আপিলেও হারলেন ট্রাম্প

image

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার পারিবারিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের আয়কর বিবরণী চেয়ে ম্যানহাটনের এক অ্যাটর্নির কার্যালয়ের জারি করা পরোয়ানা মামলার আপিলেও নিম্ন আদালতের রায় বহাল থাকছে। ৩ নভেম্বর সোমবার সেকেন্ড ইউএস সার্কিট কোর্ট অব আপিলসের বিচারকরা ট্রাম্পের হিসাব ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানকে প্রেসিডেন্টের ৮ বছরের ব্যক্তিগত ও কর্পোরেট আয়কর বিবরণী ম্যানহাটনের কৌঁসুলিদের কাছে হস্তান্তর করার নির্দেশ দিয়েছেন। তবে আপিলে হারলেও এখনই ট্রাম্পকে তার আয়কর সংক্রান্ত নথি জমা দিতে হচ্ছে না। তিনি চাইলে এ নিয়ে সুপ্রিমকোর্টেরও দ্বারস্থ হতে পারবেন। নিউইয়র্ক টাইমস।

এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন গণমাধ্যমগুলো জানায়, চলতি বছরের আগস্টে ম্যানহাটনের ডেমোক্র্যাটিক অ্যাটর্নি সাইরাস আর ভেন্স জুনিয়রের কার্যালয় ট্রাম্পের হিসাব ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান মাজার্সের কাছে ২০১১ সালের পর থেকে ট্রাম্প ও তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর আয়কর বিবরণী চেয়ে পরোয়ানা জারি করে। এর জেরে দুই পক্ষের মধ্যে আইনি লড়াই শুরু হয়। সাইরাসের এ কার্যালয় ২০১৬-র প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল দাবি করা দুই নারীকে অর্থ দেয়ার অভিযোগ খতিয়ে দেখছে। এদিকে অভিশংসন ছাড়া মার্কিন সংবিধান প্রেসিডেন্টকে যাবতীয় অপরাধের তদন্ত থেকে দায়মুক্তি দিয়েছে যুক্তি দিয়ে ট্রাম্পের আইনজীবীরা শুরু থেকেই এ আয়কর বিবরণী প্রকাশের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেন। ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থেকে, প্রেসিডেন্টকে হয়রানি করতেই এমনটা করছে বলেও অভিযোগ তাদের। এরই ধারাবাহিকতায় গত অক্টোবরে ম্যানহাটনের আদালত সাইরাসের কার্যালয়ের পরোয়ানার পক্ষে অবস্থান নিলে ট্রাম্প আপিল করেন।

সোমবার আপিল আদালতও ট্রাম্পের দায়মুক্তির যুক্তি প্রত্যাখ্যান করে জানায়, সাইরাসের কার্যালয় ট্রাম্প নয়, তার প্রতিষ্ঠানের কাছে নথি চেয়েছে, যা মোটেও প্রেসিডেন্টের দায়মুক্তির সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। তিন সদস্যের এ আপিল আদালতে বিচারক হিসেবে ছিলেন রবার্ট এ কাটজম্যান, ডেনি চিন ও ক্রিস্টোফার এফ ড্রোনি। প্রথম বিচারক বিল ক্লিনটনের আমলে নিয়োগ পান, পরের দু’জনকে আপিল বিভাগে এনেছিলেন বারাক ওবামা। অপরদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিমকোর্টেই বিষয়টির মীমাংসা হতে যাচ্ছে বলে অভিমত পর্যবেক্ষদের।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক মন্তব্যকে হুমকি হিসেবে বিবেচনা করছেন ইউক্রেনে নিযুক্ত দেশটির সাবেক রাষ্ট্রদূত ম্যারি ইয়োভানোভিচ। ট্রাম্পের অভিশংসন তদন্তের অংশ হিসেবে কংগ্রেস কমিটির কাছে দেয়া স্বাক্ষ্যে এ মন্তব্য করেছেন এ সাবেক রাষ্ট্রদূত। রুদ্ধদ্বার ওই স্বাক্ষ্যের প্রথম পান্ডুলিপি সোমবার প্রকাশ করেছে দেশটির প্রধান বোরোধীদল ডেমোক্র্যাট নেতৃত্বাধীন কমিটি।