ইরানের বিরুদ্ধে নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞা

image

ইরানের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ২০১৫ সালে ছয় বিশ্বশক্তির সঙ্গে সম্পাদিত ঐতিহাসিক পরমাণু চুক্তি থেকে তেহরান আংশিকভাবে সরে আসার ঘোষণা দেয়ার পর ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে নতুন এ ঘোষণা দেয়া হলো। লোহা, স্টিলসহ ইরানের গুরুত্বপূর্ণ রাজস্ব খাত বলে বিবেচিত কিছু শিল্প পণ্যের ওপর এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে। হোয়াইট হাউসের বিবৃতিকে উদ্ধৃত করে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।

গত ২০১৫ সালের জুনে অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের ছয় শক্তিধর (নিরাপত্তা পরিষদের ৫ সদস্য রাষ্ট্র (পি-ফাইভ) যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, রাশিয়া, চীন ও জার্মানি (ওয়ান) দেশের সঙ্গে জেসিপিওএ (জয়েন্ট কমপ্রিহেনসিভ প্ল্যান অব অ্যাকশন) নামের পরমাণু সহযোগিতা চুক্তি সই করে ইরান। গত সপ্তাহ থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা শুরু হয়। ইরানের কাছ থেকে ‘সম্ভাব্য হামলার’র জবাবে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যপ্রাচ্যে বিমানবাহী রণতরী মোতায়েনের ঘোষণা দেয়ার পর এ উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ৮ মে বুধবার পরমাণু চুক্তি থেকে আংশিকভাবে সরে আসার ঘোষণা দেয় ইরান। যুক্তরাষ্ট্রের বেরিয়ে যাওয়া ও নিজেদের প্রতিশ্রুতি পালনে ইউরোপীয় দেশগুলোর ব্যর্থতার বিরুদ্ধে এবার পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে এদিন রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক অনুষ্ঠানে জেসিপিওএ চুক্তি থেকে আংশিকভাবে সরে আসার ঘোষণা দেন প্রেসিডেন্ট রুহানি। মন্ত্রিপরিষদ বৈঠক চলাকালে ইরানি জনগণের উদ্দেশে এমন সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি। এ চুক্তির আওতাভুক্ত বাকি দেশগুলোর (ফ্রান্স, ব্রিটেন, জার্মানি, চীন ও রাশিয়া) দূতদের কাছে এ ঘোষণাসংবলিত চিঠি আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেন দেশটির উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যেদ আব্বাস আরাকচি। তাদের বরাবর পাঠানো ওই চিঠিতে দেশটির সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল (এসএনএসসি) প্রধান হিসেবে প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানির নেয়া সিদ্ধান্তের বিস্তারিত সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, পরমাণু সমঝোতা (জেসিপিওএ)র কিছু প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কাজ স্থগিত রাখবে তেহরান। সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম এবং ভারি পানি মজুদ সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতি ইরান আর মানবে না। এ সময় চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য দেশগুলোকে ৬০ দিনের সময়সীমা বেধে দিয়েছে তেহরান। একইসঙ্গে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কবল থেকে সুরক্ষা দিতে না পারলে আরও পদক্ষেপ নেয়ার হুমকি দিয়েছে দেশটি।

এদিকে চুক্তি থেকে আংশিক সরে আসার তেহরানের ঘোষণার পর হোয়াইট হাউসের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ইরানের লোহা, স্টিল, অ্যালুমিনিয়াম ও কপার খাতে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে নির্বাহী আদেশ জারি করেছেন ট্রাম্প। এসব পণ্য ইরান সরকারের অ-পেট্রোলিয়াম খাত থেকে রপ্তানি রাজস্ব পাওয়ার বৃহত্তর উৎস। দেশটির মোট রপ্তানি আয়ের ১০ শতাংশ আসে এসব পণ্য থেকে। ট্রাম্প হুঁশিয়ার করে বলেন, ‘সার্বিকভাবে আচরণ না বদলানো পর্যন্ত তেহরানের বিরুদ্ধে আরও ব্যবস্থা নেয়া হতে পারে।’

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ অনুযায়ী, নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসা ইরানি পণ্যগুলো ক্রয়, অধিগ্রহণ, বিক্রি, পরিবহন কিংবা বিপণন নিষিদ্ধ। এসব খাতে ব্যবহৃত হয় এমন কোন গুরুত্বপূর্ণ পণ্য ও সেবা ইরানকে সরবরাহকারী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকেও যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসতে হবে। ইরানের সঙ্গে এসব ধাতব শিল্প খাতে লেনদেন সংক্রান্ত কাজগুলো শেষ করার জন্য (ব্যবসার সমাপ্তি) প্রতিষ্ঠানগুলোকে ৯০ দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের রাজস্ব বিভাগ। পাশাপাশি হুঁশিয়ার করে বলা হয়েছে, কেউ যদি ৮ মে’র পর থেকে ইরানের সঙ্গে এসব শিল্প পণ্য নিয়ে নতুন ব্যবসা শুরু করে তবে তাকে ব্যবসা সমাপ্তিমূলক কার্যক্রম হিসেবে বিবেচনা করা হবে না।

প্রসঙ্গত, জেসিপিওএ চুক্তি অনুযায়ী ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম চালিয়ে গেলেও পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার প্রতিশ্রুতি দেয় তারা। বিনিময়ে দেশটির ওপর আরোপিত আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল হয়। পূর্বসূরী ওবামা আমলে স্বাক্ষরিত এ চুক্তিকে ‘ক্ষয়িষ্ণু ও পচনশীল’ আখ্যা দিয়ে গত বছরের মে মাসে তা থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। নভেম্বরে তেহরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করা হয়।