৪১তম বিসিএস

বাংলা বিষয়ের প্রস্তুতি

image

করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ৪১তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা অনষ্ঠিত হবে। নিশ্চই এখন চলছে পুরোদমে প্রস্তুতি। প্রথম ধাপে পরীক্ষার্থীকে দুই ঘণ্টা সময়ে ১০টি বিষয়ের ওপর ২০০ নম্বরের এমসিকিউ প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। মোট নম্বরের মধ্যে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে ৩৫, ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্যে ৩৫, বাংলাদেশ বিষয়ে ৩০, আন্তর্জাতিক বিষয়ে ২০, ভূগোল পরিবেশ ও দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিষয়ে ১০, সাধারণ বিজ্ঞান বিষয়ে ১৫, কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে ১৫, গাণিতিক যুক্তি বিষয়ে ১৫, মানসিক দক্ষতায় ১৫, নৈতিকতা, মূল্যবোধ এবং সুশাসন বিষয়ে ১০ নম্বরের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি ভুল উত্তরের জন্য কাটা যাবে অর্ধেক নম্বর।

আজ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিষয়ের ভালো করার কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ উপস্থাপনা করা হলো।

বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিষয়ে বরাদ্দকৃত মোট ৩৫ নম্বর প্রশ্নের মধ্যে সাধারণত ব্যাকরণ অংশ থেকে ১৫টি এবং সাহিত্য অংশে ২০টি প্রশ্ন সহ মোট ৩৫ নম্বরের প্রশ্ন থাকে। এখানে বলে রাখা জরুরি দুটি অংশের নম্বর কিংবা প্রশ্ন সংখ্যার হেরফের থাকলেও ৩৫ কিন্তু ঠিকই থাকবে। সংস্কৃত ব্যাকরণ অনুসরণে রচিত বাংলা ব্যাকরণ আয়ত্ব করাটা আসলেই কিছুটা কঠিন। এখানে আপনাকে কিছু বিষয় বুঝে চর্চা করতে হবে আবার কিছু বিষয় সরাসরি মুখস্থ করতে হবে।

ব্যাকরণের জন্য নবম-দশম শ্রেণীর ব্যাকরণ বইটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সঙ্গে বিগত বছরগুলোতে অনুষ্ঠিত পরীক্ষার নমুনা প্রশ্নগুলোও চর্চা করবেন সমান গুরুত্ব দিয়ে। ব্যাকরণের ক্ষেত্রে কিছু বিষয়কে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিতে হবে। যেমন সন্ধি, উপসর্গ, সমাস, নত্ব-বিধান ও ষত্ব- বিধান, সমার্থক ও বিপরীত শব্দ, প্রত্যয়, ধ্বনি পরিবর্তন ইত্যাদি।

এছাড়া শুদ্ধীকরণ অংশে শব্দের বিশেষ অর্থে প্রয়োগ, বানান ও বাক্য শুদ্ধি, লিঙ্গের অপপ্রয়োগ, সন্ধি ও সমাসের অপপ্রয়োগ খুব ভালো করে পড়তে হবে। কঠিন বানানের প্রতি অতিরিক্ত খেয়াল রাখতে হবে। এক্ষেত্রে বারবার লিখে চর্চা করলে ভালো ফল পাওয়া যাবে। পরিভাষা থেকে নিয়মিতই প্রশ্ন আসে। তাই অনুশীলনে এটিকে গুরুত্ব দিন। মাঝে মাঝে নিপাতনে সিদ্ধ স্বরসন্ধি, নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জনসন্ধি, বিশেষ নিয়মে সাধিত ব্যঞ্জনসন্ধি, নিপাতনে সিদ্ধ বিসর্গ সন্ধি বিষয়গুলোকে একটু মনোযোগ দিয়ে খেয়াল করুন। প্রচলিত যুক্তবর্ণগুলো ভেঙে ভেঙে পড়ুন দেখবেন সহজেই আয়ত্ব করতে পারবেন।

বিদেশি শব্দের মধ্যে আরবি, ফারসি, পর্তুগিজ, তুর্কি, ফরাসি ও মিশ্র শব্দসমূহ জানার চেষ্টা করুন। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস ও বিবর্তন প্রাচীন যুগে চর্যাপদ বৃত্তান্ত এবং এক্ষেত্রে হরপ্রসাদ শাস্ত্রী, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ ও সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের অবদানগুলো ভালোভাবে জেনে নিন।

মধ্যযুগের মঙ্গলকাব্য, মুসলিম সাহিত্য ও অনুবাদ সাহিত্য, যুগসন্ধিক্ষণ ও ঈশ্বর চন্দ্রগুপ্ত সম্পর্কে ভালো ধারণা থাকতে হবে।

ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ, উইলিয়াম কেরি সম্পর্কে জানতে হবে কেননা আধুনিক বাংলা সাহিত্য প্রসারলাভের ক্ষেত্রে এই প্রতিষ্ঠান এবং ব্যাক্তির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

আধুনিক যুগের সাহিত্যিকদের মধ্যে ঈশ্বরচন্দ্র, রাজা রামমোহন, বঙ্কিমচন্দ্র, মাইকেল মধুসূদন, মীর মশাররফ হোসেন, রবি ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, জসীমউদ্দীন, রোকেয়া, ফররুখ আহমদ, কায়কোবাদ, শরৎচন্দ্র, আখতারুজ্জামান ইলিয়াস, আহসান হাবীব, জীবনানন্দ দাশ, জহির রায়হান, তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, বিহারীলাল চক্রবর্তী, মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, মুনীর চৌধুরী, শওকত ওসমান, শামসুর রাহমান, সুফিয়া কামাল, সমর সেন, সৈয়দ শামসুল হকসহ প্রমুখ ব্যক্তি সম্পর্কে ভালোভাবে জানুন।

প্রগতিশীল লেখকদের মধ্যে আহমদ ছফা, হুমায়ুন আজাদ, আহমদ শরীফ, বদরুদ্দিন ওমর, আবদুল্লাহ আল মামুন, জাহানারা ইমাম, আরজ আলী মাতুব্বর, নির্মলেন্দু গুণ, মহাদেব সাহা রচিত গ্রন্থসমূহ সম্পর্কে জেনে নিন।

বিভিন্ন শ্রেণীর পাঠ্যবইয়ের গল্প, কবিতা, প্রবন্ধ ও উপন্যাসগুলো মনোযোগ দিয়ে পড়ুন। সঙ্গে এর চরিত্র, কাহিনি ও কঠিন শব্দের অর্থগুলো আয়ত্ব করুন।

সাহিত্যবিষয়ক সংগঠন যেমন বাংলা একাডেমি, মুসলিম সাহিত্য সমাজ, হিন্দু কলেজ ও ইয়ংবেঙ্গল, বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য সমিতি, সাহিত্যিকদের ছদ্মনাম, উপাধি, বিখ্যাত ভ্রমণকাহিনী পড়বেন।

মুক্তিযুদ্ধ ও ভাষা আন্দোলনবিষয়ক গল্প, কবিতা, গান, প্রবন্ধ, উপন্যাস ও নাটক সম্পর্কেও জানা থাকতে হবে। জানতে হবে এর চরিত্রগুলোও সম্পর্কেও।

বাংলা সাহিত্যে যা কিছু প্রথম, তার তালিকাটাও মনে রাখতে হবে।

সাম্প্রতিক সময়ে গুরুত্বপূর্ণ লেখকের প্রকাশিত লেখাগুলো সম্পর্কে চোখ কান খোলা রাখুন। মনে রাখবেন বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ বলতে আজকের দিন পর্যন্ত সময়কে বোঝায়।