কৌতুকরাজ টেলিসামাদের

image

দেশীয় চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেতা ৬ এপ্রিল শনিবার দুপুর ২টায় রিাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। ঢাকা চারুকলা কলেজের ছাত্র আবদুস সামাদের ওরফে টেলিসামাদের জন্ম ১৯৪৫ সালের ৮ জানুয়ারি বিক্রমপুরে। ছোটবেলা থেকে অভিনয়ের নেশা তাকে এ জগতে টেনে নিয়ে আসে। ষাটের দশকে ‘কার বউ’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে অভিনয় জীবন শুরু, একই সঙ্গে মঞ্চ, টিভি এবং বেতারেও সরব উপস্থিতি ছিল তার। প্রথমে টিভি নাটকে অভিনয় করে জনপ্রিয়তা পেয়েছেন বলে সহকর্মী এবং ভক্তরা তার নাম দিয়েছেন টেলি সামাদ। অভিনয়ের পাশাপাশি চলচ্চিত্র নির্মাণ এবং চলচ্চিত্রের গানেও কণ্ঠ দিয়েছিলেন তিনি। টেলি সামাদ দক্ষ অভিনয়ের স্বীকৃতিস্বরূপ বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে একাধিকবার পুরস্কৃত হয়েছেন। তবে তার আক্ষেপ ছিল জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার থেকে কৌতুক অভিনেতার ক্যাটাগরি বাদ দেয়া নিয়ে। টেলি সামাদ অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে-নয়নমণি, মাটির ঘর, গোলাপী এখন ট্রেনে, দিলদার আলী, অশিক্ষিত, ফকির মজনু শাহ, মধুমিতা, মিন্টু আমার নাম, নদের চাঁদ, দিন যায় কথা থাকে, নওজোয়ান, ভাত দে, সখিনার যুদ্ধ, সোহাগ, পৃথিবী, কথা দিলাম, শেষ উত্তর, হারানো মানিক, চন্দ্রলেখা, লাভ ইন সিঙ্গাপুর, গোলাপী এখন ট্রেনে, মনা পাগলা, সুজন সখী, লাইলী মজনু ইত্যাদি। বলা যায় তার অভিনীত প্রত্যেকটি সিনেমাই ছিল ব্যবসা সফল। কাজী হায়ত পরিচালিত ‘মনা পাগলা’ সিনেমার সঙ্গীত পরিচালক ছিলেন তিনি। টেলিসামাদের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক সমিতি, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতি, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতিসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন। জীবনের শেষ পর্যায়ে এসে টেলিসামাদ বেশ অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। যে কারণে জীবনের শেষ পর্যায়ে এসে দীর্ঘদিনের কর্মস্থল বিএফডিসিতেও যাওয়া আসা করতে পারতেন না বিধায় তার মনের ভেতর অনেক কষ্ট ছিল। তবে টেলিসামাদ সবসময়ই চলচ্চিত্রকে নিজের পরিবারের মতোই মনে করতেন।