স্মৃতির দেয়ালে থাকবে তাদের গাথা

image

নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়ায় ভরদুপুরে একদল তরুণ দেয়ালচিত্র আঁকছে। শুরুতে যার প্রতিকৃতি ফুটে উঠলো; তিনি সিলেট এএমজি মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক ডা. মঈন উদ্দীন। তার পাশেই রঙ-তুলির আচড়ে ফুটে উঠলো পুলিশ কনস্টেবল জসিম উদ্দিন, সংবাদিক হুমায়ুন কবির খোকন, ব্যাংক কর্মকর্তা মুজতবা শাহরিয়ারের মুখাবয়ব। প্রত্যেকেই করোনা দুর্যোগে সম্মুখভাগে কাজ করতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন। তাদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই এই দেয়ালচিত্র।

নারায়ণগঞ্জ চারুকলা ইনস্টিটিউটের কিছু প্রাক্তন শিক্ষার্থীর সহযোগিতায় এই উদ্যোগ নিয়েছে গণসংহতি আন্দোলন। করোনাভাইরাসের মতো মহামারী দুর্যোগেও যারা ভুলেননি পেশাগত দায়িত্ব, প্রাণ যাওয়ার ঝুঁকিতেও পিছু হটেননি; সেই বীর যোদ্ধাদের প্রতি সম্মান জানাতেই এই দেয়ালচিত্র অঙ্কন, জানালেন গণসংহতি আন্দোলনের জেলা সমন্বয়কারী তরিকুল সুজন।

তিনি বলেন, করোনা দুর্যোগে দেশে বিভিন্ন পেশার যে সকল করোনাসৈনিক তাদের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন তাদের স্মরণে এই দেয়ালচিত্র।

শহরের মন্ডলপাড়া পুল এলাকায় একটি দেওয়ালে আঁকা হয়েছে মুখোশ পড়া কিছু মুখচ্ছবি। দাঁড়িয়ে দেখছিলেন কবি আরিফ বুলবুল। তিনি বলেন, করোনার আগের পৃথিবী আর করোনার পরের পৃথিবী এক নয়। এইযে মুখোশ পড়া ছবি আঁকা হচ্ছে, আমরা মুখোশ পড়তে বাধ্য হয়েছি। এই সময়ে অনেকের অন্তরের মুখোশ খুলে যাবে। আর এই অন্তরের মুখোশ খুলে যাওয়ার কারণেই করোনা পরবর্তী সময়ে এক নতুন যুগের সূচনা হবে। করোনাকালের সাক্ষী হিসেবে এই ছবিগুলো রাস্তার দেওয়ালে-দেওয়ালে থেকে যাবে। এটা একটা অসাধারণ কাজ হচ্ছে বলে আমি মনে করি।

উদ্যোগ সম্পর্কে গণসংহতি আন্দোলনের জেলা সমন্বয়কারী তরিকুল সুজন বলেন, ডাক্তার-নার্স-স্বাস্থ্যকর্মী, পুলিশ-প্রশাসন, সাংবাদিক, ব্যাংক কর্মকর্তা, গামেন্ট শ্রমিক, শ্রমজীবি মানুষ, ছাত্ররা সরকারের অব্যবস্থাপনায় মারা যাচ্ছে। করোনার বিরুদ্ধে মানুষ জান দিয়ে লড়ছে। এই বাস্তবতাকে একাত্তরের রণাঙ্গনের সাথে তুলনা করা যায়। এদেশের মানুষের জান বাজি রাখা উদ্যোগ করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় মানুষের কাছে আশার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আমরা স্বপ্ন ও সাহস ছড়িয়ে দিতে চাই। চাই ছড়িয়ে দিতে করোনার বিরুদ্ধে সর্তকতা। প্রাণ-প্রকৃতি-পরিবেশ ধ্বংস করে মানুষ টিকে থাকতে পারে না, পারবে না। তাই মানুষের অসীম সাহস, উদ্যোগ আর জান বাজি রাখা প্রচেষ্টাকে রূপ দিতে চাই শহর জুড়ে দেয়ালচিত্রে। এ কাজ আমরা ধারাবাহিকভাবে চালিয়ে যাবো। পর্যায়ক্রমে শহরের সবগুলো দেয়ালজুড়ে এ কার্যক্রম চলবে।