অভিশংসন বিচার থেকে অব্যাহতি পেলেন ট্রাম্প

image

যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতাসীন দল রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত মার্কিন কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেট অভিশংসন বিচার থেকে অব্যাহতি দিয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। এর মধ্য দিয়ে প্রেসিডেন্ট পদে আসিন থাকলেন তিনি। ৫ ফেব্রুয়ারি বুধবার স্থানীয় সময় বিকাল চারটায় (বাংদেশ সময় ভোর তিনটায়) সিনেটে অনুষ্ঠিত ভোটাভাটিতে এ বিচার থেকে অব্যাহতি পান ট্রাম্প। ট্রাম্পই হতে যাচ্ছেন প্রথম মার্কিন প্রেসিডেন্ট যিনি অভিশংসনের ফাঁড়া কাটিয়ে টানা দ্বিতীয় মেয়াদে ভোটের লড়াইয়ে নামতে যাচ্ছেন। বিবিসি।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে তার পদ থেকে সরিয়ে দেবার জন্য সিনেটের ১০০ আসনের মধ্য থেকে দুই তৃতীয়াংশ ভোট পড়ার দরকার ছিল। ৬ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার অনলাইনে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, দেড় মাস আগে (১৮ ডিসেম্বর, ২০১৯) ক্ষমতার অপব্যবহার ও কংগ্রেসের কাজে বাধা দেয়া- এ দুই গুরুতর অভিযোগে ট্রাম্পকে ক্ষমতা থেকে অপসারণের লক্ষ্যে বিরোধী দল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদ (হাউজ অব রিপ্রেজেনটেটিভস) অভিশংসনের এ প্রস্তাব সিনেট পাঠায়। ঐতিহাসিক সেই বিচারের শুনানি শেষে বুধবার সিনেটে যে ভোটাভুটি হয়, তাতেই যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫তম প্রেসিডেন্টকে পদচ্যুত না করার সিদ্ধান্ত আসে।

ট্রাম্পের বরুদ্ধে অভিযোগ দুটো ছিল- ১. প্রেসিডেন্ট তার ক্ষমতার অপব্যবহার করে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী জো বাইডেনের বিরুদ্ধে তদন্ত করতে ইউক্রেনের ওপর চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করেছিলেন। ২. অভিশংসনের তদন্তে সহযোগিতা করতে অস্বীকার করে প্রেসিডেন্ট কংগ্রেসের কাজে বাধা সৃষ্টি করেছেন। প্রধান বিচারপতি জন রবার্টসের সভাপেিত্ব বুধবারের ৪৫ মিনিটের বিচার প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত সেশনে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে উত্থাপিত দুটি অভিযোগের ক্ষেত্রে সিনেটরদের কেবলমাত্র ‘অপরাধী বা ‘অপরাধী নয়’ এ দুই অভিমতে রায় দিতে বলা হয়। যা আগের রীতিতে আইনপ্রণেতারা ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ বলে রায় দিতেন। এর মধ্যে প্রথম অভিযোগ ৫২-৪৮ ভোটে এবং দ্বিতীয় অভিযোগ ৫৩-৪৮ ভোটে নাকচ হয়ে যায়। এর কোন একটি অভিযোগে দুই তৃতীয়াংশ ভোটে দোষী সাব্যস্ত হলেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে দায়িত্ব ছেড়ে দিতে হতো ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সের হাতে। তবে সিনেটে ট্রাম্পের নিজের দল রিপাবলিকান পার্টির সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় তেমন কিছু যে ঘটবে না তা আগেই অনুমান করা হচ্ছিল।

ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া : দেশটিতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যাওয়ায় এ গুরুতর অভিযোগে ট্রাম্পের এই অভিশংসন যুক্তরাষ্ট্রকে দ্বিধাবিভক্ত করে রেখেছিল বলে জানিয়েছে বিবিসি। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বরাবরই তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছেন। তার প্রচার শিবিরের পক্ষ থেকে দেয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পুরোপুরি নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছেন। এখন আমেরিকারদের জন্য কাজে মন দেয়ার সময়।’ অকর্মা ডেমোক্র্যাটরা ভালো করেই জানে, তারা তাকে (ট্রাম্প) হারাতে পারবে না, সে কারণেই তারা ইমপিচমেন্টের (অভিশংসন) পথে গেছে।’ এদিকে গ্যালপের জনমত জরিপে এ সপ্তাহে ভোটারদের মধ্যে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা উঠে এসেছে ৪৯ শতাংশে। যা তার জন্য এ যাবতকালের সর্বোচ্চ। বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানানোর কথা ট্রাম্পের ।

ভোটাভুটিতে যা হলো : উটাহ অঙ্গরাজ্যেও সিনেটর মিট রমনি ছিলেন একমাত্র রিপাবলিকান যিনি দলের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে ট্রাম্পের বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন। তবে ডেমোক্র্যাটদের নিরাশ করেছেন অন্য দুইজন মধ্যপন্থি রিপাবলিকান সিনেটর—-মেইনের সুসান কলিনস এবং আলাস্কার লিসা মারকাওস্কি। প্রতিশ্রুতি দিয়েও তারা নিজের পক্ষ ত্যাগ করেননি। এছাড়াও কয়েকজন রিপাবলিকান সিনেটর সাম্প্রতিক সময়ে ট্রাম্পের আচরণের সমালোচনা করলেও, তাদের বক্তব্য হচ্ছে সেটা তাকে অভিশংসিত করার পর্যায়ে যায়নি।

ডেমোক্র্যাটদের প্রতিক্রিয়া : ভোটাভুটিতে হেরে যাওয়ার পর ডেমোক্র্যাট দলীয় সদস্যরা বলেছেন, এর ফলে ট্রাম্প আরও বেপরোয়া হয়ে উঠবেন। হাউজ স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি বলেছেন, ‘মি. ট্রাম্প আমেরিকার গণতন্ত্রের জন্য সব সময় একটি ‘হুমকি’ হিসেবে বিবেচিত হবেন এবং রিপাবলিকান সিনেটররা আইন না থাকার বিষয়টিকে সাধারণ বিষয়ে পরিণত করেছেন।’ সিনেটে ডেমোক্র্যাট দলীয় নেতা চাক শুমার বলেছেন, প্রেসিডেন্ট এ যাত্রা রেহাই পেলেও সবাই জানেন তার ত্রুটিগুলো কি?

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিরুদ্ধে এ অভিশংসনকে কেন্দ্র করে মার্কিন জনগণের মধ্যে গভীর বিভক্তি সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিমত রাজনীতি বিশ্লেষকদের। কিন্তু মি. ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিযোগ ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তার ফাঁস হওয়া ফোনালাপে দেখা যায়, সাবেক মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও তার ছেলে হান্টার বাইডেনের বিরুদ্ধে তদন্তের জন্য ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টকে রীতিমতো চাপ দিচ্ছেন প্রেসিডেন্ট। ওই ফোনালাপের ভিত্তিতে গোয়েন্দা সংস্থার একজন সদস্য আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করার পর ট্রাম্পের অভিশংসনের দাবি সামনে আসে। এরপর তাকে ইমপিচ করার উদ্যোগ নেয় ডেমোক্র্যাট নিয়ন্ত্রিত প্রতিনিধি পরিষদ। সেখানে অভিশংসিত হওয়ার পর এর পর সিনেটে চূড়ান্ত বিচারের মুখোমুখি হন ট্রাম্প।

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এখনও পর্যন্ত কোন প্রেসিডেন্টকে অভিশংসনের কারণে প্রেসিডেন্টের পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হয়নি।