রবি' পথ নিয়েই ব্যস্ত আবুল হায়াত

image

অভিনেতা আবুল হায়াত -ফাইল ছবি।

একুশে পদকপ্রাপ্ত দেশ বরেণ্য অভিনেতা, নাট্যকার ও নাট্যনির্দেশক আবুল হায়াত এখনো লকডাউন শেষে শুটিং-এ ফিরেননি। আবুল হায়াত বলেন, ‘গেলো মার্চ এপ্রিলে করোনার যা পরিস্থিতি ছিলো তার চেয়ে আরো অনেক বেশি ভয়াবহ পরিস্থিতি বিরাজমান সারা দেশে। আগেতো নিজে বাঁচি, তারপর না হয় শুটিং করা যাবে। আগে নিজের, নিজের পরিবারের নিরাপত্তার কথা ভাবাটাই জরুরী। আমিতো জুন মাসে ঘর থেকেই বের হচ্ছিনা। আগামী জুলাই মাসেও বের হবো কী না সেটা নিয়েও ভাবছি।’

তাহলে লকডাউনের এই দিনগুলোতে বাসায় সময় কাটছে কীভাবে? এমন প্রশ্নর জবাবে আবুল হায়াত বলেন,‘ নিজের জীবনীটা নিয়ে আবার বসেছি। আবার নিজের জীবনী লিখছি। আপাতত নিজের জীবনীর নাম দিয়েছি রবি' পথ। আমার ডাক নাম যেহেতু রবি। তাই রবি' পথ নামটিই রেখেছি। হযতো আগামীতে নামটি পরিবর্তনও হতে পারে। নিজের জীবনী লেখার পাশাপাশি যখন ভালোলাগছে গান শুনছি, নাটক সিনেমা উপভোগ করছি। আমার স্ত্রী, নাতি নাতনীদের সঙ্গে আড্ডা দিচ্ছি। এভাবেই কাটছে সময়। আমি সময়টাকে ভীষণ উপভোগ করছি। জীবনে হয়তো এমন সময় আর নাও আসতে পারে। তাই যেভাবেই আছি সেই সময়টাকেউ উপভোগ করছি।’

আবুল হায়াতের জন্ম ওপার বাংলার মুর্শিদাবাদে। ২০১২ সালে ৫৬ বছর পর নিজ জন্মস্থানে গিয়েছিলেন সস্ত্রীক। প্রায় পাঁচ যুগ পর নিজ জন্মস্থানে গিয়ে এক অপার আনন্দে মেতে উঠেছিলেন তিনি। দেখা মিলেছে চাচাতো, খালাতো , ফুফাতো ভাই বোনসহ একমাত্র বেঁচে থাকা ফুফুর সঙ্গেও। সেই মুহুর্ত, সেই প্রিয় সময় যেন চোখে লেগে আছে আজো আবুল হায়াতের।

প্রশ্ন রাখি প্রকৃত শিল্পী হয়ে উঠার ক্ষেত্রে মঞ্চাভিনয় চর্চা কতোটা জরুরী বলে আপনি মনে করেন? অনেক বেশি জরুরী। মঞ্চ হলো অভিনয়ের আঁতুড়ঘর। এখান থেকে অভিনয় শিখে যাওয়া শিল্পীরা জীবনের যে কোন পর্যায়ে গিয়ে ভাল অবস্থান করতে পারবেন বলেই আমি মনে করি। একজন শিল্পীর জন্য মঞ্চ হলো আদর্শ জায়গা। কারণ, মঞ্চে শুধুই অভিনয় শেখানো হয় না। এখানে নিয়ম, শৃঙ্খলা থেকে সবই শেখানো হয়। তবে মঞ্চ ছাড়াও যে ভাল শিল্পী তৈরি হওয়া যায় না সেটা বলাটাও কিন্তু ঠিক নয়। এখন অনেকেই মঞ্চে কাজ না শিখেও ভাল অভিনয় করছেন এবং এ জায়গাটায় নিজেকে ভালভাবে মেলে ধরছেন। তারা হয়তো জন্মগতভাবে প্রতিভাবান।