সরকারি ভাবে সংরক্ষণ হচ্ছে আইয়ুব বাচ্চুর গান

image

আইয়ুব বাচ্চু

আইয়ুব বাচ্চুর দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকীতে তার ভক্তদের জন্য আনন্দের একটি খবর এলো বাংলাদেশ কপিরাইট অফিসের পক্ষ থেকে। প্রথমবারের মতো শিল্পীদের গান সংরক্ষণ করতে সরকারিভাবে আর্কাইভ গড়ে তোলা হচ্ছে।থাকছে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ওয়েবসাইট ও ইউটিউব চ্যানেল।আর শুরুটা হচ্ছে আইয়ুব বাচ্চুর গান দিয়ে। আইয়ুব বাচ্চুর নিজের একটি স্টুডিও আছে ঢাকার মগবাজারে। এই মিউজিক স্টুডিওটির নাম এবি কিচেন। মূলত এ নামেই তৈরি হয়েছে সরকারি এই ওয়েবসাইট। বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন কপিরাইট রেজিস্ট্রার জাফর রাজা চৌধুরী।

তিনি বলেন, ‘২০১৭ সালের অনলাইন কপিরাইট রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রমের উদ্বোধন হয়। তখন অনলাইন কপিরাইট করার জন্য প্রথম আবেদন করেন আইয়ুব বাচ্চু। তিনি আমাদের অনুষ্ঠানে এসেছিলেন। তখনই তিনি গান সংরক্ষণের প্রসঙ্গটি তোলেন। এরপর তো আকস্মিকভাবে উনি আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন। তবে অনলাইনের প্রথম আবেদনকারী হিসেবে আমরা তার গান নিয়ে ওয়েবসাইট ও ইউটিউব চ্যানেল তৈরি করলাম। ভবিষ্যতে এমন আরও কাজ হবে। শুরুটা আইয়ুব বাচ্চুকে দিয়েই হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ওয়েবসাইটে ২৭৩টি গান ছাড়াও তার বায়োগ্রাফি, কনসার্টসহ অনেক কিছুই থাকছে। এছাড়া আইটিউন, স্পটিফাই, অ্যামাজনের মতো প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমেও যে কেউ তার গান ডাউনলোড করতে পারবেন। এ ওয়েবসাইটটি তৈরির উদ্দেশ্য দুটো। প্রথমত উনার স্মৃতিটা মনে করিয়ে দেওয়া। দ্বিতীয়ত অবৈধ ব্যবহারটা সুশৃঙ্খল করা।’

গানগুলোর উত্তরাধিকার হিসেবে এই উদ্যোগের সঙ্গে আছেন আইয়ুব বাচ্চুর দুই সন্তান।১৮ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টায় বাংলাদেশ কপিরাইট অফিস থেকে এই ওয়েবসাইটের উদ্বোধন করবেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ এমপি।কিংবদন্তি আইয়ুব বাচ্চুর প্রতি সম্মান জানিয়ে এবং তার গানকে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে জিইয়ে রাখতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানায় কপিরাইট অফিস। পাশাপাশি ভবিষ্যতে অন্যান্য কিংবদন্তি শিল্পীদের গান সংরক্ষণের পরিকল্পনাও করছে সরকার।

২০১৮ সালের ১৮ অক্টোবর বাসায় হার্ট অ্যাটাক করে মারা যান আইয়ুব বাচ্চু।

দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যান্ড এলআরবি’র দলনেতা এবি ছিলেন একাধারে গায়ক, গিটারিস্ট, গীতিকার, সুরকার, সংগীত পরিচালক। গিটারের জাদুকর হিসেবে আলাদা সুনাম ছিল তার। ভক্তদের কাছে তিনি ‘এবি’ নামেও পরিচিত।