ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভেদ জারিফের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আরোপ

image

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ জাভেদ জারিফের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার (৩১ জুলাই) মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় (ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট) এ নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেয়। এ নিষেধাজ্ঞা অনুসারে, দেশটিতে থাকা জারিফের সব সম্পত্তি কালো তালিকাভুক্ত করা হবে। এর পাশাপাশি এসব সম্পত্তির ওপর স্থগিতাদেশও বলবৎ থাকবে।

এদিন মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দেয়া এক বিবৃতিতে দেশটির অর্থমন্ত্রী স্টিভ মুচিন বলেন, ‘ইরানের সর্বোচ্চ নেতা (আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির) বেপরোয়া পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ করছেন জাভেদ জারিফ।’ জারিফকে ‘বিশ্বব্যাপী ইরানি শাসকদের অন্যতম প্রধান মুখপাত্র’ হিসেবে বর্ণনা করে এ দায়িত্ব পালনের অপরাধে যুক্তরাষ্ট্র তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে ওই বিবৃতিতে জানান মনুচিন। জারিফের ওপর নতুন মার্কিন এ নিষেধাজ্ঞার বলে যুক্তরাষ্ট্রে তার কোন সম্পদ থাকলে কর্তৃপক্ষ তা আটক রাখতে পারবে অথবা মার্কিন সংস্থাগুলো তার নিয়ন্ত্রণ নিতে পারবে বলে যুক্তরাষ্ট্র অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। এমনকি তার সম্পত্তির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা রয়েছে- এমন ব্যক্তিদের ওপরও কড়াকড়ি আরোপ করা হবে। এদিকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর এক টুইটার বার্তায় জাভেদ বলেছেন, তাকে মার্কিন পরিকল্পনার জন্য হুমকি মনে করে বলেই যুক্তরাষ্ট্র তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এ সময় মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ‘তার বা তার পরিবারের ওপর কোন প্রভাব ফেলবে না’ বলেও জানিয়েছেন জারিফ। তিনি আরও বলেছেন, ‘ইরানের বাইরে আমার কোন সম্পদ বা স্বার্থ নেই।’ এর আগে, জুনে তেহরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র।

ইরানের পরমাণু কর্মসূচি হ্রাস করার লক্ষ্যে ২০১৫ সালে সম্পাদিত জেসিপিওএ (জয়েন্ট কমপ্রিহেনসিভ প্ল্যান অব অ্যাকশন) নামের পরমাণু চুক্তি থেকে গত বছর যুক্তরাষ্ট্র সরে ?যায়। এর ফলে ওয়াশিংটনের সঙ্গে ইরানের উত্তেজনা বাড়তে শুরু করে। এরপর ট্রাম্প প্রশাসন তেহরানের ওপর পূর্ববর্তী সব নিষেধাজ্ঞা আবারও আরোপ করার পর এ উত্তেজনা তীব্র হয়ে ওঠে। ইরানের তেল রফতানির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞায় দেশ দুটির মধ্যে টানটান উত্তেজনা দেখা দেয়। সম্প্রতি পারস্য উপসাগরীয় হরমুজ প্রণালি ও এর আশপাশের জলপথে বেশ কয়েকটি পরস্পরবিরোধী ঘটনায় দেশ দুটির মধ্যে সামরিক সংঘাত শুরু হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। এমন উত্তেজনার মধ্যেই ইরানের সঙ্গে বেসামরিক পরমাণু সহযোগিতা বজায় রাখার সুযোগ দিতে রাশিয়া, চীন ও ইউরোপের দেশগুলোকে দেয়া ছাড়ের সময়সীমা বৃদ্ধি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। একইদিন (বুধবার) মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বল্টন ‘৯০ দিনের জন্য’ এ সময়সীমা বৃদ্ধি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন।

ইউরোপকে শেষ সুযোগ ইরানের

এদিকে পরমাণু সমঝোতা বাস্তবায়নের জন্য ইউরোপকে ৬০ দিনের যে সময় দেয়া হয়েছে সেটি পশ্চিমা দেশগুলোর জন্য সর্বশেষ সুযোগ বলে জানিয়েছে তেহরান। একইদিন (বুধবার) ইরানে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সাইয়্যেদ আব্বাস মুসাভি এমন মন্তব্য করেন। এসময়, ইরান এখনও পরমাণু সমঝোতার পূর্ণ বাস্তবায়ন চায় বলেও দাবি করেন তিনি। বুধবার মুসাভি এক বিবৃতিতে বলেন, পরমাণু সমঝোতায় স্বাক্ষরকারী দেশগুলো যদি ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষা করতে চায় তাহলে তাদের নিজেদের সেটি বাস্তবায়ন করতে হবে। ট্রাম্প প্রশাসন গত বছরের মে মাসে ইরানের পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর ফ্রান্সসহ ইউরোপীয় দেশগুলো এতে অটল থাকার ঘোষণা দেয়। এসব দেশ ইরানকে এ সমঝোতা বাস্তবায়নের আহ্বান জানানোর পাশাপাশি এ সমঝোতায় ইরানকে দেয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা হবে বলে প্রত্যয় ঘোষণা করে। কিন্তু এখন পর্যন্ত ইউরোপীয় দেশগুলো ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা অকার্যকর করার লক্ষ্যে কোন পদক্ষেপ নিতে পারেনি। এর জেরে গত ৮ মে ইরান ঘোষণা করে, দেশটি পরমাণু সমঝোতার ২৬ ও ৩৬ নম্বর ধারা অনুযায়ী, দেয়া কিছু প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন স্থগিত রাখবে তেহরান। ইরানের পক্ষ থেকে ৬০ দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়ে আরও বলা হয়, এ সময়ের মধ্যে ইউরোপ ইরানের তেল রফতানি ও ব্যাংকিং লেনদেন স্বাভাবিক করতে না পারলে তেহরান পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবে।