করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে প্রয়োজন ৬৭ কোটি ডলার

image

চীনের হুয়ান থেকে উদ্ভূত নভেল করোনাভাইরাসের বিশ্বজুড়ে বিস্তার ঠেকাতে জরুরি ভিত্তিতে ৬৭ কোটি ৫০ লাখ (৬৭৫ মিলিয়ন বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় পাঁচ হাজার সাতশ’ কোটি টাকা) ডলার প্রয়োজন বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) হু। প্রাণঘাতী এ ভাইরাস যাতে আর ছড়াতে না পারে এবং দুর্বল স্বাস্থ্যসেবা রয়েছে, এমন দেশগুলোকে এ ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে প্রস্তুত করতে ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত সময়ে এ অর্থ ব্যয়ের পরিকল্পনা করেছে সংস্থাটি। রয়টার্স।

এদিকে, দেশটিতে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৬৩ জনে। আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়ে গেছে ২৮ হাজারেরও বেশি। দেশটির জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশনের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, বুধবারই (৫ ফেব্রুয়ারি) দেশটিতে আরও ৭৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। অধিকাংশ মৃত্যু ও নতুন সংক্রমণের ঘটনাই ঘটেছে হুবেই প্রদেশে, যে প্রদেশের উহান শহরকে এ ভাইরাসের ‘উৎসস্থল’ বলা হচ্ছে। ভাইরাসটির ছড়িয়ে পড়া রোধ করতে চীনের বেশ কয়েকটি শহর অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে এবং বিশ্বজুড়ে কয়েক হাজার লোককে কোয়ারেন্টিন করে রাখা হয়েছে।

করোনা মোকাবিলায় জরুরি তহবিল প্রসঙ্গে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক টেড্রোস অ্যাডহানম গেব্রিয়াসাস বলেন, সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার বিষয় হলো- এমন অনেক দেশ আছে যাদের এই ভাইরাসে সংক্রমিতদের শনাক্ত করা, এমনকি কোথা থেকে এর উদ্ভব হতে পারে, তা শনাক্ত করার মতো পদ্ধতি নেই। আক্রান্তদের শনাক্ত করা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং তাদের সেবা নিশ্চিতে দুর্বল স্বাস্থ্য ব্যবস্থাগুলোকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি মানুষ থেকে মানুষে ছড়ানো ঠেকাতে এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষায় সহায়তা দেয়া প্রয়োজন।

দুর্বল স্বাস্থ্যসেবার এসব দেশ যাতে করোনাভাইরাস ঠেকানোর মতো প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে পারে সেজন্য প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার বিষয়গুলো নিশ্চিত করা হবে স্ট্র্যাটেজিক প্রিপেয়ার্ডনেস অ্যান্ড রেসপন্স প্ল্যান- এসপিআরপির আওতায়। আর এটি করতে গেলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ আন্তর্জাতিক সেবা সংস্থাগুলোর বৈশ্বিক সহায়তার প্রয়োজন হবে।

ঝুঁকির মুখে থাকা দেশগুলোতে মানুষ থেকে মানুষে এই ভাইরাসের বিস্তার কমিয়ে আনা; প্রাথমিক পর্যায়ে আক্রান্তদের শনাক্ত, অন্যদের থেকে আলাদা করা এবং চিকিৎসার ব্যবস্থা করা; গুরুতর ঝুঁকি এবং তথ্য সংগ্রহ, সামাজিক এবং অর্থনৈতিক প্রভাব কমিয়ে আনা, প্রাণীদের মধ্যে থেকে ভাইরাসটির বিস্তার কমানো এবং অজানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহে এই অর্থ ব্যয় করার পরিকল্পনা রয়েছে।

এসব কাজ করতে মূলত তিনটি ক্ষেত্রে জোর দেয়া হবে। এগুলো হলো- দ্রুত আন্তর্জাতিক সমন্বয় এবং কার্যক্রম পরিচালনায় সহায়তা প্রতিষ্ঠা করা, দেশভিত্তিক প্রস্তুতি ও কার্যক্রম পরিচালনা এবং গবেষণা ও উদ্ভাবন ত্বরান্বিত করা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হেলথ ইমারজেন্সিস প্রোগ্রামের প্রধান মাইক রায়ান বলেন, (ভাইরাসের) প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়ার আগে প্রস্তুতিমূলক পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করে কার্যকর সাড়ার বিষয়টি। তাই করোনাভাইরাস আমাদের দোরগোড়ায় আসার আগেই ঝুঁকির মুখে থাকা দেশগুলোর সুরক্ষা নিশ্চিত করার মতো সহায়তা দিতে চাই আমরা।

তৈরি হচ্ছে করোনা ভাইরাসের প্রতিষেধক

চলতি বছরের মাঝামাঝি করোনা ভাইরাসের প্রতিষেধক তৈরির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে ডব্লিওএইচও । বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) এ তথ্য জানায় আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো। চীনা এক টেলিভিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়, চীনের ঝেজিয়াং ইউনিভার্সিটি এ ভাইরাসের বিরুদ্ধে কার্যকর একটি ওষুধ আবিষ্কার করেছে। অন্যদিকে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম স্কাই নিউজ দাবি করে, এ ভাইরাসের প্রতিষেধক আবিষ্কারে অনেকদূর এগিয়েছেন গবেষকরা। ডব্লিওএইচও’র মুখপাত্র তারিক জাসারেভিচ বলেন, ২০১৯ সালের করোনা ভাইরাসের কোনো কার্যকর প্রতিষেধক এখনো আবিষ্কার হয়নি। র?্যান্ডমাইজড কন্ট্রোলড ট্রায়ালের মাধ্যমে প্রতিষেধকের কার্যক্ষমতা ও নিরাপত্তা পরীক্ষা করার পরামর্শ দিচ্ছি আমরা।

২০২০ সালের জুনের মধ্যে এ ভাইরাসের প্রতিষেধক আসার সম্ভাবনা রয়েছে। সাধারণত একটি প্রতিষেধক তৈরি ও সেটির কার্যকারিতা পরীক্ষার জন্য অনেক বছর সময় লাগে। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে কাজের গতি বাড়ায় বিজ্ঞানীরা আশা করছেন, এ বছরের জুনে মানুষের ওপর নতুন করোনা ভাইরাসের প্রতিষেধকের কার্যকারিতা পরীক্ষা করা যাবে। এদিকে, মার্কিন ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান জিলিড জানায়, নতুন করোনা ভাইরাসের একটি ওষুধ আক্রান্তদের ওপর পরীক্ষা করছে তারা। ‘রেমদেসিভির’ নামে ওই ওষুধ এখনো পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে। সব মিলিয়ে চলতি বছরের জুন মাসের মধ্যে নতুন করোনা ভাইরাসের কার্যকর প্রতিষেধক ও ওষুধ আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

এ মুহূর্তে শুধু চীনই নয়, পুরো বিশ্বই করোনাভাইরাসের হুমকিতে রয়েছে বলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এসপিআরপিতে বলা হয়েছে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চীনসহ ২৫টি দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের খবর মিলিছে। এর মধ্যে আক্রান্তদের ৯৯ ভাগই চীনে। আর অন্যান্য দেশে এ পর্যন্ত ১৯১ জনের করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার তথ্য দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।