ইরানের ওপর ‘বড় আকারের’ নিষেধাজ্ঞা আসছে : ট্রাম্প

image

আবারও ইরানের ওপর ‘বড় আকারের’ নিষেধাজ্ঞা জারি করতে যাচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন। তেহরানের পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচি প্রতিরোধের লক্ষ্যে দেশটির ওপর নতুন করে এ নিষেধাজ্ঞা জারির কথা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পরে এক টুইটার বার্তায় তিনি সোমবার থেকে ‘বড় ধরনের এ অতিরিক্ত নিষেধাজ্ঞা’ কার্যকরের কথা জানান। এর আগে ২০১৫ সালে ছয় বিশ্বশক্তির সঙ্গে সম্পাদিত পরমাণু চুক্তির অংশ হিসেবে সম্মত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের মাত্রা নতুন করে বাড়ানোর ঘোষণা দেয় তেহরান। এরই ধারাবাহিকতায় দেশটির ওপর এ অতিরিক্ত নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

সম্প্রতি ওয়াশিংটন-তেহরান ধারাবাহিক উত্তেজনার মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে প্রায় যুদ্ধাবস্থা চলছে। এমন উত্তেজনার মধ্যেই কয়েকদিন আগে এ অঞ্চলে আরও ১ হাজার মার্কিন সেনা পাঠানোর ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এরই ধারাবাহিকতায় ২০ জুন বৃহস্পতিবার ইরানে ‘আরকিউ-৪ গ্লোবাল হক’ নামের একটি ড্রোন ভূপাতিত করার খবর পাওয়া যায়। যার প্রেক্ষিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানে সামরিক অভিযানের নির্দেশ দিয়েও ১০ মিনিটের মাথায় তা প্রত্যাহার করে নেন। জানান, যুদ্ধবিরোধী মনোভাব থেকে সরে এসে তিনি আলোচনার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এমন প্রেক্ষাপটে হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের উদ্দেশে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, আমরা আরও নিষেধাজ্ঞা জারি করতে যাচ্ছি। কিছু ক্ষেত্রে আমরা খুব দ্রুত কাজ করার চেষ্টা করছি। ট্রাম্পের ভাষায়, ইরান তাদের আচরণ পরিবর্তন না করলে এ অর্থনৈতিক চাপ অব্যাহত থাকবে। ‘যদি ইরান একটি সমৃদ্ধ দেশে পরিণত হতে চায়, তাতে আমার আপত্তি নেই’ সাংবাদিকদের উদ্দেশে এমন মন্তব্য করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, তবে পাঁচ ছয় বছরের মধ্যেই পরমাণু অস্ত্রে সমৃদ্ধ হয়ে ওঠার কথা যদি ইরান ভাবে, বাস্তবে তা কোনভাবেই সম্ভব নয়।’ এরপর তিনি ২০১৬ সালে নিজের নির্বাচনী প্রচারণা সেøাগানের সুরে বলেন, ‘ইরান আবারও মহান দেশ হয়ে উঠুক।’ সম্প্রতি ইরান ঘোষণা দেয় পরমাণু পরীক্ষার ক্ষেত্রে তারা আন্তর্জাতিকভাবে সম্মত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের মাত্রাকে বাড়াতে কাজ করবে।

মার্কিন সেনাদের জীবন রক্ষায় দায়িত্বশীল আচরণ করুন

জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েনকৃত মার্কিন সেনাদের জীবন রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রকে ‘দায়িত্বশীল আচরণ’ করার আহ্বান জানিয়েছেন ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। দেশটির সেনাবাহিনীর সবচেয়ে প্রভাবশালী বাহিনী ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) একটি মার্কিন গোয়েন্দা ড্রোন ভূপাতিত করার কয়দিন পর ২৩ জুন রোববার দেশটির খাত্তাম আল-আনবিয়া হেডকোয়ার্টারের কেন্দ্রীয় সদর দফতর থেকে ওয়াশিংটনের প্রতি এমন হুঁশিয়ারি দিলেন কমান্ডার মেজর জেনারেল ঘুলাম আলি রশিদ। বার্তা সংস্থা প্রেসটিভির এক প্রতিবেদনের বরাত এ তথ্য জানা যায়। এর আগে ওয়াশিংটনের যেকোন হুমকি দৃঢ়ভাবে মোকাবিলা করার প্রত্যয় জানায় তেহরান। শনিবার এক প্রতিবেদনে দেশটির আধা-স্বায়ত্তশাসিত বার্তা সংস্থা তাসনিমের বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এ তথ্য জানায়।

রোববার ইরানের প্রতিরক্ষ বিভাগের কেন্দ্রীয় সদর দফতরের নির্দেশ ও নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রে আইআরজিসি’র এরোস্পেস ডিভিসনের রাডার ও ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থা পরিদর্শন করেন তিনি। এ সময় তিনি মার্কিন প্রশাসনকে এ অঞ্চলে ‘ভুল আচরণ’ করা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। এ অঞ্চলে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের জীবনের প্রতি যেকোন ঝুঁকি হ্রাস করতে ওয়াশিংটনকে ‘অন্যায় কার্যক্রম’ করা থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করেন। একটি মার্কিন গোয়েন্দা ড্রোন (চালকবিহীন বিমান) গুলি করে ভূপাতিত করার পর তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনার মধ্যেই এর আগের দিন (শনিবার) যুক্তরাষ্ট্রের হুমকি মোকাবিলা করার প্রত্যয় জানান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আব্বাস মুসাভি। ‘যুক্তরাষ্ট্রের যেকোন আগ্রাসন বা হুমকি ইরান দৃঢ়ভাবে মোকাবিলা করবে’ জানিয়ে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আব্বাস মুসাভি বার্তা সংস্থা তাসনিমকে আরও বলেছেন, ‘তারা (যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা) যে সিদ্ধান্তই গ্রহণ করুক না কেন, তাতে ভ্রুক্ষেপ না করে ইরানের সীমান্ত লঙ্ঘন করতে কাওকে কোন সুযোগ দেব না আমরা।’ এদিকে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর জ্যেষ্ঠ মুখপাত্র আবুল ফজল শেকারচি একইদিন সংবাদ সংস্থা তাসনিমকে বলেছেন, ‘ইরানের শত্রুদের বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও তার আঞ্চলিক মিত্রদের যেকোন ভুল, পাউডারের পিপায় গুলিবর্ষণের শামিল।’ আবার দেশটির ইসলামিক রিপাবলিক নিউজ এজেন্সির (আইআরএনএ) দেয়া উদ্ধৃতিতে রেভলিউশনারি গার্ডের এয়ারোস্পেস ডিভিশনের প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আমিরালি হাজিজাদেহ বলেছেন, ‘এটি ইরানি আকাশসীমায় অনুপ্রবেশের জবাব। অনুপ্রবেশের ঘটনা বারবার ঘটলে আমরাও বারবার জবাব দেবো।’ বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের একটি গ্লোবাল হক গোয়েন্দা ড্রোন ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে বিধ্বস্ত হয়।

প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রসহ ছয় বিশ্বশক্তির (যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, রাশিয়া, চীন ও জার্মানি) সঙ্গে পরমাণু নিয়ন্ত্রণবিষয়ক একটি চুক্তি সই করে ইরান। বিনিময়ে দেশটির ওপর থেকে আংশিক অর্থনৈতিক অবরোধ তুলে নেয়া হয়। কিন্তু গত বছরের মে মাসে ইউরোপীয় মিত্রদের বাধা সত্ত্বেও ওই চুক্তি থেকে বেরিয়ে যান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। পরে ইরানের ওপর তেল রপ্তানিসহ বিভিন্ন খাতে একের পর এক অবরোধ আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। বর্তমানে এ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।