ব্রেক্সিটপন্থিদের নিয়েই মন্ত্রিসভা গঠন করলেন বরিস

image

১০নং ডাউনিং স্ট্রিটে নতুন মন্ত্রীপরিষদের সদস্যদের নিয়ে বৈঠকে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন-বিবিসি

যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেয়ার পরদিনই (বৃহস্পতিবার) মন্ত্রিসভায় ব্যাপক পরিবর্তন আনলেন বরিস জনসন। যুক্তরাজ্যের ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছেড়ে যাওয়ার (ব্রেক্সিট) পক্ষে অবস্থান নেয়া প্রভাবশালী কনজারভেটিভদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দিয়ে এ বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) এ মন্ত্রিসভা ঘোষনা করেন তিনি। বরিসের মন্ত্রিসভা থেকে সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে’র মন্ত্রিসভার অর্ধেকেরও বেশি সদস্য পদত্যাগ করেছেন কিংবা বরখাস্ত করা হয়েছে। বরিসের ৩১ সদস্যের মন্ত্রিসভায় স্থান পেয়েছেন ৮ নারী। মে-র মন্ত্রিসভায় ব্রেক্সিট সমর্থক ছিলেন মাত্র ৬ জন, এবার এ সংখ্যা ১২। সংবাদ মাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।

নতুন মন্ত্রিসভায় সাজিদ জাভিদকে অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বিবিসি। ডমিনিক রাব ও প্রীতি প্যাটেলকে মন্ত্রিসভায় ফিরিয়ে আনা হয়েছে যথাক্রমে পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিয়ে। চ্যান্সেলর অব দ্য ডাচি অব ল্যাঙ্কাস্টারের পাশাপাশি ‘চুক্তি ছাড়াই’ ব্রেক্সিট সম্পাদনের পরিকল্পনা সামলাতে হবে মাইকেল গোভকে। বেন ওয়ালেস পেয়েছেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। শিক্ষা ও সংস্কৃতিতে এসেছেন যথাক্রমে গেভিন উইলিয়ামসন ও নিকি মরগান। আন্দ্রিয়া লিডসমকে দেয়া হয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের দায়িত্ব গেছে লিজ ট্রুসের হাতে। কমন্সের লিডার করা হয়েছে টোরিদের ব্রেক্সিটপন্থি ইউরোপিয়ান রিসার্চ গ্রুপের (ইআরজি) নেতা জ্যাকব রিস মগকে। মে-র মন্ত্রিসভার স্টিফেন বার্কলে, ম্যাট হ্যানকক ও অ্যাম্বার রুডকে আগের পদেই বহাল রাখা হয়েছে। জনসনের এ মন্ত্রিসভায় অভিজ্ঞদের প্রাধান্য দেখা গেলেও আনুপাতিক হারে নারীর সংখ্যা কম। মে-র ২৯ সদস্যের মন্ত্রিসভায় নারী ছিল ৩০ শতাংশ, জনসনের মন্ত্রিসভায় তা ২৬ শতাংশ। নতুন মন্ত্রিসভায় আগের মন্ত্রিসভার ১৭ জনের স্থান হয়নি। নেতৃত্ব দৌড়ে জনসনের মূল প্রতিদ্বন্দ্বী জেরেমি হান্ট জানান, তাকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে অন্য দায়িত্ব দিতে চাইলেও তিনি রাজি হননি। তার পাশাপাশি শীর্ষ ব্রেক্সিটপন্থি হিসেবে পরিচিত পেনি মরডন্ট ও লিয়াম ফক্সকেও প্রতিরক্ষা ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (২৩ জুলাই) যুক্তরাজ্যে ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ দলের নেতা নির্বাচিত হয়েছেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন। দলের সদস্যরা চার দফা ভোটের পর তাকে নতুন নেতা নির্বাচিত করেন। দেশটির সংবিধান অনুযায়ী ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষ নেতাই প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। সেই নিয়ম অনুযায়ী বুধবার (২৪ জুলাই) স্থানীয় সময় বিকালে প্রধানমন্ত্রীর শপথ নেন বরিস জনসন। এদিন, রাজপ্রাসাদ থেকে বেরিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যায়ল ১০নং ডাউনিং স্ট্রিটে এক সংক্ষিপ্ত ভাষণ দেন নতুন এই ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তিনি বলেন, স্বাধীনতা, মুক্তমত আইনের শাসন এবং গণতন্ত্রের পক্ষে অবস্থান নিতে হবে। এ জন্যই আগামী ৩১ অক্টোবর আমরা ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে যাব।

থেরেসা মে অধ্যায় শেষে বরিস জনসনের সরকারের যুগে প্রবেশ করল ব্রিটেন। ব্রেক্সিট চুক্তি নিয়ে এমপিদের সঙ্গে বিরোধিতার জের ধরে পদত্যাগ করেন মে। তার জায়গায় দলীয় প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী হয়ে আসেন লন্ডনের সাবেক মেয়র ও থেরেসা সরকারের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন। আলেকজান্ডার বরিস দ্য ফেফেল জনসনের জন্ম নিউইয়র্কে। ২০০৬ সাল পর্যন্ত তিনি মার্কিন নাগরিকত্ব রেখে দিয়েছিলেন। ব্রিটেনের অভিজাত সমাজের আদর্শ প্রতিনিধি তিনি। বাবা ছিলেন কূটনীতিক। কনজারভেটিভ পার্টির হয়ে ইউরোপীয় সংসদের সদস্যও হয়েছিলেন। অত্যন্ত অভিজাত স্কুল ইটনে পড়ে গ্র্যাজুয়েশন করেছেন অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে।

বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বেরোনার পর পেশা হিসেবে সাংবাদিকতাকে বেছে নেন। দ্য টাইমস পত্রিকায় কাল্পনিক একটি উদ্ধৃতি ব্যবহারের জন্য চাকরি খুইয়েছিলেন। তারপর আরও দু-একটি পত্রিকায় কাজ করার পর যোগ দেন বিখ্যাত দ্য টেলিগ্রাফে। ব্রাসেলসে ওই পত্রিকার প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করতেন। ২০০১ সাল থেকে তৎকালীন বিরোধী কনজারভেটিভ পার্টির টিকিটে এমপি নির্বাচিত হলেও তিনি কখনও ছায়া মন্ত্রিসভায় ঢোকেননি। দলের কয়েকজন সিনিয়র নেতা তাকে তেমন পছন্দ করতেন না। ২০০৮ সালে সংসদের রাজনীতি ছেড়ে তিনি লন্ডনের মেয়র নির্বাচিত হন। এবং তখনই ব্রিটেনের রাজনীতিতে ভিন্ন এক মাত্রা পেয়ে যান বরিস জনসন।