করাচিতে আবাসিক এলাকায় বিমান বিধ্বস্ত: বহু হতাহতের আশঙ্কা

image

পাকিস্তানের করাচিতে জিন্নাহ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অদূরে আবাসিক এলাকায় যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়েছে। আজ (২২ মে) বিকেলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে বহু হতাহতের আশঙ্কা করা হচ্ছে। উড়োজাহাজটিতে ১০০ জনের মতো আরোহী ছিলেন। খবর ডন অনলাইনের।

ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশটির রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থার (পিআইএ) এ–৩২০ এয়ারবাসটি করাচিতে জিন্নাহ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অদূরে বিধ্বস্ত হয়। পিআইএর মুখপাত্র আবদুল্লাহ হাফিজ উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, যাত্রীবাহী উড়োজাহাজটিতে ৯০ জন যাত্রী ও ৮ জন ক্রু ছিলেন। যাত্রীবাহী উড়োজাহাজটি লাহোর থেকে করাচিতে আসছিল। বিমানবন্দরের অদূরে আবাসিক এলাকায় উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত হয়েছে।

দুর্ঘটনার পরপরই সেনাবাহিনীর উদ্ধারকর্মীরা সেখানে পৌঁছে কাজ শুরু করেছে বলে পাকিস্তান আইএসপিআরের তরফ থেকে জানানো হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আসা ভিডিও ও ছবিতে দেখা গেছে, ওই আবাসিক এলাকার ওপর দিয়ে কালো ধোঁয়া উড়ছে। ঘটনাস্থলে ছুটে যাচ্ছে অ্যাম্বুলেন্স। সেখানে কয়েকটি বাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফ্লাইট-এ৩২০ অবতরণ করার সময় মডেল কলোনি আবাসিক এলাকার কাছে বিধ্বস্ত হয়। ছবিতে ওই কলোনিতে ধ্বংস্তুপ দেখতে পাওয়া গেছে।

বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেছেন, উড়োজাহাজটি অবতরণের ঠিক আগে দিয়ে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে চাকা খুলতে পারছিল না। পাইলট ট্রাফ্রিক কন্ট্রোল রুমে যান্ত্রিক ওই ত্রুটির কথা জানিয়েছিলেন বলে জানান পিআইএ’র প্রধান নির্বাহী এয়ার ভাইস মার্শাল এরশাদ মালিক।

তবে এ ত্রুটির কারণ কি এবং কেন বিমানটি বিধ্বস্ত হল তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পাকিস্তানে বাণিজ্যিক ফ্লাইট শুরু হওয়ার কয়েকদিনের মধ্যেই এ দুর্ঘটনা ঘটল। এর আগেও পাকিস্তানে এমন অনেক বিমান দুর্ঘটনা ঘটেছে। ২০১০ সালে ইসলামাবাদে প্রাইভেট এয়ারলাইন এয়ারব্লু দুর্ঘটনায় বিমানের ১৫২ যাত্রীর সবাই নিহত হয়।

পাকিস্তানের ইতিহাসে সেটি ছিল সবচেয়ে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা। এরপর ২০১২ সালে রাওয়ালপিণ্ডিতে খারাপ আবহাওয়ার মধ্যে বোয়িং ৭৩৭-২০০ দুর্ঘটনায় উড়োজাহাজটির ১২১ জন যাত্রী ও ৬ ক্রুর সবাই নিহত হয়।

২০১৬ সালে পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্সের উড়োজাহাজ ইসলামাবাদে যাওয়ার পথে তাতে আগুন ধরে বিস্ফোরণ ঘটে নিহত হয় ৪৭ জন।