ইরাকে কোভিডে মৃতদের স্বজনরা হমলা চলাচ্ছে চিকিৎসকদের উপর

image

ইরাকে কোভিডে মৃতদের স্বজনরা হমলা চলাচ্ছে চিকিৎসকদের উপর।

দেশটিতেকরোনাভাইরাস সংক্রমণ বাড়তে থাকার সঙ্গে সঙ্গে উত্তরোত্তর সহিংসতার শিকার হচ্ছেন চিকিৎসকরা।মারা যাওয়া করোনাভাইরাস রোগীদের স্বজনদের মারধরের শিকার সব চিকিৎসকরা আতঙ্কে ভুগছেন। প্রতিবার একজন করে রোগীর মৃত্যু হয়, আর আতঙ্কে তাদের দম বন্ধ হয়ে আসে। দেশটিতে মেডিকেল স্টাফদের ওপর এমন হামলার ঘটনা বাড়তে থাকায় কোভিড-১৯ সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতির মধ্যে চিকিৎসকদের নিজ নিজ দায়িত্ব পালনের লড়াইও কঠিন থেকে কঠিনতর হচ্ছে।

বছরের পর বছর ধরে চলা গৃহযুদ্ধ এবং তহবিলের অভাবের কারণে ইরাকের স্বাস্থ্য সেবা ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। এর মধ্যে সংগ্রাম করে নিজ দায়িত্ব পালনের প্রাণান্তকর চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া চিকিৎসকরা এখন রোগীদের শোকার্ত, মরিয়া স্বজনদের কাছ থেকে শারিরীকভাবে হামলার শিকার হওয়ার নতুন হুমকিতে পড়েছেন।

এ বিষয় নিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স ইরাকের সাতজন চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলেছে। যাদের একজন দেশটির মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান আব্দুল আমির হুসাইন । তিনি করোনাভাইরাস মহামারী শুরু হওয়ার পর চিকিৎসা কর্মীদের উপর রোগীর স্বজনদের হামলা বাড়ার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন। তিনি বলেন, দেশজুড়ে এরইমধ্যে কয়েক ডজন চিকিৎসককে এ ধরনের হামলার শিকার হতে হয়েছে।

ওদিকে, ইরাকে কোভিড-১৯ মহামারী নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ। ইরাকে প্রতিদিনই কয়েক হাজার নতুন রোগী শনাক্ত হচ্ছে। মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা তিন লাখ ছাড়িয়ে গেছে। মারা গেছেন আট হাজারের বেশি মানুষ। কিন্তু অর্থনীতি বাঁচাতে সরকার লকডাউন শিথিল করতে বাধ্য হয়েছে। রেস্তোরাঁ ও উপাসনালয় খুলে দেওয়া হয়েছে। যদিও এখনও সীমান্ত বন্ধ আছে।

চিকিৎসা কর্মীদের উপর হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা করে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী মুস্তফা আল-কাদিমি বলেছেন, হামলায় জড়িতদের বিচারের আওতায় আনা হবে।

গত কয়েক মাসে চিকিৎসকদের উপর হামলা বেড়েছে বলে জানান ইরাকের মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান আব্দুল আমির হুসাইন। তিনি বলেন, অ্যাসোসিয়েশন সব ঘটনার রেকর্ড রাখতে পারেনি। তবে চিকিৎসাকর্মীদের গালাগালি, মারধর এমনকি ছুরিকাঘাতও করা হয়েছে।

সরকার কঠোর সুরক্ষা ব্যবস্থা না নেওয়াতেই এমনটি হচ্ছে বলে মনে করেন চিকিৎসকরা। মহামারীর আগে থেকেই চিকিৎসকরা এমন পরিস্থিতির শিকার হয়ে আসছে।