ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার প্রস্ততি যুক্তরাজ্যের

image

হরমুজ প্রণালী থেকে ব্রিটিশ তেল ট্যাংকার আটকের জেরে ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা প্রস্ততি নিচ্ছে যুক্তরাজ্য। ২১ জুলাই রোববার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেরেমি হান্ট এ তথ্য জানিয়েছেন। এদিকে এক ফোনালাপে তেল ট্যাংকারটি ছেড়ে দিতে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভেদ জারিফেকে আহ্বান জানিয়েছেন হান্ট। এ সময় জারিফ তেল ট্যাংকার ছাড়িয়ে নেয়ার জন্য যুক্তরাজ্যকে আইনি প্রক্রিয়ায় অগ্রসর হওয়ার আহ্বান জানান। এর পরই তেল ট্যাংকার জব্দ করায় ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদকে আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাজ্য। জাতিসংঘে নিযুক্ত ব্রিটেনের স্থায়ী প্রতিনিধি ক্যারেন পিয়েস এ আহ্বান জানান।

১৯ জুলাই শুক্রবার আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইনের প্রতি সন্মান না দেখানোর অভিযোগে হরমুজ প্রণালী থেকে ব্রিটিশ পতাকাবাহী ট্যাংকার স্টেনা ইমপেরিওকে আটক করে ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। এ প্রণালী থেকে যুক্তরাজ্যের ইরানি ট্যাংকার জব্দের জেরে প্রায় দুই সপ্তাহ পর ব্রিটিশ এ ট্যাংকারটি আটক করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। স্টেনা ইমপেরিও জব্দের ঘটনাকে ইরানের ‘শত্রুতামূলক কর্মকা-’ হিসেবে অভিহিত করেছে যুক্তরাজ্য। পারস্য উপসাগরে দুর্ঘটনায় জড়ানোয় ওই ট্যাংকারটি আটক করা হয়েছে, তেহরানের এমন ভাষ্যও প্রত্যাখ্যান করেছে দেশটি। নিজেদের ট্যাংকার জব্দের ঘটনায় যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূতকে তলবও করেছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। এদিকে ২০ জুলাই শনিবার ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) উপসাগর থেকে ব্রিটিশ ট্যাংকারটি আটকের ঘটনার একটি ভিডিও অনলাইনে পোস্ট করা হয়েছে। এতে কয়েকটি ইরানি স্পিডবোটের পাশে স্টেনা ইমপেরিওকে চলতে দেখা যায়। ফুটেজে নৌযানটির নামও স্পষ্ট দৃষ্টিগোচর হয়। নৌযানটির উপরে থাকা একটি হেলিকপ্টার থেকে স্কি মাস্ক পরিহিত সৈন্যদের ওই ট্যাংকারের ডেক বরাবর বন্দুক ধরে রাখার দৃশ্যও ভিডিওতে ছিল। একই কৌশলে দুই সপ্তাহ আগে ব্রিটিশ রাজকীয় মেরিন বাহিনীর সদস্যরাও জিব্রাল্টার প্রণালী থেকে ইরানি সুপার ট্যাংকার গ্রেস ১-কে আটক করে। সিরিয়ার বানিয়াস শোধনাগারে তেল নিয়ে যাচ্ছে সন্দেহে ইরানি ওই ট্যাংকারটিকে আটক করার কথা জানায় জিব্রাল্টার কর্তৃপক্ষ। সিরীয় ওই শোধনাগারের ওপর ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। জিব্রাল্টারে আটক ট্যাংকার ছেড়ে না দিলে ‘পাল্টা ব্যবস্থা’ নেয়ার হুঁশিয়ারি দেয়া হয়েছিল ইরানের পক্ষ থেকে। এর মধ্যে একবার তাদের কয়েকটি নৌযান ব্রিটিশ একটি জাহাজকে হেনস্তা করেছিল বলেও লন্ডন অভিযোগ করে। বৈশ্বিক তেল বাণিজ্যের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জলসীমা হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালীতে এ ট্যাংকার আটকের ঘটনা পশ্চিমাদের সঙ্গে তেহরানের উত্তেজনা বৃদ্ধির নতুন নজির হিসেবেই দেখছেন পর্যবেক্ষকরা। গত তিন মাস ধরে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা এমনিতেই দেশ দুটিকে যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে দাঁড় করিয়ে রেখেছে।

শনিবার ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী পেনি মরডন্ট হরমুজ প্রণালী থেকে স্টেনা ইমরেপিও আটককে ‘শত্রুতামূলক কর্মকা-’ অ্যাখ্যা দেন। ইরানের বিপ্লবী গার্ডের মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রামেজান শরীফ বলেন, ট্যাংকার স্টেনা ইমপেরিওর পাহারায় একটি ব্রিটিশ যুদ্ধজাহাজও ছিল। বিপ্লবী রক্ষী বাহিনী ওই যুদ্ধজাহাজের ‘প্রতিরোধ ও হস্তক্ষেপ’ সত্ত্বেও ট্যাংকার জব্দে সক্ষম হয়েছে। যদিও অনলাইনে প্রকাশ করা ভিডিওতে কোন ব্রিটিশ যুদ্ধজাহাজ দেখা যায়নি বলে জানিয়েছে রয়টার্স। ইরানি বার্তা সংস্থা ফার্স জানিয়েছে, ইরানি একটি মাছধরার নৌকার সঙ্গে সংঘর্ষের পর শুক্রবার সৈন্যরা স্টেনা ইমপেরিওর নিয়ন্ত্রণ কেড়ে নেয়। সংঘর্ষেল আগে মাছ ধরার নৌকাটি ব্রিটিশ ট্যাংকারটিকে সরে যেতে বললেও তারা তাতে সায়দেননি। যুক্তরাজ্যের ওই নৌযানটিকে পরে ইরানি সমুদ্রবন্দর বন্দর আব্বাসে নিয়ে যাওয়া হয়। সংঘর্ষের ঘটনার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কার্গোবিহীন এ নৌযানটির ক্রুরাও সেখানেই অবস্থান করবেন বলে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় হরমোজগান প্রদেশের বন্দর ও সমুদ্র কর্তৃপক্ষের প্রধান আল্লামুরাদ আফিফিপুরের বরাত দিয়ে জানিয়েছে ফার্স। স্টেনা ইমপেরিওর ২৩ ক্রুর ১৮ জনই ভারতীয়। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের কাছে লেখা এক চিঠিতে যুক্তরাজ্য জানিয়েছে, তাদের নৌযানটিকে আটক করার সময় সেটি ওমানের জলসীমায় ছিল, এবং সব নিয়ম মেনেই প্রণালীটি পার হচ্ছিল। চিঠিতে স্টেনা ইমপেরিওর আটককে তেহরানের ‘অবৈধ হস্তক্ষেপ’ হিসেবেও অ্যাখ্যা দিয়েছে তারা। “এখনকার উত্তেজনা খুবই উদ্বেগজনক, আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে উত্তেজনা নিরসন। আমরা ইরানের সঙ্গে কোন ধরনের সংঘাত চাই না। কিন্তু আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি ট্রানজিট করিডর দিয়ে জাহাজের মাধ্যমে বৈধ বাণিজ্যের ক্ষেত্রে এ ধরনের হুমকি একেবারেই অগ্রহণযোগ্য ও উসকানিমূলক,” বলেছে তারা।