সালমান শাহের ৫০তম জন্মবার্ষিকী হবে দেশজুড়ে

image

রাজধানীর মধুমিতা প্রেক্ষাগৃহে চলছে সপ্তাহব্যাপী ‘সালমান শাহ জন্মোৎসব-২০১৯’। ১৯ সেপ্টেম্বর এ উৎসবের যাত্রা হয়। ২০ সেপ্টেম্বর উৎসবের প্রথম ছবি হিসেবে প্রদর্শিত হয় ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’। অন্যদিকে আজ (২৬ সেপ্টেম্বর) উৎসবের পর্দা নামছে ‘সত্যের মৃত্যু নেই’ ছবিটি দিনব্যাপী প্রদর্শনের মাধ্যমে। মাঝের দিনগুলোতে প্রদর্শিত হয়েছে সালমান শাহ’র জনপ্রিয় ছবি ‘তোমাকে চাই’, ‘মায়ের অধিকার’, ‘চাওয়া থেকে পাওয়া’, ‘স্বপ্নের পৃথিবী’ ও ‘অন্তরে অন্তরে’। উৎসবের সমাপনী ছবি ছিল ‘সত্যের মৃত্যু নেই’ মুক্তি পায় ১৯৯৬ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর। যার মাত্র ৭ দিন আগেই (৬ সেপ্টেম্বর ১৯৯৬) না ফেরার দেশে পাড়ি জমান স্বপ্নের এই নায়ক। এই নায়ককে অকালে হারিয়ে যেভাবে দেশবাসী ও ভক্তরা শোকে মুহ্যমান ছিলেন এবং কান্নায় বুক ভাসিয়েছেন, ঠিক এক সপ্তাহ পর ‘সত্যের মৃত্যু নেই’ সিনেমাটি মুক্তি পাবার পর তা দেখতে এসেও ঠিক একইভাবে ভক্তদের কাঁদতে দেখা গেছে।

ঢুলি কমিউনিকেশনস আয়োজিত ও টিএম ফিল্মস নিবেদিত প্রথমবারের মতো আয়োজিত এই উৎসবের প্রথম দিন থেকেই দর্শকদের প্রচ- ভিড় ছিল মধুমিতা প্রেক্ষাগৃহে। শুধু রাজধানী নয়, দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকেও সালমান ভক্তরা ছুটে এসেছেন বড় পর্দায় অমর নায়কের সিনেমা দেখার জন্য।

উৎসব প্রসঙ্গে ঢুলি কমিউনিকেশনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহমুদ মানজুর বলেন, ‘চোখের পলকে উৎসবের সমাপনী দিন চলে এলো। অসাধারণ এক অভিজ্ঞতা হয়েছে আমাদের। সাধারণ মানুষের যে পরিমাণ সাড়া আমরা পেয়েছি, সেটি এক কথায় অবিশ্বাস্য। আমরা বিশেষভাবে কৃতজ্ঞতা জানাই সালমান শাহ ভক্তদের। তারাই আমাদের উৎসবকে প্রাণবন্ত রেখেছে পুরো সপ্তাহজুড়ে। আমি বিশেষভাবে কৃতজ্ঞতা জানাতে চাই টিএম ফিল্মস, মধুমিতা প্রেক্ষাগৃহ, গান বাংলা ও মিডিয়াকর্মীদের। যাদের সহযোগিতা ও সমর্থন ছাড়া এত বড় উৎসব সফল করা সম্ভব হতো না। আমরা স্বপ্ন দেখি সালমান শাহের ৫০তম জন্মবার্ষিকী দেশজুড়ে আরও বর্ণিল আয়োজনে করার। সেই প্রস্তুতি আমরা এর মধ্যে শুরু করেছি।’

৯০ দশকের শ্রেষ্ঠতম নায়ক সালমানের প্রকৃত নাম শাহরিয়ার চৌধুরী ইমন। এ অভিনেতা মাত্র ২৭টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। যার বেশিরভাগই ছিল তুমুল জনপ্রিয় ও ব্যবসাসফল। মাত্র তিন বছরের অভিনয় জীবনে এমন দর্শকপ্রিয়তা চলচ্চিত্র ইতিহাসে বিরল। ১৯৯৩ সালে তার অভিনীত প্রথম চলচ্চিত্র সোহানুর রহমান সোহান পরিচালিত ?‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ মুক্তি পায়। এরপর থেকেই বাংলা চলচ্চিত্রে ভরসার প্রতিশব্দ হয়ে ওঠেন এ নায়ক। ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ইস্কাটনে নিজ ফ্ল্যাটে সিলিং ফ্যানে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায় এই নন্দিত নায়কের লাশ। এ মৃত্যুর রহস্য আজও উন্মোচিত হয়নি।