‘অনঙ্গ রূপের জলছবি’তে আসাদুজ্জামান নূর

image

সংসদ সদস্য হওয়ার পর থেকে খুব কম নাটকেই আসাদুজ্জামান নূরকে অভিনয় করতে দেখা গেছে। তবে ভালো গল্পের নাটকে মাঝে মধ্যে তার উপস্থিতি দেখা যায়। সম্প্রতি এ সময়ের তরুণ মেধাবি নাট্যকার শুভাশিস সিনহা রচনায় অনঙ্গ রূপের জলছবি নামে একটি নাটকে অভিনয় করেছেন। নাটকটি পরিচালনা করেছেন হাসান রেজাউল। অভিনয় করেছেন দিলারা জামান, আসাদুজ্জামান নূর, তারিন, জ্যোতি সিনহা প্রমুখ। দেশের নামকরা কবি লেখক মাহমুদুল হক।

সবাই মাহমুদ নামেই চেনে। বেশ কয়েক বছর বিদেশে থেকে দেশে ফিরেছেন, লেখালেখিই এখন তার নেশা পেশা। কারও সামনে হাজির হন না তিনি, ইন্টারভিউ দেন না, কেবল তার লেখাটাই পাঠকের কাছে পৌঁছায়। এমন অবস্থায় একদিন তিনি বিজ্ঞাপন দেন তার একজন পার্সোনাল এসিসট্যান্ট দরকার। লেখকের অলক্ষ্যে নেয়া সেই ইন্টারভিউতে উত্তীর্ণ হয় নিতি নামের এক তরুণী। কবিতাপাগল। মাহমুদ তার খুব প্রিয় কবি/লেখক। মাহমুদের অনেক কবিতাই তার হুবহু মুখস্থ। প্রিয় লেখকের সাথে সময় কাটানো, তার কাজ করে দেয়া নিতির কাছে একটা রোমাঞ্চকর ব্যাপার। তার মায়ের অনেক আপত্তি সত্ত্বেও নিতি কাজটা নেয়। এ নিয়ে প্রতিবেশীরা তার মাকে নানান কথা বলতেও পিছপা হয় না। নিতি মাহমুদের বাসা কাম অফিসে হাজির হয়। মাহমুদ বসে থাকে একটা আলো-আঁধারির কক্ষে তাকে পুরোপুরি দেখা যায় না। নিতি তাকে ঠিকমতো না দেখেই তার সাথে কবিতা সাহিত্য নিয়ে কথা বলা যায়। নিতি যখন বলে, এই ঘরে আলো এত কম কেন, সে তো ঠিকমতো দেখতেই পাচ্ছে না, মাহমুদ শুধু হাসে। রহস্যময় হাসি। সে নিতিকে নানান লেখা টাইপ করতে দেয়। নিতি আসার আগেই নিতির মনের ভাব নিয়ে সে একটা লেখা লিখে ফেলেছেন। কাগজে। সেটা টাইপ করতে গিয়ে নিতি থ। এভাবেই মাহমুদ তার কাছে একটা রহস্য হয়ে ওঠে। একই সঙ্গে আকর্ষনীয়ও। এভাবে নিতি মাহমুদের কবিতা আর শিল্পের ঘোরে দিন কাটাতে থাকে। কিন্তু তার মুৃখ সে

দেখতে পায় না একবারও, স্পষ্ট। নিতি যখন অধৈর্য হয়ে ওঠে, তখন একদিন মাহমুদ তার মুখের সামনে নিজের মুখটা হাজির করে। স্পষ্ট হয়ে ওঠে মাহমুদের মুখ। আর নিতি চিৎকার করে ওঠে। বীভৎস মাহমুদ। মুখের এক দিকটায় চোখের চারপাশে তার চামড়া গলে যাওয়া। আর একটা চোখ তার পাথরের। এমন সময় পাশের ঘর থেকে শুনতে পায় এক নারীকণ্ঠের হাসি। পাগলাটে হাসি। নিতি সেখান থেকে ভয়ে পালিয়ে আসে। কিন্তু নিতি নিজের মোহ আর টান থেকে বিচ্যুত হতে পারে না। সে আবার যায় মাহমুদের কাছ্ েমাহমুদ আবেগে তাকে দুর্বল করে। দুজনে ঘুরতে যায় দূরান্তে। মাহমুদ আধো ঢেকে রাখে তার মুখ। তার নিজের জীবনের গল্প শোনায়। তার স্ত্রী তাহমিনার গল্পও, যার হাসি শুনতে পেয়েছিল নিতি। তাদের সংসারের গল্প। তাহমিনা ছিল সন্দেহবাতিক, কোনো মেয়ের সাথেই সে মাহমুদকে মিশতে দিত না। এভাবেই সে একদিন সাইকোতে পরিণত হয়। মাহমুদের ঘটনা শুনে নিতি বিস্মিত হয়। একদিন মাহমুদের সাথে সে তার স্ত্রী তাহমিনার কক্ষে যায়। তাহমিনা তাকে খুব আদরে কাছে টেনে নেয়। তাহমিনার সাথে নিতির একটা সম্পর্ক গড়ে ওঠে। মাহমুদ তাকে সতর্ক করে, তবু নিতি চুপি চুপি তাহমিনার কাছে যা। তাহমিনা একদিন এক ভয়ংকর সত্য প্রকাশ করে। বলে- সে নিজেই মাহমুদের মুখে আঘাত করেছে, বীভৎস করে দিয়েছে তার মুখ। যাতে কেউ আর ভালোবাসার অছিলায় তার কাছে না যায়।