স্বপ্নকে বাচিয়ে রাখার চেষ্টা করছি

image

বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতেও মহাকাল নাট্যসম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে ইন্টারনেটের মাধ্যমে। নতুন একটি নাটক মঞ্চে আনার প্রস্তুতিও নিচ্ছে দলটি। করোনা বাস্তবতায় থিয়েটার চর্চা, দলীয় কার্যক্রম, শিল্পীদের স্বার্থ সুরক্ষা এবং দলীয় নতুন নাটক মঞ্চায়ন প্রসঙ্গে কথা বলেছেন মহাকাল নাট্য সম্প্রদায়ের সভাপতি এবং নির্দেশক অভিনেতা মীর জাহিদ হাসান। স্বাক্ষাৎকার নিয়েছেন রুবেল।

করোনাকালীন সময় কেমন করে কাটছে আছেন?

কঠিন এবং কিংকর্তব্য বিমূঢ়। এই সময়ে যতটা সম্ভব স্বপ্নকে বাচিয়ে রাখার চেষ্টা করছি। আমরা যারা নাট্যকর্মী, সংস্কৃতি কর্মী, তারাতো এক অর্থে মানুষের স্বপ্নকে রাঙিয়ে তুলি, জীবনের জয়গানের কথা বলি, ফলে এই দুঃসময়ে দাঁড়িয়ে সে কথা ভুলি না। দুঃসময়ের চাপে আহত হলেও আশার কথা ভাবছি, বেদনার্ত হলেও ভাবনাকে জিয়ে রাখছি, প্রতিবন্ধকতা এলেও পথ তৈরি করে নিয়ে আসছি।

উদাহরণ দিয়ে বললে ভালো হয়?

যেমন মহাকাল নাট্যসম্প্রদায় বহুদিনের নাট্যদল, আমি এখন দলটির বর্তমান সভাপতি, আমাদের দলের অনেক নাট্যকর্মী লকডাউন ঘোষনার প্রেক্ষিতে ঢাকা ছেড়ে জেলা শহর গ্রামে ফিরেছে। ঢাকা কিংবা জেলা শহরে সবাইকে আমি বলেছি, নিজে সুরক্ষিত থাকবে, অপরকে সুরক্ষা দেবে এবং শত প্রতিকুলতার মধ্যে, গৃহবন্ধি দশায়ও সীমিত পরিসরে নটকের চর্চা চালিয়ে যাবে। আমার দলের সেক্রেটারি অভিনেতা শাহনেওয়াজ ফেসবুক মাধ্যমে মঞ্চের আবহে করোনা সচেতনতার অভিনয় করেছে এবং দলের সিনিয়র সদস্য আবু আজাদ বন্যা আসার আগেই সকলকে কৃষকের পাশে দাড়িয়ে সকলকে কৃষকের ফসল ঘরে তোলার কথা অভিনয়ের মাধ্যমে একই ভাবে তুলছে। এর পাশাপাশি মহাকাল তাদের নতুন প্রযোজনা মঞ্চায়নর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

নতুন প্রযোজনা মঞ্চায়নের প্রসঙ্গে বলুন

যেহেতু বর্তমানে সামাজিক দূরত্ব মেনেই সকল কিছু করতে হচ্ছে। ফলে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, সামনে একক অভিনয়ের নাটক মঞ্চে আনব। নাটকের মহড়া হচ্ছে ফেসবুকে আমাদের নিজস্ব গ্রুপে। নাটকের বিষয় নির্বাচনে আমরা চিকিৎসা সেবাকে প্রাধান্য দিয়েছি। আমরা জানি দেশ মাতৃকার রক্ষার প্রশ্নে সেনাবাহীনি সর্বদা সবার আগে। এবারে বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাস সংক্রমিত রুগীদের বাঁচাতে, ডাক্তার, নার্স, ট্যাকনিসিয়ান, অথবা চিকিৎসা সেবায় জড়িত সকলে নিজর জীবনের ঝুকি নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। ফলে চিকিৎসকের প্রতি, চিকিৎসা সেবার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করতেই আমাদের আগামীর মঞ্চায়ন ডঃহ্যানিম্যান। হোমিওপ্যাথী চিকিৎসা শাস্ত্রের জনক ডঃ হ্যানিম্যানকে নিয়ে নাটকটি। নাটকটি রচনা করেছেন অপূর্ব কুমার কুন্ড।

নাটকটি থেকে দর্শক কি পাবে বলে আপনি মনে করেন?

হয়তো অভয়। মহামারির এই আতংকের মাঝে, এই অভয় পাওয়াটাই এখন সবচেয়ে বড় বেশি জরুরী, নাটকের অন্তিম মুহুর্তে ডঃ হানিম্যান বলেছেন, লেডিস এন্ড জেন্টেল ম্যান, কবিরাজী, আয়ুর্বেদী, হোমিও প্যাথী, আ্যালো প্যাথী সকল চিকিৎসা মাধ্যম শেষ পর্যন্ত রুগীর হারানো স্বাস্থ পুনঃরুদ্ধার করছে। আপনি আপনার সামর্থ্য সুযোগ এবং রুচি অনুযায়ী আপনার পথ অবলম্বন করবেন। কিন্তু জানবেন, মানুষ মরণশীল কিন্তু রোগের চিকিৎসা আছে। অবয়টা হলো কোভিড ১৯ ভাইরাসটিও চিকিৎসা সেবার কাছে পরাস্থ হচ্ছে এবং হবে।