প্রাচ্যনাট স্কুল অব অ্যাকটিং অ্যান্ড ডিজাইন ৩৮তম ব্যাচের পথনাটক “সঙ্কটকাল”

image

বাংলাদেশের থিয়েটারের বিস্তারে এবং দক্ষ থিয়েটার কর্মী তৈরীতে সুদীর্ঘ ১৯ বছর ধরে কাজ করে চলেছে প্রাচ্যনাট স্কুল অব অ্যাকটিং অ্যান্ড ডিজাইন। এই স্কুলের ৬ মাসের পাঠ্যসূচিতে একজন প্রশিক্ষনার্থী থিয়াটারের সকল আনুসাঙ্গিক বিষয়ে একটি স্পষ্ট ধারণা পায়। এরই মধ্যে এই স্কুলের ৩৭টি ব্যাচ সফলভাবে তাদের কোর্স সম্পন্ন করেছেন।

প্রাচ্যনাট স্কুলের কোর্স কারিকুলামের অংশ হিসেবে ৩ মাস শেষে শিক্ষার্থীদের সমসাময়িক বিষয় নিয়ে পথনাটকের আয়োজন করা হয়। তারই ধারাবাহিকতায় ৩৮তম ব্যাচ তাদের পথনাটক পরিবেশন করতে যাচ্ছে। এই পথনাটকের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা হাতেকলমে অভিনয় এবং আনুষঙ্গিক বিষয়ে ধারণা লাভ করে।

আজ ১৭ অক্টোবর ২০২০ শনিবার বিকাল ৪টায় স্বোপার্জিত স্বাধীনতা চত্বরে (ডাস) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে প্রাচ্যনাট স্কুল অব অ্যাকটিং অ্যান্ড ডিজাইন-এর ৩৮তম ব্যাচের পথনাটক “সঙ্কটকাল”। নাটকটি রচনা ও নির্দেশনা দিয়েছেন আন্দোলন মিঠুন এবং সঙ্গীত পরিচালনায় ছিলেন এবিএস জেম। কোরিওগ্রাফার হিসেবে কাজ করেছেন ফরহাদ আহমেদ শামীম। প্রাচ্যনাট স্কুল অব অ্যাকটিং অ্যান্ড ডিজাইন সরকার নির্দেশিত সকল স্বাস্থবিধি মেনে চলে এই নাটকের আয়োজন করবে।

নাটকের কথা, সঙ্কটকাল নাটকের শুরুটা হয়, গ্রাম থেকে চাকরির ইন্টার্ভিউ দিতে ঢাকায় আসা সভ্যকে নিয়ে। বৃষ্টিতে রাস্তায় পানি জমে যাওয়ার ফলে, ম্যানহলের মধ্যে পড়ে যায় সভ্য, উঠে দেখে আর এক পায়ের জুতা নাই, এই জুতার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠা সভ্য সবার কাছে ড্রেনের মেইন মাথা কোথায় তা জানতে চায়। কেহ জানে না।

এলাকার কমিশনার, ধারণার উপর নির্ভর করে একটা ঠিকানা বলে দেয়। কাকতালীয় ভাবে সভ্য সেইখানে তার জুতা খুঁজে পায়। আনন্দে নাচতে থাকে সভ্য, পাশে থাকা একটি ছেলে কারণ জানতে চাইলে সে মুন্সি ফকিরের কেরামতির কথা বলে, বলে- এইখানে দাঁড়িয়ে মুন্সি পীরের কাছে হাছা দিলে যা মানত করবেন তাই পাইবেন। তারপর ঐ স্যুয়ারেজ লাইন থেকে মানুষের লাশ সহ অনেকে অনেক কিছু পেতে থাকে। আবার ঐসময়েই এলাকার কমিশনারের বিয়া হয়, তার স্ত্রী’র হীরের আংটিও ম্যানহলে পড়ে যায়।

সেই আংটি খুজে পাওয়ার জন্য ওইখানে পুলিশ মোতায়েন হয়। হীরের আংটি খুঁজে পাওয়ার পর, কমিশনার ঐস্থানে মুন্সি পীরের মাজার হবে বলে ঘোষণা দেন। ঐদিকে গ্রামে চলে যাওয়া সভ্য’র “মা” ডাক্তারদের গাফলতিতে মারা যায়। আর বন্যার ত্রান দেয়ার নামে সভ্য’র বউ “শিউলি”কে ডেকে নিয়ে গ্রামের মাতব্বরের ছেলে গণধর্ষন করে।

মারা যায় সভ্যের মা আর বউ। নিঃসঙ্গ সভ্য মৃত্যুকে পিছে ঠেলে বাঁচার আশায় আবার ঢাকা আসে। এসে দেখে ঐ স্যুয়ারেজ লাইনের পাশে “মুন্সি ফকরিরের মাজার হয়ে গেছে”। সভ্যকে দেখে এলাকার ছেলেটি তাকে চিনতে পারে এবং চিৎকার করে সবাইকে জানান দিতে থাকে যে, সে মন্সি পীরের মুরিদ চলে এসেছে