ইরাকে ফের সহিংসতায় নিহত ১১ : কারফিউ জারি

image

সংঘর্ষে আহত এক তরুণকে উদ্বার করে নিয়ে যাওয়া হয়

ইরাকের রাজধানী বাগদাদে ৩ অক্টোবর বৃহস্পতিবার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য কারফিউ জারি করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় দুর্নীতি, বেকারত্ব ও অদক্ষতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে গত মঙ্গলবার (১ অক্টোবর) রাজধানী বাগদাদে সরকারবিরোধী ব্যাপক বিক্ষোভ করে দেশটির জনগণ। দু’দিন ধরে চলমান এ সহিংস বিক্ষোভে ৯ জন নিহত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বৃহস্পতিবার রাজধানীজুড়ে কারফিউ জারি করেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী আদেল আবদেল মাহদি। কারফিউ ঘোষণার পর আবারও সংঘটিত সহিংসতায় আরও ১১ জন নিহত হন। দক্ষিণাঞ্চলে নিহতদের নিয়ে দেশটিতে দু’দিন আগে শুরু হওয়া সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ও সহিংসতায় মোট নিহতের সংখ্যা ২০-এ দাঁড়াল। ২ অক্টোবর বুধবার মধ্যরাতে ইরাকের দক্ষিণাঞ্চলীয় দুটি শহরে সহিংসতার এসব ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে পুলিশ ও মেডিকেল সূত্রগুলো। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।

মঙ্গলবার শুরু হওয়া সরকারবিরোধী এ বিক্ষোভটি দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় বিভিন্ন স্থানে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ সহিংসতায় রূপ নেয়। এ পরিস্থিতিতে বিক্ষোভ দমনে দেশটির প্রধানমন্ত্রী আদেল আবদেল মাহদি বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় ভোর ৫টা থেকে বাগদাদজুড়ে যে কোন বিক্ষোভ ও সমাবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন।

নাসিরিয়ায় বিক্ষোভাকরীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর রাতভর বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষের সময় ৬ বিক্ষোভকারী ও পুলিশের এক সদস্য নিহত হন। আমারায় আরও ৪ জন নিহত হয়েছেন বলে সূত্রগুলো রয়টার্সকে জানায়। এর আগ পর্যন্ত রাজধানী বাগদাদসহ দেশজুড়ে সরকারবিরোধে বিক্ষোভ সহিংসতার ৭ জন নিহত ও কয়েকশ’ ব্যক্তি আহত হয়েছিলেন। সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার পর বাগদাদ ও দক্ষিণাঞ্চলীয় তিনটি শহরে কারফিউ জারি করে সরকার। বৃহস্পতিবার ভোরে কারফিউ শুরু হওয়ার পর বাগদাদের কেন্দ্রীয় এলাকায় সৈন্যরা টহল শুরু করে। এর মধ্যেও রাজধানীর কয়েকটি এলাকায় বিক্ষিপ্ত বিক্ষোভ চলছিল বলে রয়টার্সের এক প্রত্যক্ষদর্শী সাংবাদিক জানান।

বেকারত্ব, অদক্ষতা ও দুর্নীতির বিস্তার নিয়ে ক্ষুব্ধ কয়েক প্রতিবাদকারী বাগদাদে ছোট একটি বিক্ষোভ শুরু করেছিলেন। বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনী টিয়ার শেল ও জলকামান ব্যবহার করার পর বিক্ষোভ সহিংস রূপ নেয়। পরে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে অন্তত দু’জন নিহত হন। এরপরই বিক্ষোভ সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে। বুধবার দিনভর ব্যাপক বিক্ষোভে এক শিশুসহ পাঁচজন নিহত হন। এর পাশাপাশি বিক্ষোভকারী ও পুলিশসহ কয়েকশ’ ব্যক্তি আহত হন।