পাঁচ বছরে নতুন ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ২৪০০ কোটি টাকা

image

অনুমোদনের পাঁচ বছরের মাথায় খেলাপি ঋণের খাতায় নাম লিখিয়েছে নতুন নয়টি নতুন ব্যাংক। ২০১৩ সাল থেকে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করে এই ব্যাংকগুলো। চলতি বছরের জুন পর্যন্ত নতুন ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৪২০ কোটি টাকা। এদিকে নতুন ব্যাংকগুলোর ঋণ খেলাপির কারণে ঝুঁকি বাড়ছে অর্থখাতে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের জুন পর্যন্ত নতুন ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণের পরিমাণ ২ হাজার ৪২০ কোটি টাকা। যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল মাত্র ৭১৩ কোটি টাকা। এতে এক বছরের ব্যবধানে এসব ব্যাংকের খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১ হাজার ৭০৭ কোটি টাকা।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, খেলাপি ঋণের চাপে সার্বিক ব্যাংক ব্যবস্থা নাজুক। তবে নতুন ব্যাংকগুলো আশানরুপ কাজ করতে পারেনি। ফলে খেলাপি ঋণের পালা আরও ভারি হয়েছে।

নতুন ব্যাংকের মধ্যে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ খেলাপি ঋণ রয়েছে দি ফারমার্স ব্যাংকের। আলোচ্য সময়ে ব্যাংটির খেলাপি ঋণের পরিমান দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৫২১ কোটি টাকা। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ খেলাপি ঋণের তালিকায় রয়েছে এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক। এ সময়ে খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে ব্যাংকটির ২৭৩ কোটি টাকা। যা এক বছর আগে ছিল ১৯১ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। খেলাপি ঋণের তৃতীয় শীর্ষস্থানে রয়েছে মেঘনা ব্যাংক। বর্তমানে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ রয়েছে ১৬২ কোটি ২৬ লাখ টাকা। যা আগের বছর একই সময়ে ছিল মাত্র ৫৫ কোটি ৩৮ লাখ টাকা।

এছাড়া এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের ঋণ খেলাপি হয়েছে ১১১ কোটি ৩১ লাখ টাকা। যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ৬৩ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। এনআরবি ব্যাংকের খেলাপি ঋণ রয়েছে ১১১ কোটি ৩০ লাখ টাকা ইউনিয়ন ব্যাংকের ঋণ খেলাপি হয়েছে ৭৪ কোটি ৪০ লাখ টাকা। চলতি বছরের জুন পর্যন্ত মিডল্যান্ড ব্যাংকের খেলাপি ঋণ হয়েছে ৬৫ কোটি ২৮ লাখ টাকা। সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংকের ঋণ খেলাপি হয়েছে ৫৪ কোটি টাকা। যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ১১ কোটি টাকা।

উল্লেখ, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত সময়ে ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়েছে ১৫ হাজার ৩৭ কোটি টাকা। মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮৯ হাজার ৩৪০ কোটি টাকা। এছাড়া গত ডিসেম্বর পর্যন্ত ব্যাংকিং খাতের প্রায় ৫৫ হাজার ৩১১ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ অবলোপন বা রাইটঅফ করা হয়েছে।

এ ঋণ যোগ করলে দেশের ব্যাংকিং খাতের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১ লাখ ৪৪ হাজার ৬৫১ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়।