আগাম নির্বাচনের ডাক লেবানন প্রধানমন্ত্রীর

image

প্রধানমন্ত্রী হাসান দিয়াব

লেবালনের বৈরুতে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনার পর থেকে রাজপথে নেমেছে দেশটির জনগণ। তারা বিস্ফোরণের জন্য সরকারের অব্যবস্থাপনাকেই দায়ী করছে। এরইমধ্যে সংকট উত্তরণে আগামী ১০ বছরের জন্য লেবাননের কর্তৃত্ব ফ্রান্সের হাতে তুলে দেওয়ার দাবিতে একটি পিটিশন খোলা হয়েছে। ইতোমধ্যে এতে স্বাক্ষর করেছেন প্রায় ৬০ হাজার মানুষ।

এমন পরিস্থিতিতে শনিবার আগাম নির্বাচনের ডাক দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী হাসান দিয়াব। তিনি বলেছেন, ভয়াবহ ওই বিস্ফোরণের পর উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় তিনি আগাম পার্লামেন্ট নির্বাচনের অনুরোধ জানাবেন।

টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক ভাষণে হাসান দিয়াব বলেন, আগাম নির্বাচন ছাড়া এই সংকট থেকে উত্তরণের সুযোগ নেই। সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে আগাম পার্লামেন্ট নির্বাচনের একটি বিলের খসড়া উপস্থাপন করবো।

দেশের এই পরিস্থিতিতে সব রাজনৈতিক দলকে নিজেদের মধ্যকার বিভেদ থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানান তিনি।

শনিবার হাসান দিয়াবের এমন আহ্বানের মধ্যেই দেশটির রাজপথে নেমে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ প্রদর্শন করে হাজার হাজার মানুষ। রাজধানী বৈরুতে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে পুলিশ টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করলে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। শহরের কেন্দ্রস্থল থেকে গুলির আওয়াজ আসতে থাকে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, বৈরুতে এদিনের সহিংসতায় অন্তত ৭২৮ জন বিক্ষোভকারী আহত হয়েছে।

এক পর্যায়ে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ঢুকে পড়ে একদল বিক্ষোভকারী। এ সময় পার্লামেন্ট ভবনে অনুপ্রবেশ বন্ধে পুলিশের দেওয়া ব্যারিকেড ভাঙারও চেষ্টা চালানো হয়।

লেবাননকে ফ্রান্সের কর্তৃত্বে নেওয়া সংক্রান্ত পিটিশনে বলা হয়েছে, কর্মকর্তারা স্পষ্টতই রাষ্ট্রের সুরক্ষা নিশ্চিত করা ও দেশ পরিচালনায় তাদের অক্ষমতা দেখিয়েছে। একটি ব্যর্থ ব্যবস্থা, দুর্নীতি, সন্ত্রাসবাদ এবং মিলিশিয়া বাহিনী দেশকে শেষ করে দিচ্ছে। রাষ্ট্র ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে।

এক সময় ফ্রান্সের উপনিবেশ ছিল লেবানন। এখন এই পিটিশনের উদ্যোক্তাদের বিশ্বাস, একটি পরিচ্ছন্ন ও টেকসই প্রশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য লেবাননকে ফের ফ্রান্সের অধীনে ফিরে যেতে হবে। এমন পরিস্থিতিতে আগাম পার্লামেন্ট নির্বাচনের কোনও বিকল্প নেই বলে মনে করছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী হাসান দিয়াব।

উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ৪ আগস্ট বিকালে লেবাননের রাজধানী বৈরুতের বন্দর এলাকায় জোড়া বিস্ফোরণ ঘটে। সরকারি হিসাবে, বিস্ফোরণে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৫৮ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে ৫ হাজার মানুষ। ক্ষতি হয়েছে শত শত কোটি ডলারের। ঘটনার কারণ নির্ণয়ে তদন্ত কমিটিকে চার দিনের সময় বেঁধে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

প্রাথমিকভাবে বিস্ফোরক সামগ্রীর বিশাল মজুত থেকে এ বিস্ফোরণ ঘটেছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। কর্মকর্তারাও একই রকমের তথ্য দিয়েছেন। তবে শুক্রবার এক বিবৃতিতে লেবাননের প্রেসিডেন্ট মাইকেল আউন বলেছেন, ‘ঘটনার কারণ এখনও জানা যায়নি। রকেট বা বোমা কিংবা অন্য কোনও ভাবে বাইরে থেকে হস্তক্ষেপের আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।’