ইরানের ট্যাংকার ‘গ্রেস-১’ ছেড়ে দিয়েছে জিব্রাল্টার

image

‘গ্রেস-১’ এর নাম পরিবর্তন করে রাখা হয়েছে ‘এড্রিয়ান দরিয়া-১’

পারস্য উপসাগরে থেকে জব্দ করা ইরানি তেলবাহী ট্যাংকারটিকে শেষ পর্যন্ত ছেড়ে দিয়েছে জিব্রাল্টার কর্তৃপক্ষ। গ্রেস-১ নামের ওই ট্যাংকারটিকে আবারও আটক করার অনুরোধ জানায় ওয়াশিংটন। কিন্তু ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলটি তা প্রত্যাখ্যান করার কয়েক ঘণ্টা পর রোববার রাতে তা জিব্রাল্টার ছেড়ে যায়। জাহাজ চলাচল সংক্রান্ত সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। এদিকে তেল ট্যাংকারটি ইরানের পতাকা উড়িয়ে বন্দর ছেড়ে পারস্য উপসাগরের পূর্বাঞ্চলের দিকে যাত্রা শুরু করেছে বলে জানিয়েছে সংবাদ মাধ্যম বিবিসি।

তেহরান ও পশ্চিমা দেশগুলের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে গত ৪ জুলাই আটক হওয়া এ ট্যাংকারটি প্রায় দেড় মাসের মাথায় (১৮ আগস্ট) মুক্তি দিল জিব্রাল্টার। জিব্রাল্টার উপকূলে থাকার সময়েই ট্যাংকারটির নাম ‘গ্রেস -১’ পরিবর্তন করে ‘এড্রিয়ান দরিয়া ওয়ান’ রাখা হয়। স্থানীয় সময় রোববার রাত প্রায় ১১টার দিকে এড্রিয়ান দরিয়া ওয়ান জিব্রাল্টার ছেড়ে যায় বলে আন্তর্জাতিক অর্থ বাজার ও অবকাঠামোগত তথ্য সরবরাহকারী কোম্পানি রিফিনিটিভের পক্ষ থেকে প্রকাশিত তথ্যে দেখা গেছে। ট্যাংকারটি গ্রিসের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বলে জানা গেছে। এর আগে যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত হামিদ বায়েইদিনেজাদ এক টুইটার বার্তায় রোববার রাতে জাহাজটি জিব্রাল্টার ছাড়তে পারে বলে জানান। একই দিন সকালে গণমাধ্যমে আসা ভিডিও ও বিভিন্ন ছবিতে দেখা গেছে, জাহাজটির সামনের অংশে ‘গ্রেস-১’ লেখা কালো রঙ দিয়ে মুছে সেখানে সাদা রঙে নতুন নাম ‘এড্রিয়ান দরিয়া-১’ লেখা ট্যাংকারটিতে ইরানি পতাকা উড়ছে। এর আগে বৃহস্পতিবার ট্যাংকারটির আটকের মেয়াদ শেষ হলেও শুক্রবার ওয়াশিংটনের একটি আদালত ওটিকে আটক করতে একটি পরোয়ানা জারি করে।

সংবাদ মাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্রেস-১ নামের তেলবাহী ট্যাংকারটির বিরুদ্ধে জিব্রাল্টার তার আটকাদেশ প্রত্যাহারের একদিন পরই, শুক্রবার তা বহাল রাখার শেষ অনুরোধ জানায় যুক্তরাষ্ট্র। এ সময় জিব্রাল্টারের পক্ষ থেকে বলা হয়, নতুন আটকাদেশ জারি করার ওয়াশিংটনের অনুরোধ তারা মানতে পারছে না। কেননা ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ইউরোপীয় ইউনিয়নে প্রযোজ্য নয়। গ্রেস-১ তার পণ্য সিরিয়ায় পরিবহন করবে না- ইরানের কাছ থেকে এমন আশ্বাস পাওয়ার পর বৃহস্পতিবার জিব্রল্টার কর্তৃপক্ষ জাহাজটিকে ছেড়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু এর পরপরই মার্কিন বিচার বিভাগের পক্ষ থেকে জাহাজটির আটকাদেশ বাড়ানোর অনুরোধ করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় রোববার জিব্রাল্টারের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে তারা এ অনুরোধটি রাখতে পারছে না। বিবৃতিতে বলা হয়, ইরানের বিরুদ্ধে ইইউর আনা নিষেধাজ্ঞা জিব্রাল্টারে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার তুলনায় বেশি মাত্রায় প্রযোজ্য। তবে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে এ প্রত্যাখ্যানের কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

যদিও ১৯ জুলাই ইসলামিক রেভ্যুলুশনারি গার্ড ‘স্টেনা ইম্পেরা’ নামের যে জাহাজটি আটক করেছিল তা এখনও ইরানের দখলেই রয়েছে। এরপর যুক্তরাজ্য ঘোষণা দেয়, তারা হরমুজ প্রণালীর শিপিং রুটে যাতায়াত করা বাণিজ্য জাহাজের সুরক্ষায় একটি মার্কিন নেতৃত্বাধীন টাস্কফোর্সে যোগ দেবে। এদিকে ট্যাংকারটিকে পাহারা দেয়ার দরকার হলে নিজেদের নৌবাহিনী পাঠাতে প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছে ইরান।

ইইউ আরোপিত নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করে গ্রেস-১ সিরিয়ায় তেল নিয়ে যাচ্ছে সন্দেহে গত ৪ জুলাই ব্রিটিশ রয়েল মেরিন ভূমধ্যসাগরের জিব্রাল্টার প্রণালী থেকে সেটি আটক করে জিব্রাল্টার কর্তৃপক্ষ। ভারত, রাশিয়া, লাতভিয়া এবং ফিলিপাইনের ২৯ জন ক্রু বিশিষ্ট ট্যাংকারটি এরপর থেকে আটক অবস্থায় নিকটবর্তী জিব্রাল্টারের উপকূলে জাহাজটি নোঙর করে ছিল।

এ ট্যাংকার আটকের ঘটনা যুক্তরাজ্য ও ইরানের মধ্যে এক কূটনৈতিক সংকটের জন্ম দেয়। জবাবে সাম্প্রতি ইরান পারস্য উপসাগরে ব্রিটিশ পতাকাবাহী সুইস মালিকানাধীন একটি তেলবাহী ট্যাংকার ‘স্টেনা ইম্পেরা’কে আটক করায় এ উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পায়। ইরানের সঙ্গে ২০১৫ সালে সম্পাদিত পরমাণু চুক্তি থেকে গত বছর ওয়াশিংটন সরে আসার পর থেকেই এ কূটনৈতিক টানাপড়েন শুরু। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, তেহরান চুক্তি লঙ্ঘন করে পরমাণু কর্মসূচি চালিয়ে আসছে। আর ইরান এ অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে এসেছে। আর এরপর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যের দেশটির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে ট্রাম্প প্রশাসন। যদিও, এ চুক্তির অন্য অংশীদারদের মধ্যে যুক্তরাজ্য এবং অন্য ইউরোপীয় দেশ বলে আসছে যে তারা ইরানের সঙ্গে সম্পাদিত এ চুক্তিতে এখনও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ রয়েছে।

বলা হয়ে থাকে, ২১ লাখ ব্যারেল তেল বহনকারী ইরানি এ সুপার ট্যাংকারটি ইরানের ইসলামিক রেভ্যুলুশনারি গার্ড দ্বারা নিয়ন্ত্রিত।