অভিশংসন তদন্তের শুনানিতে সন্ডল্যান্ড

ইউক্রেনের ওপর চাপ সৃষ্টির নির্দেশ দিয়েছিলেন ট্রাম্প

image

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিশংসন তদন্তের প্রকাশ্য শুনানিতে এবার সাক্ষ্য দিয়েছেন গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত গর্ডন সন্ডল্যান্ড। ২০ নভেম্বর বুধবার শুনানির শুরুতেই তিনি বলেছেন, সাবেক মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের বিরুদ্ধে তদন্ত করতে ইউক্রেনের ওপর চাপ সৃষ্টি করার নির্দেশ ছিল প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বল্টন এ বিষয়ে জানতেন। সন্ডল্যান্ড আরও জানান, প্রেসিডেন্ট চেয়েছিলেন তার ব্যক্তিগত আইনজীবী ও সাবেক নিউইয়র্ক মেয়র রুডি গিউলিয়ানি যেন ইউক্রেনের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের নেতৃত্বে থাকেন। প্রেসিডেন্টের নির্দেশেই ইউক্রেন ইস্যুতে রুডি গিউলিয়ানির সঙ্গে সন্ডল্যান্ড কাজ করেছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

তার এ সাক্ষ্য ইউক্রেন বিতর্কে ট্রাম্পের সক্রিয়ভাবে জড়িত থাকারই প্রমাণ দিচ্ছে। সন্ডল্যান্ড জানান, তিনি ইউক্রেনের কর্তৃপক্ষকে বলেছিলেন, তারা যেন ট্রাম্প ও গিউলিয়ানির দাবি মেনে বাইডেনের বিরুদ্ধে তদন্তের একটি সরকারি বিবৃতি দেয়। তা না হলে দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ সাহায়তা নাও পেতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের ওই নিরাপত্তা সহায়তা ইউক্রেনের প্রতিরক্ষার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল।’ সন্ডল্যান্ড বলেন, ‘ইউক্রেন ওইরকম বিপদে পড়েছিল দেখে আমি সত্যিই দুঃখিত। কিন্তু ওই সমস্যা সমাধানে এবং দেশটির অচলাবস্থা নিরসনে আমি চেষ্টা করেছি।’ কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদে শুনানির উদ্বোধনী বক্তব্যে সন্ডল্যান্ড এমন সাক্ষ্য দিয়ে বোমা ফাটিয়েছেন। হোয়াইট হাউজের সব সাফাই এ বোমার তোড়ে উড়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিবিসি’র এক সাংবাদিক। তদন্তে দোষ বেরিয়ে এলে ট্রাম্প অভিশংসনের মুখে পড়বেন। তবে প্রতিনিধি পরিষদ যদি তার বিরুদ্ধে ভোট দেয় এবং সিনেটে তিনি দোষী সাব্যস্ত হন তবেই পদ যাবে ট্রাম্পের। ট্রাম্প আগামী বছরের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তার সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ডেমোক্র্যাট নেতা জো বাইডেন ও তার ছেলের বিরুদ্ধে দুর্নীতির তদন্ত করতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলাদিমির জেলেনোস্কিকে চাপ দিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ অভিযোগেই ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিশংসন তদন্ত শুরু করেছে ডেমোক্র্যাটরা। যদিও এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ট্রাম্প। কয়েক সপ্তাহের রুদ্ধদ্বার প্রক্রিয়া চলার পর গত ১৩ নভেম্বর থেকে কংগ্রেসে প্রতিনিধি পরিষদের গোয়েন্দা কমিটির সামনে শুরু হয়েছে ওই তদন্তের প্রকাশ্য শুনানি। এতেই একের পর এক সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ট্রাম্পের ওই ফোনালাপ ফাঁস হলে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে ঝড় উঠে। ওই ফোনকলের অনুলিপিও গোপন করতে চেয়েছিল হোয়াইট হাউজ। তবে শেষ পর্যন্ত ওই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। হোয়াইট হাউজের ফোনকলের প্রতিলিপিতে দেখা গেছে, ট্রাম্প গত ২৫ জুলাই ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলাদিমির জেলেনস্কিকে এই তদন্তের জন্য বারবার চাপ দিচ্ছিলেন। সন্ডল্যান্ড একজন ধনী ব্যবসায়ী ও ট্রাম্পের সমর্থক। ইউক্রেনের জনপ্রিয় কৌতুকাভিনেতা ভলাদিমির জেলেনস্কি দেশটির প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণের কয়েক মাসের মাথায় ট্রাম্পের সঙ্গে তার এ ফোনালাপ অনুষ্ঠিত হয়। ট্রাম্পের দাবি, জো বাইডেন ইউক্রেনে তার ছেলের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করেছিলেন।