ইতিহাস গড়লেন যারা

image

এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলে ইতিহাস গড়ল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ২২তম এ কংগ্রেসে প্রথমবারের মতো মুসলিম ও আদিবাসী আমেরিকান নারী থেকে শুরু করে প্রথম ঘোষিত সমকামী গভর্নর হওয়ার রেকর্ড এ ইতিহাসকে সম্ভব করে তুলেছে। মিনেসাটা ও মিশিগান অঙ্গরাজ্যের দুই ডেমোক্র্যাট রাজনীতিবিদ ইলহান ওমর এবং রাশিদা তালিব মার্কিন কংগ্রেসে প্রথম মুসলিম নারী হিসেবে এবার নির্বাচিত হয়েছেন। এর পাশাপাশি প্রথম স্থানীয় আমেরিকান নারী হিসেবে কংগ্রেসে নির্বাচিত হয়েছেন ক্যানসাস অঙ্গরাজ্যের শারিস ডেভিডস এবং নিউ মেক্সিকোর ডেব্রা হাল্যান্ড। ডেভিডস প্রথম সমকামী কংগ্রেস প্রতিনিধিও। এদিকে কলোরাডো থেকে গভর্নর নির্বাচিত হয়ে এ ইতিহাসের অংশ হয়েছেন স্বঘোষিত সমকামী ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জ্যারেড পলিস। এছাড়াও নিউইয়র্কের ডেমোক্র্যাট আলেক্সান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্তেজ কংগ্রেসের সর্বকনিষ্ঠ নারী প্রতিনিধি হিসেবে যোগদান করে ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন ইতোমধ্যেই।

মঙ্গলবারের (৬ নভেম্বর) নির্বাচনে মিনেসোটা ও মিশিগানের ভোটাররা তাদের প্রতিনিধি হিসেবে ইলহান ওমর ও রাশিদা তালিবকে নির্বাচিত করেছে বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে। গৃহযুদ্ধের কারণে সোমালিয়া থেকে পালিয়ে আসা ওমর একজন সাবেক শরণার্থী ও তালিব ডেট্রয়েটে জন্মগ্রহণকারী প্যালেস্টাইন-আমেরিকান পিতামাতার সন্তান। তারা দু’জনেই ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। মিনেসোটা থেকে নির্বাচিত ইলহান ওমর সোমালিয়া থেকে আসার পর যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পান। তিনি মিনিসোটা অঙ্গরাজ্যের আইন পরিষদেরও সদস্য ছিলেন। শিশু বয়সে তিনি চার বছর কেনিয়ার একটি শরণার্থী শিবিরে ছিলেন। দুই বছর আগে সব মুসলিমের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রচারণা চালানো যে রাতে ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন সেই রাতে প্রথম সোমালি-আমেরিকান হিসেবে ওমর দেশটির একটি অঙ্গরাজ্যের আইন পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। মার্কিন কংগ্রেসের প্রথম হিজাব পরা সদস্য হতে যাচ্ছেন ৩৬ বছর বয়সী ওমর। অন্যদিকে ৪২ বছর বয়সী তালিবও ইতিহাসের ধারা পাল্টে দেয়া আরেকজন নারী। ২০০৮ সালে প্রথম মুসলিম নারী হিসেবে তিনি মিশিগান আইন পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। প্যালেস্টাইন থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসা এক পরিবারের ১৪ সন্তানের মধ্যে তিনি সবার বড়। ডেট্রয়েটে তার পিতা ফোর্ড মোটর কোম্পানির একটি প্রকল্পের কর্মী ছিলেন। ইতিহাস সৃষ্টিকারী এ দুই নারীই ব্যাপকভাবে ডেমোক্র্যাট প্রভাবিত এলাকা থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে নির্বাচিত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ওমর বিরাট ব্যবধানে জয় পেয়েছেন। এদিকে কানসাসের শেরিস ডেভিডস ও নিউ মেক্সিকোর ডেবরা হাল্যান্ড-এ দুই আদিবাসী আমেরিকান নারীই ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থী ছিলেন বলে জানিয়েছে বিবিসি। সিএনএন বলছে, শেরিসার আদিবাসী হো-চাঙ্ক জাতির সদস্য, আর ডেবরা এসেছেন পুয়েবলো অব লাগুনা থেকে।

তাদের আসন দুটিতে ডেমোক্র্যাটরা বিজয়ী হবে এমন ধারণা করা হচ্ছিল। নিউ মেক্সিকোর ডেবরা গত জুন মাসে অনুষ্ঠিত পার্টির প্রাথী বাছাই ভোটাভুটিতে জিতে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির মনোনয়ন পান। মঙ্গলবারের নির্বাচনে তিনি রিপাবলিকান জেনিস আর্নল্ড জোনসের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। অন্যদিকে কানসাসে আইনজীবী ও মিক্সড মার্শাল আর্ট খেলোয়াড় শেরিস লড়াই করেছেন রিপাবলিকান সাবেক কংগ্রেস সদস্য কেভিন ইয়োদেরের বিরুদ্ধে। আদিবাসী এ আমেরিকান কানসাস থেকে কংগ্রেসে যাওয়া প্রথম সমকামী প্রতিনিধি বলে জানিয়েছে মার্কিন গণমাধ্যম।

অন্যদিকে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকানদের এ যুদ্ধে ইতিহাসে প্রথমবার ঘোষিত সমকামী গভর্নর পেল মার্কিনিরা। ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, রিপাবলিকান প্রার্থী ওয়াকার স্টেপলটনকে পরাজিত করে কলোরাডোর গভর্নর নির্বাচিত হয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জ্যারেড পলিস।

মার্কিন কংগ্রেস থেকে পাঁচ বার প্রতিনিধি পরিষদে নির্বাচিত হন জ্যারেড। সমকামী হওয়া নিয়ে কোনকালেই লুকোছাপা করেননি তিনি। এবারের নির্বাচনী প্রচারেও তা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করতে দেখা গেছে তাকে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমালোচনার ক্ষেত্রে বারবার নিজের সমকামী পরিচয়কে তুলে ধরতেও দেখা গেছে তাকে। ২০১১ সাল থেকে কলোরাডোর গভর্নর ছিলেন রিপাবলিকান সদস্য জন হিকেনলুপার। এবার তার জায়গায় বসবেন জ্যারেড। ইহুদি পরিবারের ছেলে জ্যারেড পলিস। রাজনীতির পাশাপাশি নিজের ব্যবসাও চালান তিনি। মার্কিন কংগ্রেসের অন্যতম ধনী সদস্য তিনি। পার্টনার মারলন রিজের সঙ্গে এক ছেলে, কাস্পিয়ান জুলিয়াস এবং এক মেয়ে, কোরা বারুচা রয়েছে তার।

আদিবাসী ও মুসলিম নারীদের এ জয়কে দেশটির বর্তমান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জন্য অশনিসংকেত হিসেবেই দেখছেন পর্যবেক্ষকরা।