৬৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন

মুক্তিযুদ্ধ ও প্রগতিশীল চিন্তার ধারক খেলাঘর

http://thesangbad.net/images/2019/May/02May19/news/upload2.jpg

সংবাদ কার্যালয়ে খেলাঘর-এর ৬৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কেক কাটার অনুষ্ঠান-সংবাদ

উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে ২ মে বৃহস্পতিবার পালিত হলো খেলাঘর’র ৬৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। এই উপলক্ষে বৃহস্পতিবার দৈনিক সংবাদ কার্যালয়ে খেলাঘরের ভাইবোনেরা সংবাদ পরিবারের সদস্যদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং কেক কেটে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করেন। এ সময় বক্তারা বলেন, সংবাদ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ এবং প্রগতিশীল চিন্তার ধারক-বাহক। এই চিন্তাধারাকে পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতেই ১৯৫২ সালে খেলাঘর যাত্রা শুরু করে। বক্তারা এ সময় সব ধরনের সাংগঠনিক বিভেদ ভুলে একসঙ্গে খেলাঘর পরিচালনার আহ্বান জানান।

১৯৫২ সালের ২ মে দৈনিক সংবাদে শিশুদের সাহিত্যপাতা হিসেবে খেলাঘরের যাত্রা শুরু হয়। পরে তা একটি পূর্ণাঙ্গ সংগঠন হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করে। শিশু-কিশোরভিত্তিক সংগঠন খেলাঘর এর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে খেলাঘরের ভাইবোনেরা দুই পর্বে সংবাদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

দুপুর ১২টায় খেলাঘরের এক গ্রুপের সভাপতিম-লীর সদস্য প্রণয় সাহার নেতৃত্বে সংবাদ কার্যালয়ে আসেন। এ সময় আনন্দঘন পরিবেশে সংবাদ’র সহকারী সম্পাদক সুফিয়া বকুলকে নিয়ে খেলাঘরের বন্ধুরা প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কেক কাটেন। এ আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন সংবাদের প্রধান প্রতিবেদক সালাম জুবায়ের, খেলাঘর কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতিম-লীর সদস্য প্রণয় সাহা ও আবদুল মতিন ভূঁইয়া, খেলাঘর কেন্দ্রীয় কমিটির সম্পাদকম-লীর সদস্য এ আলী আহমেদ নানতু ও রাজেন্দ্র চন্দ্র দেব মন্টু, খেলাঘর কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আনিসুল ইসলাম অপু, কহিনুর আক্তার শিল্পী ও মো. জাহাঙ্গীর হোসেন, খেলাঘর জাতীয় পরিষদের সদস্য আতিকুর রহমান মিরাজ এবং খেলাঘর ঢাকা মহানগরের সদস্য রফিকুজ্জামান নয়নসহ বিভিন্ন আসরের শিশুরা।

দুপুর সাড়ে ১২টায় খেলাঘর’র অন্য এক গ্রুপের কেন্দ্রীয় কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রুনা আলী ও সম্পাদক লাভলী চৌধুরীর নেতৃত্বে খেলাঘরের ভাইবোনেরা সংবাদ কার্যালয়ে আসেন। তারা সংবাদ’র ভারপ্রাপ্ত বার্তা সম্পাদক কাজী রফিককে সঙ্গে নিয়ে কেক কাটেন এবং সবার সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এ সময় এ গ্রুপের কেন্দ্রীয় কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সৌমেন পোদ্দার, আহসান হাবিব খান রিপন, তৌহিদ রিপন, শ্যামল বিশ^াস, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বাবুল আকতার, শাহিন আক্তার, খেলাঘর ঢাকা মহানগর (দ.) সাধারণ সম্পাদক জুয়েল মজুমদার, জাতীয় পরিষদ সদস্য মোজাম্মেল আলীম, খেলাঘর ঢাকা মহানগর দক্ষিণ সম্পাদক সঙ্গীতা ইসলাম ক্ষমা, খেলাঘর ঢাকা মহানগর (উ.) সম্পাদক রঞ্জন মাহমুদ বেলাল, দক্ষিণের সদস্য আনিসুল ইসলাম বিপ্লব এবং খেলাঘর কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সম্পাদক গোলাম আব্বাসসহ আসরের শিশুরা উপস্থিত ছিলেন।

সুফিয়া বকুল বলেন, সংবাদের পক্ষ থেকে খেলাঘরের সকল বন্ধুদের আন্তরিক অভিনন্দন। প্রতিবছর খেলাঘরের এই আয়োজন পরবর্তী প্রজন্মকে সংবাদের সঙ্গে আরও গভীরভাবে সম্পৃক্ত করবে বলে আমি আশা করি।

সালাম জুবায়ের বলেন, খেলাঘর আমাদের প্রাণের সংগঠন। জন্মলগ্ন থেকে খেলাঘর এবং সংবাদ একে অন্যের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িয়ে আছে। তবে সংগঠনটির সাংগঠনিক বিভাজন আমাদেরকে কষ্ট দেয়। প্রতিবারের মতো এবারও আমাদের প্রত্যাশা ভবিষ্যতে খেলাঘরের সবাই একত্রে সংগঠনটি পরিচালনা করবে।

কাজী রফিক বলেন, সংবাদ দেশের মুক্তিযুদ্ধ এবং প্রগতিশীল চিন্তাধারাকে ধারণ করে। এই চিন্তাধারাকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে খেলাঘরের অবদান অসীম। আমি নিজেও খেলাঘরের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলাম। এই সংগঠনটি আমার সাংস্কৃতিক এবং রাজনৈতিক ক্ষেত্রে মননশীল দৃষ্ঠিভঙ্গি তৈরি করতে সবচেয়ে বড় অবদান রেখেছে। খেলাঘর’র সাংগঠনিক বিভাজন সম্পর্কে তিনি বলেন, খেলাঘর বিভাজন মুক্ত সৃষ্টিশীল ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ে তুলতে কাজ করছে। কিন্তু সংগঠনটির সাংগঠনিক বিভাজন শিশুদের ছোটবেলা থেকেই বিভক্তি শেখাচ্ছে।

বক্তারা বলেন, খেলাঘরের আতুরঘর দৈনিক সংবাদ পত্রিকা। এরপর থেকেই সংগঠনটির বিকাশে সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে কাজ করেছে সংবাদ। দু’টি প্রতিষ্ঠান আত্মিক যোগাযোগ বজায় রেখে দীর্ঘ ৬৭ বছর পথ চলেছে। ভবিষ্যতেও সংবাদ এবং খেলাঘর’র এই হৃদ্যতা বজায় থাকবে বলে বক্তারা আশা প্রকাশ করেন।