শেষ দেখা এবং কিছু কথা

image

অনেকের মতো ঘুম ভেঙ্গে খবরটি শোনার পর আমার বিশ্বাস হচ্ছিল না। কারণ চলে যেতে হবে, চলে যাবেন তিনি এমন কোন আভাস ছিল না। অনেকটাই হঠাৎ করেই মৃত্যু এসে তাকে পরপারে নিয়ে গেলেন। বলছিলাম দেশের লিজে- গিটারিস্ট, ব্যাণ্ড তারকা আইয়ূব বাচ্চুর কথা। গত ৯ আগস্ট বিটিভির ‘আনন্দ মেলা’ অনুষ্ঠানে রেকর্ডিং-এর পূর্বে প্রায় এক ঘণ্টা তার সঙ্গে আড্ডা দেবার সুযোগ হয়েছিল। বাচ্চু ভাই তার ভবিষ্যত পরিকল্পনা নিয়ে কিছু কথা বলছিলেন। বলছিলেন একটি গিটার শেখানোর প্রতিষ্ঠান করা নিয়ে তার স্বপ্নের কথা। কিন্তু তার সেই স্বপ্ন স্বপ্নই রয়ে গেল। আইয়ূব বাচ্চু এমনই একজন সঙ্গীতশিল্পী ছিলেন যিনি নতুন পুরোনো সব শিল্পীদের সঙ্গে সবসময়ই হাসিমুখে কথা বলতেন। ভক্তদের সঙ্গেও তিনি অতি সাধারণ একজন মানুষের মতোই আচরণ করতেন। আইয়ূব বাচ্চুর সঙ্গে কোন ভক্তের কোথাও হঠাৎ দেখা হয়েছে, অথচ তিনি সেলফি তোলার সুযোগ পাননি, এমনটি হয়নি তার ক্ষেত্রে। বিটিভির সেদিনের অনুষ্ঠানে আগত অনেক দর্শকের মনের আশা তিনি পূরণ করেছেন তাদের সঙ্গে সেলফি তুলে। মাঝে বেশ কিছুদিন বিরতির পর বাচ্চু ভাইয়ের সঙ্গে শেষ দেখা হলো গেল ১ অক্টোবর চ্যানেল আইয়ের জন্মদিনে। চ্যানেল আইয়ের দোতলায় বাচ্চু ভাইয়ের সঙ্গে সেই আড্ডায় মেতে উঠেছিলেন সুবর্ণা মুস্তাফা, বদরুল আনাম সৌদ, শহীদুল আলম সাচ্চু’সহ আরও অনেকেই। সেখানে আড্ডায় মেতে উঠেছিলেন আইয়ূব বাচ্চু ও সুবর্ণা মুস্তাফা। এক সময় আমিই দু’জনকে বলি চলুন কিছু ছবি তুলি। এমন কথা কারও কোন অনীহা ছিল না। গোলাম সাব্বিরের ক্যামেরায় সেদিন ফ্রেম বন্দী হয়েছিলেন তিনি। গতবছর জুন মাসে আইয়ূব বাচ্চু ‘টেলিসিনে অ্যাওয়ার্ড’-এ শ্রেষ্ঠ সঙ্গীতশিল্পী হিসেবে পুরস্কৃত হয়েছিলেন। তবে গুণী এই সঙ্গীতশিল্পী কোন চলচ্চিত্রের গানে কণ্ঠ দিয়ে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করতে পারেননি। এই বিষয়ে তার কোন দুঃখ ছিল না। কারণ দর্শকের ভালোবাসাই তাকে আইয়ূব বাচ্চুতে পরিণত করেছে। তাই সারাজীবন তিনি চেয়েছিলেন দর্শকের ভালোবাসার মধ্যে বেঁচে থাকতে। বাচ্চু ভাই চলে গেছেন, কিন্তু তিনি তার ইচ্ছের মধ্যেই অর্থাৎ দর্শকের ভালোবাসার মধ্যেই যুগের পর যুগ বেঁচে থাকবেন। তার চলে যাওয়ায় আমাদের সঙ্গীতাঙ্গনের যে অপূরণীয় ক্ষতি হলো তা কোনভাবেই আর পূরণ সম্ভব নয়। একজন আইয়ূব বাচ্চুর আজ হঠাৎ চলে যাওয়া এ দেশের শ্রোতা দর্শককে কান্নার স্র্রোতে ভাসিয়ে দিয়ে গেলেন। তারপরও ভক্ত দর্শকের চাওয়া পরপারে যেন আইয়ূব বাচ্চু ভালো থাকেন। চ্যানেল আইয়ের অনন্যা রুমার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতেই হয়, কারণ ২০১৬ সালের নভেম্বরে বাচ্চু ভাইয়ের সঙ্গে আমাকে পরিচয় না করিয়ে দিলে হয়ত বাচ্চু ভাইয়ের সঙ্গে আমার আর পরিচিত হবার সুযোগই হয়ে উঠত না। খুব অল্প দিনের পরিচয় ছিল আমার তার সঙ্গে। কিন্তু হৃদ্যতাটা ছিল জনম জনমের। দোয়া করি গুণী এই সঙ্গীত তারকাকে যেন আল্লাহ বেহেস্ত নসীব করেন।