প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের উপর নির্মিত হচ্ছে পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র

প্রধান চরিত্রে নুসরাত ইমরোজ তিশা ও মনোজ প্রামানিক

image

স্বদেশের স্বাধীনতার জন্য বর্তমান বাংলাদেশের চট্টগ্রামের বিপ্লবীদের যে বিস্ময়কর ও সাহসিকতাপূর্ণ অভ্যুত্থান ঘটেছিলো সেই ইতিহাসকে ধারণ করে নির্মিত হচ্ছে কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেনের উপন্যাস ‘ভালোবাসা প্রীতিলতা’ অবলম্বনে পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘ভালোবাসা প্রীতিলতা’। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ২০১৯-২০ অর্থবছরের অনুদানে পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ভালোবাসা প্রীতিলতা চলচ্চিত্রটি প্রযোজনা ও পরিচালনা করছেন প্রদীপ ঘোষ।

আজ ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০ বীরকন্যা প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের ৮৮তম আত্মাহুতি দিবস উপলক্ষে চলচ্চিত্রটির শুভ মহরত অনুষ্ঠিত হয়। কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেনর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে আলোচনা করেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহ্মুদ এম.পি। বিশেষ অতিথি চট্টগ্রাম বিশ^বিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. শিরীণ আখতার, বিশিষ্ট সংগঠক, আমিন হেলালী ।

তথ্যমন্ত্রী বীরকন্যা প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, ভারতের স্বাধীনতার ইাতহাস বাঙ্গালির রক্তে রঞ্জিত হয়েছিলো। সারা ভারতের স্বাধীনতার স্বপ্নকে আন্দোলিত করেছিলো চট্টগ্রামের যুববিদ্রোহ। মাস্টারদা সূর্য সেনের নেতৃত্বে সাহসিকতাপূর্ণ অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে চট্টগ্রাম চার দিন স্বাধীন ছিলো। দুইশত বছরের বৃটিশ শাসন-শোষণের শৃংখল মোচনে, বীর চট্টলার মাটিতে জন্ম নেয় বীর নারী প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ২০১৯-২০ অর্থবছরের নির্মিতব্য এই চলচ্চিত্রটি নতুন প্রজন্মকে স্বদেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা এবং তাঁর পরিবারের সকল সদস্যই সংস্কৃতি অনুরাগী ছিলেন। চলচ্চিত্র কেবল বিনোদণের মাধ্যম নয় বরং দেশের সংস্কৃতি বিনির্মাণে চলচ্চিত্র একটি শক্তিশালী মাধ্যম। এই চলচ্চিত্র আগামী প্রজন্মের চেতনা বিকাশে সহায়ক হবে।

বিশেষ অতিথি চট্টগ্রাম বিশ^বিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. শিরীণ আখতার বলেন, আমরা সরকারের কাছে কৃতজ্ঞ এই কারণে যে, ঔতিহাসিক ঘটনার বিবরণ নিয়ে নির্মিত এই চলচ্চিত্র বাঙ্গালির সংগ্রামের আত্মপরিচয়কে সমৃদ্ধ করবে। বাংলার মাটিতে যে সকল বিপ্লবীরা জীবন দিয়ে স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখেছিলেন তাদের সকলের প্রতি সম্মান জানানো আমাদের দায়িত্ব। চট্টগ্রামের যুববিদ্রোহ বাঙ্গালি জাতির সকল আন্দোলনকে শক্তি যুগিয়েছিলো।

আজ ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০ বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর মিলনায়তনে আয়োজিত শুভ মহরতে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন গণযোগাযেগ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জনাব আকতার হোসেন, চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জনাব স. ম. গোলাম কিবরিয়া, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ড এর ভাইস চেয়ারম্যান জনাব মো. জসীম উদ্দিন, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ড এর সচিব মুমিনুল হক জীবন, নাট্যজন শংকর সাওজাল, ঢাকা ১০ নং ওয়ার্ডের কমিশনার মারুফ আহমেদ মনসুর, সাবেক ছাত্রনেতা মজুমদার শাহীন, তথ্যমন্ত্রণালয়ের চলচ্চিত্র অধিশাখা-২ এর উপ-সচিব জনাব মো: সাইফুল ইসলাম প্রমুখ।

ঐতিহাসিক ঘটনার বিবরণ নিয়ে নির্মিতব্য এই চলচ্চিত্রের প্রীতিলতা চরিত্রে অভিনয়ে অংশ নিচ্ছেন দেশের খ্যাতিমান অভিনয় শিল্পী নুসরাত ইমরোজ তিশা এবং বিপ্লবী রামকৃষ্ণ বিশ^াস চরিত্রে থাকছেন মনোজ প্রামানিক। প্রীতিলতার বাবা চরিত্রে খ্যাতিমান নাট্যকার ও অভিনেতা মান্নান হীরা। কিশোরী প্রীতিলতা চরিত্রে মৃন্ময়ী রূপকথা। সূর্য সেন চরিত্রে কামরুজ্জামান তাপু, কল্পনা দত্ত চরিত্রে ইন্দ্রানী ঘটক, নির্মল সেন চরিত্রে অমিত রঞ্জন দে, মনোরঞ্জন চরিত্রে সুচয় আমিন, ইংরেজ ম্যাজিস্ট্রেট চরিত্রে পাশা মোস্তফা কামাল, ইংরেজ অফিসার চরিত্রে মিজান রহমান, আহমেদ আলী, নাজমুল বাবু, সুধাংশু তালুকদার, বিপ্লবীদের সহায়তাকারী চরিত্রে আরিফুল ইসলাম হাবিব, মনিশ কাকা চরিত্রে পংকজ মজুমদার, পিসি চরিত্রে তামিমা তিথী। রূপসজ্জায় থাকছেন শিল্পী মোহাম্মদ আলী বাবুল। চলচ্চিত্রের পোষাক পরিকল্পনায় রয়েছেন শিল্পী কনক আদিত্য। সংগীত পরিচালনা করছেন খ্যাতিমান সংগীত শিল্পী বাপ্পা মজুমদার। প্রীতিলতা চলচ্চিত্রে লোগো এঁকেছেন শিল্পী মামুন হোসাইন। শিল্প নির্দেশনায় রয়েছেন শিল্পী জাহিদ মোস্তফা এবং মুজিবুল হক। প্রযোজনা নির্বাহী হিসেবে থাকছেন রিফাত মোস্তফা। মহরত অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে চলচ্চিত্রের পরিচালক প্রদীপ ঘোষ অভিনয় শিল্পীদের পরিচায় করিয়ে দেন।