খুলনা পাওয়ারের শেয়ার লেনদেন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত খুলনা পাওয়ারের শেয়ার লেনদেন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করেছে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। বাজার ও বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডিএসইর দুই পরিচালক।

সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অধ্যাদেশ-১৯৬৯’র ৯ ধারার ৭ উপধারা ও ডিএসই লিস্টিং রেগুলেশন-২০১৫’র ৫০ (১) অনুযায়ী ডিএসইর পরিচালনা পর্ষদের বুধবারের সভায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

এর আগে গত ৪ নভেম্বর খুলনা পাওয়ারের ১ কোটি ৮০ লাখ ৬৪ হাজার ২৩৫টি শেয়ার বিক্রির ঘোষণা দেয় কোম্পানিটির করপোরেট উদ্যোক্তা সামিট করপোরেশন। অথচ কোম্পানিটির ২০১৭-১৮ অর্থবছরের লভ্যাংশ সংক্রান্ত বিষয়ে আগামী ২২ নভেম্বর রেকর্ড ডেট রয়েছে। এমতাবস্থায় রেকর্ড ডেটের আগে শেয়ার বিক্রি করলে লভ্যাংশ পাওয়া যাবে না।

এদিকে খুলনা পাওয়ারের শেয়ার বিক্রির ঘোষণার দিন কোম্পানিটির শেয়ারের দাম ১১১ টাকা ৯০ পয়সা থেকে কমে ১০২ টাকা ৪০ পয়সায় নেমে আসে। যা পরের দিন ৫ নভেম্বর আরও কমে ৯২ টাকা ৪০ পয়সায় দাঁড়ায়। প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারের দাম কমার পাশাপাশি গত চার কার্যদিবস শেয়ারবাজারে টানা পতন হয়।

ডিএসইর পরিচালক শরিফ আতাউর রহমান বলেন, পুঁজিবাজার ও বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে খুলনা পাওয়ারের শেয়ার লেনদেন স্থগিত করা হয়েছে। তবে এই লেনদেন কত দিন বন্ধ থাকবে তা তিনি জানাতে পারেননি।

এ বিষয়ে আতাউর রহমান বলেন, কোম্পানিটির শেয়ার কত দিন বন্ধ থাকবে সে বিষয়ে পর্ষদ সভায় সিদ্ধান্ত হয়নি। সামনে কোম্পানিটি লভ্যাংশ দেবে। এ পরিস্থিতিতে লভ্যাংশ না নিয়ে উদ্যোক্তার শেয়ার বিক্রি করে দেয়া ভালো লক্ষণ না। লভ্যাংশ না নিয়ে কেন শেয়ার বিক্রি করে দেয়া হচ্ছে? এটা বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে, তাই এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

খুলনা পাওয়ারের শেয়ার দর গত সেপ্টেম্বর মাসে অস্বাভাবিক হারে বাড়ে। ওই মাসে কোম্পানিটির শেয়ার ৭০ টাকা থেকে ১৩৮ টাকায় পৌঁছায়। যা এক মাসের ব্যবধানে প্রায় দ্বিগুণ হয়। তবে এর পেছনে কোন যৌক্তিক কারণ ছিল না বলে ডিএসইর অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে।

ডিএসইর পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন বলেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শেয়ারবাজারে মন্দাবস্থা যাচ্ছে। যা কাটিয়ে তুলতে প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে সবাই চেষ্টা করছেন। সেই মুহূর্তে খুলনা পাওয়ারের প্রায় ২ কোটি শেয়ার বিক্রি বাজারের জন্য বিপর্যয় বয়ে আনবে। যে বিক্রির চাপ শেয়ারবাজার এই মুহূর্তে নিতে পারবে না। তাই সার্বিক বাজার ও বিনিয়োগকারীদের স্বার্থের কথা ভেবে খুলনা পাওয়ারের লেনদেন স্থগিত করা হয়েছে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ৪ তারিখে বিক্রির ঘোষণা দিলেও মাঝের সময়টুকু সংশ্লিষ্ট কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছে। যাতে তারা ব্লকে শেয়ারগুলো বিক্রয় করে। কিন্তু তাতে সাড়া পাওয়া যায়নি। তাই বুধবার খুলনা পাওয়ারের শেয়ার লেনদেন স্থগিত করা হয়েছে।

অপর এক প্রশ্নের উত্তরে ডিএসইর এই পরিচালক বলেন, কত দিনের জন্য খুলনা পাওয়ারের লেনদেন স্থগিত থাকবে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়নি। সুতরাং কোম্পানিটির শেয়ার অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত থাকবে।

এদিকে বাজারের বর্তমান অবস্থায় খুলনা পাওয়ারের প্রায় ২ কোটি শেয়ার বিক্রির ঘোষণার প্রেক্ষিতে ডিএসই ও ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ডিবিএ) এক বৈঠক ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়।

গত মঙ্গলবার (৬ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত ওই বৈঠক শেষে রকিবুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, উদ্যোক্তা/পরিচালকরা ২০০৯-১০ সালে শেয়ার বিক্রি করে বাজারের ক্ষতি করেছে। তারা এখনও শেয়ার বিক্রি করছেন। যে কারণে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা যে শেয়ারই কিনছে, সেটাতেই লোকসান হচ্ছে। এমন হলে শেয়ারবাজারে থাকা মুশকিল হবে।