ইরানের সঙ্গে পরমাণু চুক্তির অংশীদারদের নতুন বোঝাপড়ার আভাস

image

ফ্রান্সে অুনষ্ঠিত জি ৭-এর ৪৫তম সম্মেলন চলাকালে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ জাভেদ জারিফের সংক্ষিপ্ত সফরকে ঘিরে নতুন করে গুঞ্জন শুরু হয়েছে। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর মধ্যস্থতায় এ কূটনৈতিক উদ্যোগ সফল হলে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে শান্তি ফিরে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফর জি-৭ সম্মেলনের অংশ ছিল না বলে জানিয়েছেন জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মার্কেল। রোববার (২৫ আগস্ট) বিয়ারিৎজ শহরের এ শীর্ষ সম্মেলনে আকস্মিকভাবে হাজির হন জারিফ।

এবারের জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনের সেরা চমক ছিল ইরান। আয়োজক দেশ ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁ ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ জাভেদ জারিফকে আমন্ত্রণ জানিয়ে পুরো বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। তবে জারিফ মূল সম্মেলনে অংশ নেননি। এমনকি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বা মার্কিন প্রতিনিধিদলের সঙ্গেও তার কোন সরাসরি যোগাযোগ হয়নি। কয়েক ঘণ্টার ফ্রান্স সফরে তিনি শুধু মাক্রোঁ, ফরাসি পররাষ্ট্র ও অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বলে জানা গেছে। তবে জারিফের এক টুইটবার্তার সঙ্গে একটি ছবিতে শুধুমাত্র এই তিনজনকে দেখা গেছে। একইসঙ্গে তিনি জার্মানি, যুক্তরাজ্য ও জাপানের কর্মকর্তাদের সঙ্গেও যোগাযোগের বিষয়টি উল্লেখ করেছেন। এদিকে বিশ্বের শিল্পোন্নত দেশগুলোর শীর্ষ সম্মেলন জি-৭ ইরানের হাতে কোন পরমাণু অস্ত্র দেখতে চায় না বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ। এ সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে (রোববার) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এমন মন্তব্য করে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ও শান্তি প্রতিষ্ঠার সঙ্গে এ জোটের সবকটি দেশের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট রয়েছে বলেও জানান তিনি।

ইরান ও বিশ্বের শক্তিধর দেশগুলোর মধ্যে ২০১৫ সালে সম্পাদিত পরমাণু চুক্তি বাঁচিয়ে রাখতে এবং পারস্য উপসাগর এলাকায় উত্তেজনা কমাতে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট যে কূটনৈতিক উদ্যোগ নিচ্ছেন, তারই আওতায় জারিফ ফ্রান্স সফর করলেন। তবে এ উদ্যোগের ইতাবাচক ফলাফল নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে। মাক্রোঁ প্রথমে সব অংশগ্রহণকারী দেশের পক্ষ থেকে এ ক্ষেত্রে অগ্রগতির ইঙ্গিত দেন। কিন্তু ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে কোনরকম বোঝাপড়ার সম্ভাবনা অস্বীকার করায় সে প্রত্যাশা ফিকে হয়েছে। জারিফ নিজে তার টুইটবার্তায় শুধু ইঙ্গিত করেছেন, ‘সামনের পথ কঠিন হলেও অবশ্যই চেষ্টা চালানো উচিত।’

ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের বিরুদ্ধে যে কড়া নীতি বলবৎ রেখেছে, সে ক্ষেত্রে কোন পরিবর্তন চোখে না পড়লেও জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মাক্রোঁর এ উদ্যোগ সম্পর্কে কোন নেতিবাচক মন্তব্য করেননি। তবে সাংবাদিকদের সামনে এ বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে অস্বীকার করেন তিনি। জারিফের সঙ্গে বৈঠকের পরেও সমবেত নেতা ও অতিথিদের ছবি তোলার সময় মাক্রোঁর প্রতি কোন বিরক্তি দেখাননি ট্রাম্প। এমনকি ইরানের সঙ্গে আলোচনার বিষয়েও তিনি কোন আপত্তি জানাননি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক উচ্চপদস্থ ফরাসি কূটনীতিক সংবাদ সংস্থা এএফপিকে জানিয়েছেন, মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমেই ফ্রান্সের পক্ষ থেকে এমন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ট্রাম্প বলেন, জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো অ্যাবেও ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা করছেন।

ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের মধ্যে ব্যাপক মতপার্থক্য রয়েছে। ট্রাম্প এর আগে তেহরানের প্রতি ‘মিশ্র সংকেত’ পাঠানোর জন্য ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টের সমালোচনা করেন। জি-৭ সম্মেলনে সব অংশগ্রহণকারী দেশ ইরানের হাতে পরমাণু অস্ত্রের বিরুদ্ধে এবং পারস্য উপসাগর অঞ্চলে স্থিতিশীলতার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। ফরাসি প্রেসিডেন্ট বলেন, ফ্রান্স, কানাডা, জার্মানি, ইতালি, জাপান, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের নেতারা শনিবার (২৪ আগস্ট) ইরান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন।

তারা প্রত্যেকেই ইরানের পরমাণু অস্ত্র অর্জনের বিরুদ্ধে একমত হয়েছেন। ম্যাক্রোঁ জানান, বৈঠকে আলোচনা হলেও তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনের বার্তা তেহরানকে পৌঁছে দেয়ার দায়িত্ব দেয়া হয়নি। তবে ওয়াশিংটনের সঙ্গে তেহরানের উত্তেজনা কমাতে তিনি ইরানের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রাখবেন। ম্যাক্রোঁ যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি অবস্থান নমনীয় করে বলেছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের চাপের ফলে ইরান সম্ভবত মূল পরমাণু চুক্তির বাইরেও বোঝাপড়ায় আসতে পারে। ফরাসি প্রেসিডেন্টের এমন মন্তব্যের ফলে ইরানের সঙ্গে নতুন বোঝাপড়ার সম্ভাবনা নিয়ে গুঞ্জন শুরু হয়েছে। তবে মূল পরমাণু চুক্তিতে পরিবর্তন বা নতুন একটি চুক্তির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তিগুলো দূর করার চেষ্টা করা হবে কিনাÑ তা এখনো স্পষ্ট নয়। এএফপি।