আমিরাতের ইসরায়েল চুক্তির সমালোচনা ইরান, তুরস্কের

ফিলিস্তিনকে ‘পরিত্যাগ’ করে ইসরায়েলের সঙ্গে চুক্তি করায় সংযুক্ত আরব আমিরাতেরসমালোচনা করেছে ইরান ও তুরস্ক।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একে ফিলিস্তিনের জনগণ ও সব মুসলমানের পিঠে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ‘ছুরিকাঘাত’ হিসেবে অভিহিত করেছে।

আর তুরস্ক হুশিয়ারি দিয়েছে তারা আরব আমিরাতের সঙ্গে কুটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করবে।

একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত এ চুক্তি করা ইসরায়েল ও সংযুক্ত আরব আমিরাত উভয় দেশের জন্যই ‘বোকামি’ বলে মনে করছে ইরান।

প্রসঙ্গত, ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি দেশের দ্বন্দ্ব এ চুক্তির পেছনে নিয়ামক হিসেবে কাজ করেছে। এই সুযোগে ইরানের বিরুদ্ধে মধ্যপ্রাচ্যের অন্য দেশগুলোকে জোটবদ্ধ করতে চাইছে যুক্তরাষ্ট্র।

নতুন এই চুক্তির ফলে মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলের একঘরে দশাটা কমলো। খবর দ্য গার্ডিয়ানের।

চুক্তির প্রতিক্রিয়ায় তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, “ইতিহাস এবং এ অঞ্চলের মানুষের বিবেক কখনো এই কপট আচরণ ভুলবে না, ক্ষমাও করবে না।”

তবে তুরস্কেরও কয়েক দশক ধরে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিল ইসরায়েলের সঙ্গে।

তুরস্কের বর্তমান প্রেসিডেন্ট রেজেপ তাইয়েপ এরদোয়ান নিজেকে ওই অঞ্চলে ফিলিস্তিনের পক্ষে সবচেয়ে সোচ্চার হিসেবে জাহির করছেন।

গত জানুয়ারিতে ইসরায়েলের সীমানা সম্প্রসারণের নকশাসহ ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির লক্ষ্য ঘোষণা করেন। তখন থেকেই তুরস্ক বলে আসছে, তারা কখনোই এ প্রস্তাব মেনে নেবে না।

এদিকে বাহরাইন ও ওমানও শিগগিরই ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন ট্রাম্পের জামাতা ও জ্যেষ্ঠ পরামর্শক জেরাড কুশনার। উভয় দেশই চুক্তির জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাতকে স্বাগত জানিয়েছে।

ফিলিস্তিনিদের এক রকম অন্ধকারে রেখেই বুধবার ইসরায়েল ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরের ঘোষণা দেন ট্রাম্প।

ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস বলেন, তাদের এ ব্যাপারে আগে কিছুই বলা হয়নি।

ফিলিস্তিনের সরকারি মুখপাত্র নাবিল আবু রুদেইনেহ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের চুক্তির স্বাক্ষরের এই ঘোষণা প্রত্যাখ্যান করছে এবং তার নিন্দা জানাচ্ছে ফিলিস্তিন। এটা জেরুজালেম ও ফিলিস্তিনের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা।

ইসরায়েলের সীমানা সম্প্রসারণ স্থগিত হওয়ার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন বলেন, “এটি একটি বড় সুসংবাদ।”

তিনি বলেন, "আমার খুব আশা ছিল যে সীমানা বাড়ানোর পরিকল্পনা এগোবে না। আজকে তা স্থগিতের সিদ্ধান্ত মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি স্থাপনের পথে এক ধাপ অগ্রগতি।"

নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী জো বাইডেনও ইসরায়েল ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যকার চুক্তি স্বাক্ষরে ট্রাম্পের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।

তিনি বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে ইসরায়েলের অবস্থানকে নিশ্চিত করতে ট্রাম্প সাহসী ভূমিকা নিয়েছেন, যা খুবই দরকার ছিল, এবং তাকে স্বাগত জানাই।”

তবে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন বসতি সম্প্রসারণের পরিকল্পনা স্থগিত হয়েছে মাত্র, কিন্তু তা থেকে তিনি সরে আসছেন না।