সাক্ষাৎকার : অস্ট্রেলিয়ার ‘আততায়ী’ ব্যান্ডের সঙ্গে কাজ করব-রনিম

image

বাংলা ব্যান্ড সঙ্গীতের সোনালি দিনগুলোতে বেশ কিছু শ্রোতাপ্রিয় গানের গীতিকার ছিলেন রনিম। দীর্ঘ বিরতির পর আবার গান লিখায় ফিরলেন তিনি। এ গীতিকারের সঙ্গে কথা বলেছেন নিথর মাহবুব

দীর্ঘ বিরতির পর ফেরার উদ্দেশ্য বলুন?

বাংলাদেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে গান লেখার মাধ্যমে সঙ্গীত জগতে ফিরলাম। অস্ট্রেলিয়ার ‘আততায়ী’ ব্যান্ডের সঙ্গে কাজ করব। ‘আততায়ী’র অফিসিয়াল গীতিকার হিসেবে যুক্ত হয়েছি। এ ব্যান্ডের সব গান শুধু আমিই লিখব। ইতোমধ্যে এ ব্যান্ডের ১টি বাংলা ও ১টি ইংরেজি গানের রেকর্ডিংয়ের কাজ শুরু হয়ে গেছে। এর পাশাপাশি আরও ২টি বাংলা গানের মিউজিক প্রস্তুতি চলছে।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কাজ করাটা কেমন উপভোগ করছেন?

‘আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশের বাইরের ব্যান্ডের সঙ্গে কাজ করার আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে এটি ব্যতিক্রমী ঘটনা। আমার জানামতে এই প্রথম আন্তর্জাতিক পর্যায়ের কোন ব্যান্ডের অফিসিয়াল গীতিকার হিসেবে বাংলাদেশে কোন গীতিকারের যুক্ত হল।

বাংলাদেশে শিল্পীদের জন্য আবার গান লিখবেন?

যেহেতু ফিরলাম তাই ‘আততায়ী’র গান লিখার পাশাপাশি দেশের প্রমিনেন্ট ব্যান্ড ও শিল্পীদের সঙ্গেও কাজ করব এখন থেকে। সেই সঙ্গে গান গাইতে পারে এমন নতুন ছেলেমেয়েদেরও আমার লেখা ও সুরে গান গাওয়ার সুযোগ করে দেয়ার পরিকল্পনা করছি।

আপনার লেখা উল্লেখযোগ্য গানগুলো কী?

আমার উল্লেখযোগ্য গানের মধ্যে আছে-জেমসের গাওয়া ‘আমি এক দুঃখওয়ালা’, শততম দুঃখ বার্ষিকী, ‘ঘুমে ঘুমে পালকি চড়ে’, ‘নায়ক আমি’। শাফিন আহমেদের গাওয়া ‘জাতীয় সঙ্গীতের দ্বিতীয় লাইন’, ‘নাচো বাংলাদেশ’। হাসানের গাওয়া ‘মারহাবা প্রেম মারহাবা’, ‘নেভার মাইন্ড বাংলাদেশ’। বিপ্লবের গাওয়া ‘প্রেম ডটকম’, ‘প্রেমিক ডাকাত’। আইয়ুব বাচ্চুর গাওয়া ‘সময়ের ইশারায়’ প্রভৃতি।

গান লেখা থেকে কেন বিরত ছিলেন?

২০০৬ সালে মাইলসের ‘জাতীয় সঙ্গীতের দ্বিতীয় লাইন’ গানটি লেখার পর ব্যান্ড ও শিল্পীদের জন্য গান লেখা ছেড়ে দেই। শিল্পী এবং গীতিকারদের মধ্যে সম্মানীর একটা বৈষম্য ছিল বলে গান লেখা ছেড়ে দেই। এছাড়াও গীতিকারদের নামও কেউ বলত না।

গান লেখা ছেড়ে ওই সময়টাতে কী করতেন?

তখন চাকরি করেছি। ছোটবেলা থেকেই দেখে আসছি বাসায় গানের চর্চা। বাসাতেই গানর প্র্যাকটিস করতাম। নিজের লেখায় নিজেই সুর করে গাইতাম। নিজের গাওয়া কিছু গান উইটিউবে আছে। রনিম নামেই চ্যানেল। এখানে সব গান আমার লেখা। এটি বাংলাদেশে প্রথম গীতিকার হিসেবে স্বয়ংসম্পূর্ণ একটি চ্যানেল। অবশ্য এর মধ্যে ২০১৬ সালে জিসিরিজের ‘পরিচয়’ নামে মিক্সড অ্যালবামে গেয়েছিলাম। গানের শিরোনাম ‘জ্বলেপুড়ে ছারখার’। এর আগে ২০১৪ সালে ব্যাক করেছিলাম। তখন অনেকে ভেবেছিল আমি আবার গান লিখব। কিন্তু আমি তখন গীতিকারদের অধিকার, কপিরাইট নিয়ে আন্দোলন করেছি।

সঙ্গীত অঙ্গনের বর্তমান অবস্থা নিয়ে বলুন

একটা গানে গীতিার সুরকার গায়ক সবার সমন্বয় থাকতে হয়। এখন আর সেটা হয় না। এখন গান লিখে গীতিকার ফেসবুকের ইনবক্সে অথবা মেইল করে পাঠিয়ে দিচ্ছে, সুরকার নিজের মতো সুর করে শিল্পীকে পাঠিয়ে দিচ্ছে, শিল্পী নিজের মতো সেটা গাইছে। সমন্বয় না থাকার কারণে গানের মান দাঁড়াচ্ছে না, মানুষের মনে রাখার মতো গানও বেরিয়ে আসছে না।