কর ব্যবস্থায় দুর্নীতি রয়েছে

image

রাজধানীর একটি হোটেলে সিপিডির ‘ব্যক্তি খাতের আয়কর আহরণে বাংলাদেশের সম্ভাবনা’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে বক্তারা -সংবাদ

দেশের ৬৫ শতাংশ মানুষ মনে করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর ব্যবস্থায় দুর্নীতি রয়েছে। পাশাপাশি ৫০ শতাংশ মানুষ মনে করে এনবিআরের কর ব্যবস্থা অত্যন্ত জটিল। বৃহস্পতিবার রাজধানীর একটি হোটেলে ‘ব্যক্তি খাতের আয়কর আহরণে বাংলাদেশের সম্ভাবনা’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদেনটি প্রকাশ করেন সিপিডির সিনিয়র রিসার্চ ফেলো তৌফিকুল ইসলাম খান। গবেষণা প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয় ১ হাজার ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন- সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা অর্থনীতিবিদ ড. এবি মির্জা আজিজুল ইসলাম, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া, বাংলাদেশে নিযুক্ত আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) আবাসিক প্রতিনিধি রাগনার গুডমান্ডসন, মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এমসিসিআই) সভাপতি ব্যারিস্টার নিহাদ কবির, সিপিডির সম্মানীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান, নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন প্রমুখ।

গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৮ সালের জরিপে উল্লেখ করা হয় বিগত বছরগুলোতে কেবল ৩২ শতাংশ মানুষ আয়কর দিয়েছেন। এর মধ্যে উচ্চ আয়ের ২৫ শতাংশ মানুষের এক-তৃতীয়াংশ গত বছর আয়কর দেননি। যারা করেছেন তাদের মধ্যে অনেকে কর ফাঁকি দিয়েছেন। জরিপের ৭৫ শতাংশ মানুষ মনে করেন কর ব্যবস্থায় ধনী-গরিবের মধ্যে পক্ষপাতদুষ্ট। ৫০ শতাংশ মানুষ মনে করেন এখনকার কর ব্যবস্থা অত্যন্ত জটিল। ৮৫ শতাংশ মানুষ মনে করেন এনবিআরের সেবা ও তার গুণগত মান বৃদ্ধি করলে জনগণ কর দিতে উৎসাহিত হবে।

সিপিডির সুপারিশে বলা হয়, কর অফিসকে একটি দুর্নীতিমুক্ত প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত করে মানুষের মধ্যে আস্থা বৃদ্ধি করা, ধনী অথচ কর ফাঁকি দেন এমন ব্যক্তিদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করা, সমতাভিত্তিক কর ব্যবস্থা বিকশিত করা। এরই পরিপ্রেক্ষিতে অধিকতর ন্যায্য এবং আধুনিক সম্পত্তি ও সম্পদ কর চালু করা। কর নীতি প্রণয়ন এবং বাস্তবায়নের সময় অংশগ্রহণমূলক ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা। একই সঙ্গে যে কোন নীতি প্রণয়নের আগেই যথাযথভাবে এর প্রভাব বিশ্লেষণ করা এবং অধিকতর শিক্ষিত ও আনুষ্ঠানিকভাবে কর্মরতদের কর দেয়ার সম্ভাবনা বেশি বিধায় আনুষ্ঠানিক খাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি করাসহ ১০ দফা সুপারিশ জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে দেয়া হয়।

পরে দুটি গবেষণার মধ্যে ‘ব্যক্তি খাতের আয়কর আহরণে বাংলাদেশের সম্ভাবনা’ শীর্ষক গবেষণার উপর অংশ নিয়ে এনবিআরের চেয়ারম্যান বলেন, প্রতি বছর সরকারে বাজেটের আকার বাড়ছে। তার জন্য করের আওতা বাড়াতে হচ্ছে। আর তাই করের আওতা বাড়ানোর একটি পরিকল্পনা নিয়েছে। তা হচ্ছে- ঢাকা শহরের যতো ফ্ল্যাট ও বাড়ি আছে, এগুলো জরিপ করা হবে। এই ফ্ল্যাট ও বাড়ির মধ্যে থাকা ভাড়াটে ও ফ্ল্যাটের মালিকদের সবাইকে রিটার্নের মাধ্যমে আগামী ৬ মাসে করের আওতায় নিয়ে আসা হবে। তার জন্য একটি টিম কাজ করছে।

পাশাপাশি ঢাকার অফিসগুলো বৃদ্ধি করে উপজেলা পর্যায়ে নেয়া হবে। উপজেলার রিসোর্স সেন্টার, ব্যবসায়ী এবং জনপ্রতিনিধিদের করের আওতায় আনার বিষয়ে নজর দেবে কর্মকর্তারা। সরকার কাস্টমস, ভ্যাট এবং ট্যাক্স- এ তিনটি সোর্স থেকে রাজস্ব আহরণ করে উল্লেখ করে মোশাররফ হোসেন বলেন, কিন্তু বিশ্বায়নের ফলে আগামীতে কাস্টমস ডিউটি কমবে। ত?াই আমাদের ইনকাম ট্যাক্সকে গুরুত্ব দিতে হবে। আর করের আওতা বাড়ানোর জন্য রিটার্নধারীদের সংখ্যা বাড়াতে হবে। তিনি বলেন, এখন সারাদেশে ই-টিআইয়েনের সংখ্যা ৩৮ লাখের বেশি। কিন্তু তার মধ্যে ২০ লাখ রিটার্ন দিচ্ছে না।

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য দেশে সুশাসন জরুরি। তিনি বলেন, সামগ্রিকভাবে দেশে সুশাসন নেই, বিচারহীনতার সংস্কৃতি চলছে। অপরাধীদের দায়মুক্তি দেয়া হচ্ছে, সেখানে এনবিআর চেয়ারম্যান রাজস্ব খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে পারেন না। তিনি বলেন, বিশেষ বিশেষ ব্যক্তিকে করছাড় দেয়া হয়। এছাড়া কেউ অপরাধ করেও শাস্তি পায় না।

রাগনার গুডমান্ডসন বলেন, মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) বিপরীতে বাংলাদেশে কর আদায় একেবারে কম। জিডিপির অনুপাতে মাত্র ৯ শতাংশ কর আদায় হয়। দক্ষিণ এশিয়াতে এটি সর্বনিম্ন। ফলে কর আদায় বাড়াতে হবে।

মির্জা আজিজ বলেন, সরকার ৭ দশমিক ৮৬ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধির কথা বলছে। কিন্তু দেশে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়েনি। আবার লেবার সার্ভে রিপোর্ট বলছে, কর্মসংস্থান বেড়েছে। ফলে এর সঙ্গে অর্থনীতির স্বাভাবিক হিসাবের মিল পাওয়া যায় না। তিনি বলেন, কর আদায়ে বড় ধরনের দুর্বলতা রয়েছে। কারণ ২০১৭ সালে নেপালের মাথাপিছু আয় ছিল এক হাজার ৩৩০ মার্কিন ডলার। কর আদায় জিডিপির ১০ শতাংশের কম। কিন্তু আলোচ্য সময়ে নেপালের মাথাপিছু আয় ছিল ৭৩০ মার্কিন ডলার। আর কর আদায় হয়েছে জিডিপির ২৪ শতাংশ। অর্থাৎ কম আয় করেও তারা বেশি কর আদায় করতে পারছে। ফলে এখানে নজর দিতে হবে। বিশেষ করে কর আদায়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়াতে হবে। এ সময়ে কর নীতি ও কাঠামোয় পরিবর্তন আনার সুপারিশ করেন তিনি।

তিন মাসে বাণিজ্য ঘাটতি ৩২ হাজার কোটি টাকা

image

এগারো এগারো তে ৮০% পর্যন্ত ছাড় থাকবে মীরবাজারে

image

খুলনা পাওয়ারের শেয়ার লেনদেন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত খুলনা পাওয়ারের শেয়ার লেনদেন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত

নতুন রপ্তানি নীতিতে গুরুত্ব পাচ্ছে রপ্তানিমুখী শিল্প খাত

image

বিশ্বব্যাংকের ডুয়িং বিজনেস সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান এক ধাপ এগোলেও চুক্তি বাস্তবায়ন সূচকে সবচেয়ে পিছিয়ে

image

কৃষি ঋণে বেসরকারি ব্যাংকের নজর কম

image

রান্নার ঝামেলা এড়াতে হিমায়িত খাবার জনপ্রিয় হয়ে উঠছে

image

চামড়া শিল্পে শিশুশ্রম, দূষণ ও স্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ প্রকাশ

image

এক শাখায় ৩ বছরের বেশি থাকতে পারবেন না ব্যাংক কর্মকর্তারা

image