পরীক্ষার সময় কোচিং সেন্টার খোলা রাখার আবদার জানিয়েছে অ্যাসাব

image

গত দু’বছর এসএসসি ও এইচএসসি এবং সম্প্রতি শেষ হওয়া এসএসসি পরীক্ষার সময়ও সারাদেশের কোচিং সেন্টার বন্ধ রাখায় পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ উঠেনি। কারণ এতদিন কোচিং সেন্টারগুলোর বিরুদ্ধে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ছিল। কিন্তু এবার পাবলিক পরীক্ষার সময় কোচিং সেন্টার খোলা রাখার আবদার জানিয়েছে কোচিং সেন্টার মালিকদের সংগঠন ‘অ্যাসোসিয়েশন অব শ্যাডো এডুকেশন বাংলাদেশ’ (অ্যাসাব)। ২০ মার্চ বুধবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে ‘অ্যাসাব’র এক সংবাদ সম্মেলনে এ আবদার জানানো হয়। এতে বিভিন্ন কোচিং সেন্টারের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক উপস্থিত ছিলেন।

অ্যাসোসিয়েশন অব শ্যাডো এডুকেশন বাংলাদেশ’র নেতারা দাবি করেন, পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে কোচিং সেন্টারগুলোর কোনো সম্পর্ক নেই। কারণ প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, বিতরণ থেকে শুরু করে এ সংক্রান্ত কোনো পদক্ষেপের সঙ্গে কোচিং সেন্টারগুলো কোনোভাবেই যুক্ত নয়। উল্টো পাবলিক পরীক্ষার সময় প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ রাখার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা।

সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে অ্যাসাবের আহ্বায়ক ও ই হক কোচিং সেন্টারের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ইমদাদুল হক দাবি করেন, ‘২০১৮ সালে প্রথমবারের মতো মাধ্যমিক পরীক্ষা চলাকালে কোচিং সেন্টারগুলো বন্ধ রাখার নির্দেশ জারি করা হয়। কিন্তু সেই পাবলিক পরীক্ষাতেই প্রশ্নফাঁস সবচেয়ে বেশি হয়েছে। এর থেকে প্রতীয়মান হয় যে ফ্রি ল্যান্সারদের দ্বারা পরিচালিত কোচিং সেন্টারগুলোর সঙ্গে প্রশ্নফাঁস হওয়া বা না হওয়া সম্পর্কযুক্ত নয়।’

প্রকৃতপক্ষে ওই পরীক্ষার সময় প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ উঠেনি। এজন্য সম্প্রতি শেষ হওয়া এসএসসি পরীক্ষার সময়ও কোচিং সেন্টার বন্ধ রাখা হয়েছিল; এবং এবারও প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ উঠেনি বলে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ শাখার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। তারা জানান, আগামীতেও একই সিন্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হবে।

ইমদাদুল হক আরও দাবি করেন, ২০১৭ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে ১৯০ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন। তাদের কেউই কোচিং সেন্টারের সঙ্গে জড়িত নন।’

এদিকে পরীক্ষার সময় কোচিং বন্ধ রাখা নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি গত ১৩ মার্চ সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘তথ্য পেয়েছি, প্রশ্নফাঁসের বিষয়টার সঙ্গে অনেক সময় অনেক কোচিং সেন্টারকে জড়িত থাকতে দেখা গেছে। সে কারণে পরীক্ষার সময় বন্ধ রাখার বিষয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।’