনে কোনো গান বা নাচকে সরকার অমার্জিত বা অনৈতিক বিবেচনা করলেই শাস্তি। কাগজে-কলমে নারীদের গান গাইবার বা নাচার অনুমতি আছে শুধু অন্য নারীদের সঙ্গে বা একা, তাও শুধু নারী দর্শকদের জন্য।

তবে রাজাবিয়ান একাই নন, অনেক শিল্পীই সেখানে আইনি বাধার মুখে পড়েছেন। গত মে মাসে বিদেশি পর্যটকদের সামনে গান গাওয়ায় শিল্পী নেজার মোয়াজ্জেমকে আদালতে তলব করা হয়।

কয়েক মাস আগে শিল্পী আলী ঘামসারিকে নিষিদ্ধ করা হয়। তেহরানের একটি কনসার্টে নারী সহশিল্পীদের বাদ দিতে রাজি না হওয়ায়। এর আগে মেহদি রজবিয়ানকে যে দুবার গ্রেফতার করা হয়েছিল তার একটা ছিল ২০১৩-তে। তাকে সে সময় চোখ বেঁধে তিন মাস একাকী অন্তরীণ রাখা হয়।

এরপর তাকে ছ’বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। কিন্তু তিনি অনশন শুরু করলে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালসহ আন্তর্জাতিক মহলের ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার মুখে তাকে ছাড়া হয়।

কিন্তু সবসময় কড়া নজরদারির মধ্যেই থাকতে হয় তাকে। তাকে বেশিরভাগ সময় গৃহবন্দী অবস্থায় কাটাতে হয়। তার ভাষায়, যেন আমাকে একটা বড় কারাগার থেকে ছোট কারাগারে রাখা হয়েছে।

ইরানি কর্তৃপক্ষের ভয়ে অন্যান্য শিল্পীরাও তার পক্ষে কিছু বলতে পারে না। কিছু দিন আগে এক বিনোদন সাংবাদিককে গ্রেফতার করা হয়, শুধু একটি প্রতিবেদনে রাজাবিয়ানের নাম উল্লেখ করায়।

গত বছর তিনি মিডল ইস্টার্ন নামে নতুন একটি অ্যালবাম বের করেন তুরস্কের সনি মিউজিক থেকে। সেই অ্যালবাম রেকর্ড করা হয় গোপনে। তাতে সিরিয়া, ইয়েমেন, জর্ডান, লেবানন, ইরাকের শিল্পীরাও কাজ করেছেন। তাদের মধ্যে অনেকেই আবার রাজাবিয়ানের মতোই নিস্পেষণের মধ্যে আছেন নিজ দেশে।