সাক্ষাৎকার

নতুন প্রজন্মের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারাটা বড় ব্যাপার

রফিকুল আলম

image

নতুন কি কাজ করছেন?

বর্তমানে অনেক বেশি কাজ হচ্ছে। গত সপ্তাহে জাতিসংঘের ৭৪ তম সাধারন সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সফরসঙ্গী হিসেবে সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেছি। দেশে ফিরেই এখন অসংখ্য গানও রেকর্ডিং হচ্ছে আমার। মানুষ কাজ করতে চায়। যারা সৃষ্টিশীল তারা অনেকে আমাকে দিয়ে গান করাচ্ছেন। গত দুই মাসে মনে হয় প্রায় ১৪টির মতো গান রেকর্ডিং করেছি।

নতুনরা দেশের গানে অনাগ্রহী কেন?

দেশের গান দায়িত্ববোধ থেকে করতে হয়। আমি দেশকে ভালোবাসি তা নিজের ভেতরে যেমন লালন করতে হবে, তা গানে গানেও প্রকাশ করতে হবে। তাছাড়া দেশাত্মবোধক গানে লগ্নি পাওয়া যায় না, স্পন্সরও পাওয়া যায় না। ভালো গানে পৃষ্ঠপোষকতা পাওয়া বড় দুষ্কর।

সিনেমায় দেশের গানের অভাব, গল্পেও দেশপ্রেম নাই, বিষয়টি কি ভাববেন?

তা তো হবেই। এখন তো সিনেমায় নাই। আর দেশের গান করাটা এত সহজ নয়। একটি গান টিকে থাকে কীভাবে তা ভাবতে হবে। যেকোন কাজে সময় দিলে, ফলও ভালো আসে। তাছাড়া ভালো সিনেমা না হলে গান কেমনে হবে। অন্যদিকে সিনেমার সংখ্যা খুবই কমে গেছে।

বর্তমানে মৌলিক গান তৈরি হলেও জনপ্রিয় হচ্ছে না কেন?

একটা গান করতে আমরা আগেকার সময়ে অনেক সময় নিতাম। এখন তা হয় না। আগে আমরা অনেক বৈঠক বা মিটিং করে গান করতাম। অনেক দিন ধরে সে গানটি প্র্যাকটিস করে গান রেকর্ডিং করতাম এখন তা দেখা যায় না। আমাদের সময় গীতিকার অনেক সময় নিয়ে গান লিখতো, সুরকার বারবার অনেক সময় নিয়ে সুর করতেন, পছন্দ না হলে আবার করতেন। আর এখন দিনে দিনে সব শেষ হয়ে যাচ্ছে। ধর মার কাট এর মতো অবস্থা এখন। তাছাড়া নতুনরা সময়ও কম পাচ্ছে, তাই মৌলিক গান হলেও তা টিকে থাকছে না।

এখন ফেসবুক ইউটিউবের যুগ। গানও প্রকাশ হয় ডিজিটাল ফরম্যাটে। আপনার কেমন লাগে?

ফেসবুক ইউটউব ভালো লাগে। আপডেট মাধ্যম। তাছাড়া নতুন প্রযুক্তি বা প্রজন্মের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারাটা বড় ব্যাপার। আমি মানিয়ে নিয়েছি। তাই আমার কাজের ক্ষেত্রে বা গানের জন্য ফেসবুক ইউটিউব ভালো সাপোর্ট দিচ্ছে।

‘আশা ছিল মনে মনে প্রেম করিবো তোমার সনে’ কিংবা ‘বৈশাখী মেঘের কাছে জল চেয়ে তুমি কাঁদবে আমি চাইনি’- এমন অনেক হৃদয়ছোঁয়া গান শুনলেই যার নাম শ্রদ্দার সঙ্গে আসে তিনি বরেণ্য সঙ্গীতশিল্পী রফিকুল আলম। ১৯৭১ সালের স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী রফিকুল আলম। এখনও সমানতালে ব্যস্ত। গত দুইমাসেও ১৪টি নতুন গানে কন্ঠ দিয়েছেন। ব্যস্ততার গল্প জানতে

রফিকুল আলমের সঙ্গে কথা বলে লিখেছেন- আশিক বন্ধু

অন্যান্য সংগঠন বা কাজের খবর?

বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে অনেক গান রেকর্ডিং হচ্ছে। তারই ধারাবাহিকতায় আমারও গাওয়া গান গেছে প্রায় ৫টি। এছাড়াও আমি ৬ বছর ধরে ফিল্ম সেন্সর বোর্ডে আছি। ৫ বছর ধরে জুড়ি বোর্ডে কাজ করছি। এই তো দিনকাল ব্যস্ততায় কেটে যাচ্ছে।

আপনার একক অ্যালবাম ও সিনেমার গান মিলিয়ে সর্বমোট গানের সংখ্যা কেমন?

আমার চারটি একক অ্যালবাম। একক বেশি করিনি। ডুয়েট ও মিক্সড অ্যালবাম আছে বেশকিছু। সিনেমার গানের সংখ্যা প্রায় ৩০০ মতো। আর আমার সর্বমোট গানের সংখ্যা প্রায় আড়াই হাজারেরও বেশি। এখনও বেছে বেছে অনেক গান করে যাচ্ছি। আমার কাছে শ্রোতাদের ভালোবাসা বড়, তারা চায় বলে আমি এখনও গান গেয়ে চলেছি।