ইরানের বিরুদ্ধে ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অভিযোগ জাতিসংঘের

image

ইরানের বিরুদ্ধে দেশটির ভূগর্ভস্থ পরমাণু স্থাপনা ফোরদু’তে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি চালুর অভিযোগ করেছে জাতিসংঘ। ১১ নভেম্বর সোমবার প্রকাশিত জাতিসংঘের আওতাধীন আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ)-এর এক প্রতিবেদনে এমন অভিযোগ তোলা হয়। এ কর্মসূচি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ ছয় বিশ্বশক্তির (যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, রাশিয়া, চীন এবং জার্মানি) সঙ্গে স্বাক্ষরিত দেশটির পরমাণু চুক্তির সরাসরি লঙ্ঘন। এদিকে পরমাণু চুক্তি থেকে সরে আসতে ইরানের চতুর্থ দফা পদক্ষেপে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। একইদিন (সোমবার) ব্রাসেলসে ইইউয়ের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকের পর এর পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক প্রধান কর্মকর্তা ফ্রেডেরিকা মোঘেরিনি এ উদ্বেগ প্রকাশ করেন। আল জাজিরা, রয়টার্স।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যমটি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা আইএইএ বলছে, গত ৯ নভেম্বর থেকে ভূগর্ভস্থ পরমাণু স্থাপনা ফোরদু’তে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ অব্যাহত রেখেছে ইরান। ফলে দেশটির সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ বেড়েই চলছে। এর চার দিন আগে (৫ নভেম্বর) ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি দেশটির পরমাণু সমৃদ্ধকরণের কাজ পুনরায় শুরুর ঘোষণা দেন। ওই সময়ে তেহরানভিত্তিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, আইএইএ-এর প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতেই পরমাণু স্থাপনার সেন্ট্রিফিউজে ইউরেনিয়াম গ্যাস ঢোকানোর কাজ শুরু হয়েছে। এরই ধারবাহিকতায় সোমবার আইএইএ-এর অভিযোগের পর ইরানের এ সংক্রান্ত দাবির সত্যতা মিললো। ইরানের দিক থেকে বলা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র পরমাণু চুক্তি থেকে সরে যাওয়ায় তারাও এ নিয়ে চতুর্থ দফায় ওই সমঝোতা ভেঙ্গেছে। চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন না হলে ধাপে ধাপে ওই সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাবে তেহরান। এদিকে সংবাদ মাদ্যম রয়টার্স এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ইরানের এমন পদক্ষেপে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। সোমবার ইউরোপীয় এ জোটটির সদর দফতর বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে ইইউয়ের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকের পর এর পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান ফ্রেডেরিকা মোঘেরিনি এমন উদ্বেগের কথা জানান। এ সময় তিনি ইরানকে ২০১৫ সালের ওই চুক্তির যথাযথ বাস্তবায়নের আহ্বানও জানান। মোঘেরিনি আরও বলেন, ‘ইরান তার ফোরদু স্থাপনায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার যে পদক্ষেপ নিয়েছে তাতে মনে হচ্ছে, দেশটি পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যেতে চায়। যা গভীর উদ্বেগের বিষয়।’ তিনি বলেন, ইউরোপ এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা বা আইএইএ’র প্রতিবেদনের অপেক্ষা করছে। ওই প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরমাণু সমঝোতায় স্বাক্ষরকারী তিন ইউরোপীয় দেশ ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য ও জার্মানি এবং ইইউ তাদের প্রতিক্রিয়া জানাবে। এদিকে লুক্সেমবার্গের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন অ্যাসেল বোর্ন ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা নিষেধাজ্ঞার তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, ইরান সম্পর্কে আইএইএ’র প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার আগে এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করা ঠিক হবে না।