ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে রুশ সীমান্তে জীবাণু অস্ত্র গবেষণার অভিযোগ

image

মেজর জেনারেল ইগোর কিরিলভ ছবি: এপি

রাশিয়ার বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী সিরিজ সাইবার হামলা চালানোর অভিযোগ তুলেছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও নেদারল্যান্ডস। এর পরপরই ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে জীবাণু গবেষণাগার চালানোর অভিযোগ করেছে মস্কো। দেশটির প্রতিবেশী জর্জিয়াতে যুক্তরাষ্ট্র কেন এমন গবেষণাগার চালাচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন দেশটির শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক ও সামরিক নেতারা। তবে রাশিয়ার এমন অভিযোগ অস্বীকার করে মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ‘রাশিয়ার এমন অভিযোগ অবিশ্বাস্য। এপি।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বব্যাপী রাসায়নিক অস্ত্র পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ‘ওপিসিডব্লিউ’ ও নিজেদের পরমাণু সংস্থাকে লক্ষ্যবস্তু করে সাইবার হামলার পরিকল্পনার জন্য সাত রুশ নাগরিকের বিরুদ্ধে আভিযোগ আনে। এরই ধারবাহিকতায় নেদারল্যান্ডস মস্কোর দিকে অভিযোগের আঙ্গুল তুলে বলেছে, রাসায়নিক অস্ত্র নিষিদ্ধকরণ সংগঠন ‘ওপিসিডব্লিউ’ এ সাইবার হামলার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। আর এ হামলার পরিকল্পনার জন্য ৪ জন রুশ কর্মকর্তাকে বহিষ্কার করেছে নেদারল্যান্ডস। এর পাশাপাশি যুক্তরাজ্য সরকার রুশ সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা জিআরইউ’র বিরুদ্ধে বড় ধরনের চারটি সাইবার হামলা চালানোর অভিযোগ এনেছে। মস্কোর বিরুদ্ধে পশ্চিমাদের এমন ঐক্যবদ্ধ অবস্থানের প্রেক্ষিতে সম্প্রতি রুশ রাজনৈতিক ও সামরিক নেতারা দাবি করেন, জর্জিয়ার সংশ্লিষ্ট গবেষণাগারে সাবেক মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রামসফেল্ডের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান গবেষণা চালাতে গিয়ে ৭০ জনের মৃত্যু ঘটিয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (৪ অক্টোবর) রাশিয়ার পারমাণবিক, জীবাণু ও রাসায়নিক অস্ত্র প্রতিরোধী বাহিনীর প্রধান মেজর জেনারেল ইগোর কিরিলভ রুশ বার্তা সংস্থা তাসকে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র প্রতিবেশী জর্জিয়ার ‘রিচার্ড লুগার পাবলিক হেলথ রিসার্চ সেন্টারে’ গোপন গবেষণা চালাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র সেখানে এমন কিছু যুদ্ধাস্ত্র তৈরি করেছে যেগুলো দিয়ে রাসায়নিক ও জীবাণু হামলা করা সম্ভব। এসব অস্ত্র উৎপাদনের খরচ খুব কম এবং ব্যবহারের জন্য সরাসরি শত্রুর মুখোমুখি হতে হয় না। যুক্তরাষ্ট্র এমন ক্যাপসুল বানাতে চায় যার ভেতর রেডিওঅ্যাকটিভ পদার্থ বা ছোঁয়াচে রোগের প্যাথোজেন ভরে ছড়িয়ে দেয়া যায়। তার দাবি, ‘যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি নতুন এসব অস্ত্র কনভেনশনাল অস্ত্রের মধ্যে পড়ে না। স্বাভাবিকভাবেই এগুলো জীবাণু অস্ত্রের বিষয়ে থাকা আন্তর্জাতিক রীতি বিরুদ্ধ। আমরা এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও জর্জিয়ার কাছ থেকে স্পষ্ট উত্তর চাই।’ কিরিলভ তাসকে আরও বলেছেন, ওই গবেষণাগারের একটি পরীক্ষায় যাদের মার্কিন প্রতিষ্ঠানের তৈরি সোভাল্ডি নামক ওষুধ দেয়া হয়েছিল তাদের ৭৩ জন মারা গেছে। ওষুধ তৈরির সঙ্গে জড়িত প্রতিষ্ঠানটির নাম ‘জিলিড সায়েন্স।’ সাবেক মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ডোনাল্ড রামসফেল্ড ওই প্রতিষ্ঠানের একজন শেয়ার হোল্ডার। সোভাল্ডির মতো ওষুধ রাশিয়াও তৈরি করেছে। কিন্তু তার পরীক্ষায় একজনও মারা যায়নি। যুক্তরাষ্ট্র ওষুধ পরীক্ষার নামে গোপন অস্ত্রের পরীক্ষা চালাচ্ছে বলেই এত মানুষ মারা গেছে। প্রাদুর্ভাবের সময় খুব ছোঁয়াচে রোগের ক্লিনিকেও এতো মানুষ মারা যায় না। এর পাশাপাশি রুশ সংসদ দুমার নিম্ন কক্ষের প্রতিরক্ষা বিষয়ক কমিটির প্রধান ভøাদিমির শামানোভ বলেছেন, জর্জিয়ায় মার্কিন জীবাণু অস্ত্রের পরীক্ষার বিষয়ে প্রয়োজনীয় সব রাজনৈতিক ও সামরিক পদক্ষেপ নেবে রাশিয়া। তার ভাষ্য, ‘নিরাপত্তা লঙ্ঘিত হতে পারে এমন কিছু দক্ষিণ সীমান্তে হতে থাকবে আর আমরা চোখ বুজে থাকব তা হতে পারে না।’

এদিকে জার্মানভিত্তিক রেডিও চ্যানেল ডয়েচে ভেলে জানিয়েছে, রাশিয়ার বিরুদ্ধে সিরিয়ায় বাশার বাহিনীকে সহায়তা দেয়া, ক্রামিয়া দখল, হ্যাকিংয়ে যুক্ত থাকাসহ বিভিন্ন অভিযোগের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র রুশ অভিযোগের এ বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি অন্যদিকে সরাতে চাওয়ার অপচেষ্টা হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। তবে রাশিয়ার এ অভিযোগ অস্বীকার করে মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এরিক পাহোন বলেছেন, ‘রাশিয়ার এমন অভিযোগ অবিশ্বাস্য। বিভিন্ন ঘটনায় অনাকাক্সিক্ষত আচরণ করা রাশিয়া দৃষ্টি অন্যদিকে সরিয়ে নেয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ এনেছে।’ এ সময় তিনি সিরিয়া, ক্রামিয়া ও বিশ্বব্যাপী হ্যাকিংয়ের ঘটনায় মস্কোর জড়িত থাকার অভিযোগের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তার দাবি, লুগার সেন্টার একটি স্বাস্থ্য কেন্দ্র মাত্র। আর তার মালিকানাও যুক্তরাষ্ট্রের নয়।