ইরানি তেল কেনা অব্যাহত রাখার প্রত্যয় জাপানের

image

অ্যাবে ইরানে পৌঁছানোর পর গার্ড অব অর্নার দিয়ে শুভেচ্ছা জানান রুহানি

যুক্তরাষ্ট্রের পরীক্ষিত বন্ধু জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো অ্যাবে ইরানের তেল আমদানি অব্যাহত রাখতে আগ্রহী বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি। এ সময় অ্যাবে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক জোরদারে আগ্রহও প্রকাশ করেছেন বলে জানান তিনি। এরই অংশ হিসেবে তেহরানের দক্ষিণাঞ্চলে বিশেষ করে চাবাহার বন্দরে জাপানি বিনিয়োগের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন রুহানি। তেহরানে সফররত জাপানের প্রধানমন্ত্রী অ্যাবের সঙ্গে ১২ জুন বুধবার রাতে দুদফা বৈঠকের পর এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে টোকিওর এমন অবস্থানের কথা জানান ইরানের প্রেসিডেন্ট রুহানি।

চার দশকেরও বেশি সময়ের (৪১ বছর) মধ্যে তেহরানে প্রথমবারের মতো দুদিনের এক রাষ্ট্রীয় সফরে (একই দিন) রাজধানী তেহরানে পৌঁছান জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো অ্যাবে। এ সময় তেহরানের বিমানবন্দরে অ্যাবে পৌঁছালে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভেদ জারিফ তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। পারমাণু চুক্তি ও নিজ দেশের নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় যুদ্ধাবস্থা এবং মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে প্রভাবশালী দেশ সৌদির সঙ্গে রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই অ্যাবে তেহরান সফর করছেন। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতি নিরসনে অ্যাবের তেহরান সফর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে বিশ্ব গণমাধ্যমে যথেষ্ট গুরুত্ব পাওয়া জাপানের প্রধানমন্ত্রীর এ তেহরান সফরকে ঘিরে সংশয়ও প্রকাশ করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। এদিকে বুধবার রাতে দুদফা বৈঠকের পর যৌথ সংবাদ সম্মেলনে দেয়া বক্তব্যে ইরানি প্রেসিডেন্ট রুহানি বলেন, আমরা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে উত্তেজনা হ্রাসের বিষয়ে আলোচনা করেছি। আমরা দু’দেশই (ইরান-জাপান) মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেই। ইরানের প্রেসিডেন্ট আরও বলেনÑ আমি জাপানি প্রধানমন্ত্রীকে বলেছি, আমরা মধ্যপ্রাচ্যে কোন যুদ্ধের সূচনাকারী হব না, এমনকি আমেরিকার সঙ্গেও না। কিন্তু যদি কোন যুদ্ধ আমাদের বিরুদ্ধে শুরু করা হয় তাহলে আমরা অত্যন্ত কঠোর জবাব দেব।

রুহানি বলেন, জাপানি প্রধানমন্ত্রী ভবিষ্যতের বিষয়ে অত্যন্ত আশাবাদী। এবং অতি দ্রুত ইতিবাচক পরিবর্তন আসছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। এ সময় জাপানি প্রধানমন্ত্রী অ্যাবে ইরানের পরমাণু সমঝোতার প্রতি আবারও সমর্থন জানিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন রুহানি। তিনি বলেন, জাপান পরমাণু সমঝোতাকে মধ্যপ্রাচ্যসহ পুরো বিশ্বের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে। আমরা দু’দেশই শান্তিপূর্ণ পরমাণু প্রযুক্তি ব্যবহারের পক্ষে এবং পরমাণু অস্ত্রের বিরোধী। আমাদের তেহরান-টোকিও) মধ্যে ভবিষ্যতে এ ক্ষেত্রে সহযোগিতার সম্ভাবনার কথাও জানান রুহানি। ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেন, জাপানি প্রধানমন্ত্রীকে বলেছি, যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে তার উৎস হলো ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকার অর্থনৈতিক যুদ্ধ। এ অর্থনৈতিক যুদ্ধ বন্ধ হলে মধ্যপ্রাচ্যসহ পুরো বিশ্বে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যাবে। এ সময় জাপানের প্রধানমন্ত্রী অ্যাবে বলেন, ইরানকে ঘিরে যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে তা নিরসনে জাপান ভূমিকা রাখতে চায়। এ সময় তিনি মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতাকে সারা বিশ্বের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও উল্লেখ করেন।