করোনা আক্রমণ করছে কিন্তু ধরা খাচ্ছেনা!

image

করোনাভাইরাস শনাক্তকরণে চিকিৎসকদের তৎপরতা-রয়টার্স

চীনে নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত অনেককে পরীক্ষা করেও সংক্রমণের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন দেশটির চিকিৎসকরা। চীনের একাডেমি অব মেডিকেল সায়েন্সের প্রধান ওয়াং চেন ৬ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার একথা জানান। তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি কিছু করোনা আক্রান্ত রোগীকে পরীক্ষা করে নেগেটিভ ফলাফল পাওয়া গেছে’। বিবিসি।

সংবাদ মাধ্যমটির এক প্রতিদেনে বলা হয়েছে, দেশটির এ ঊর্ধ্বতন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অসুস্থদের যারা নতুন ধরনের করোনাভাইরাসে সত্যিই আক্রান্ত, টেস্ট করে তাদের মধ্যে ৩০ থেকে ৫০ শতাংশের পজিটিভ পাওয়া যাচ্ছে। এখনও অনেকের লালা পরীক্ষা করে ফলস নেগেটিভ রেজাল্ট পাওয়া যাচ্ছে। যার মানে সত্যিকার অর্থেই যতজন এন করোনাভাইরাস আক্রান্ত, তার অর্ধেকের ক্ষেত্রে পরীক্ষায় ধরা পড়েনি। যে প্রদেশের উহান শহর থেকে নতুন ধরনের এই করোনাভাইরাস প্রথমে ছড়িয়েছে, সেই হুবাই এখন করোনাভাইরাস শনাক্তে সিটি স্ক্যান শুরু করেছে। কারণ, এই পরীক্ষায় দ্রুত রোগ শনাক্ত সম্ভব।

এদিকে, করোনায় আক্রান্ত হয়ে চীনে মৃতের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। ৮ ফেব্রুয়ারি শনিবার দেশটির জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়ে মোট ৭২২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া নতুন করে ৩ হাজার ৩৯৯ জন আক্রান্ত হওয়ায় দেশটিতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা পৌঁছেছে ৩৪ হাজার ৫৪৬ জনে। চীনের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শনিবার পর্যন্ত নতুন করে ৮৬ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে, যাদের ৮১ জনেই হুবেই প্রদেশের। এই পর্যন্ত মৃতদের মধ্যে হংকং ও ফিলিপিন্সের দুজন বাদে বাকি সব চীনা নাগরিক। চীন বাদে ২৭টি দেশের ৩৩২ জনের মধ্যে এই ভাইরাস সংক্রমণ ধরা পড়েছে।

ডব্লিউএইচও মহাপরিচালক টেড্রোস অ্যাডহানম গেব্রিয়াসাস। বহু দেশেই করোনা ভাইরাস শনাক্তের পদ্ধতি না থাকাই বড় দুশ্চিন্তার কারণ বলে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ভাইরাসে আক্রান্তদের শনাক্ত, পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং তাদের সেবা নিশ্চিতে দুর্বল স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি মানুষ থেকে মানুষে ছড়ানো ঠেকাতে সহায়তা দেয়া প্রয়োজন।’

চীনে মার্কিন নাগরিকের মৃত্যু : করোনা আক্রান্ত এক মার্কিন নাগরিক চীনের উহানে মারা গেছেন বলে নিশ্চিত করেছেন দেশটির কর্মকর্তারা। জিনইনতান নামক ৬০ বছর বয়সী ওই মার্কিনি সেখানকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন বলে জানিয়েছে বেইজিংয়ের মার্কিন দূতাবাসের এক মুখপাত্র। দেশটিতে কর্তব্যরত ওই মুখপাত্র জানান, মৃতের পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা জানাচ্ছি আমরা। ওই পরিবারের গোপনীয়তার কথা বিবেচনায় নিয়ে আমরা এর চেয়ে বেশি কিছু বলছি না। এদিকে, করোনাভাইরাসের লক্ষণ নিয়ে উহানের হাসপাতালে ভর্তি হওয়া এক জাপানি নাগরিকের মৃত্যুর বিষয়টিও নিশ্চিত করেছে জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।